IPL 2026 : বেঙ্গালুরু পৌঁছলেন বিরাট, চোটের কোপে ৪ দল!
২৮ তারিখ প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি আরসিবি ও হায়দ্রাবাদ। এর আগের বছর আরসিবি চ্য়াম্পিয়ন হওয়াতে তারাই প্রথম ম্য়াচ খেলবে। এমনকি চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও ক্লিনচিট পাওয়ায় সেই মাঠেই খেলবে আরসিবি। ২৯ মার্চ অর্থাৎ দ্বিতীয় দিন কলকাতার প্রথম ম্যাচ মুম্বইয়ে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে। ঘরের মাঠ ইডেন গার্ডেন্সে নাইটদের প্রথম ম্যাচ ২ এপ্রিল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে।

কলকাতা : আইপিএল শুরু হতে বাকি আর দিন দশেক। ইতিমধ্যেই ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি শুরু করে দিয়েছে চূড়ান্ত মুহূর্তের অনুশীলন। একে একে যোগ দিচ্ছেন দেশি-বিদেশি ক্রিকেটাররা। গতবারের বিজয়ী আরসিবিও তৈরি নিজেদের খেলোয়াড়দের নিয়ে প্রস্তুতি সেরে ফেলতে। আজ সকালেই বেঙ্গালুরু পৌঁছে গিয়েছেন বিরাট কোহলি। ১৮ বছরের অপেক্ষা শেষে গতবছর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আরসিবি। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম সিজনেই আইপিএল ট্রফি দিয়েছেন রজত পাতিদার। ২০২৬ সালেও আরসিবির দল যথেষ্ট শক্তিশালী। কিন্তু আইপিএল শুরুর আগে বেশ কিছু দল চোট-আঘাত সমস্যায় জর্জরিত। যার মধ্যে রয়েছেন কোহলিরাও।
আইপিএলের নিলামের কয়েকদিন পরেই বিতর্কের জন্য কলকাতা মূল স্কোয়াড থেকে সরিয়ে দেয় বাংলাদেশী পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে। সেই নিয়ে বিতর্কের জন্য সদ্য সমাপ্ত হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেনি বাংলাদেশ। তাদের বদলে সুযোগ পেয়েছিল স্কটল্যান্ড। মুস্তাফিজুর ছাড়াও নাইট দলে ছিলেন হর্ষিত রানা, মাহিশা পাথিরানার মতো তারকারা। কিন্তু চোটের জন্য দুজনেই দল থেকে ছিটকে গিয়েছেন। ১৮ কোটি টাকায় পাথিরানাকে কিনেছিল কেকেআর। কিন্তু পাথিরানা না থাকায় নাইটদের বোলিং অ্য়াটাক একটু হলেও সমস্যার সম্মুখীন হবে, মত বিশেষজ্ঞদের। এঁরা ছাড়া নাইটদের বোলিং বিভাগে রয়েছেন বৈভব অরোরা, কার্তিক ত্যাগীর মতো খেলোয়াড়রা। সদ্যই দলে যোগ দিয়েছেন জিম্বাবোয়ের তারকা পেসার ব্লেসিং মুরাজাবানি। কিন্তু হর্ষিতের মতো টি-টোয়েন্টি তারকার দলে না থাকা নিঃসন্দেহে ব্যাকফুটে ফেলবে নাইটদের। চোটের কারণে আইপিএলের প্রথম দু-তিনটি ম্যাচে খেলতে পারবেন না সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। অ্য়াসেজে পাওয়া চোটের পর থেকেই কামিন্স খেলছেন না। বিশ্বকাপেও দেখা যায়নি তাঁকে। এবার একই কোপের মুখে তাঁর দলও। কামিন্স ছাড়াও দলে রয়েছেন জয়দেব উনাদকট, জিশান আনসারি ও ঈশান মালিঙ্গা। তবে কামিন্স না থাকায় শুরুর বেশ কয়েকটি ম্যাচে সমস্যার সম্মুখীন হবে ড্যানিয়েল ভেট্টোরির ছেলেরা। চোটের কারণেই দলে নেই জোশ হ্যাজেলউডও। যদিও তাঁর বদলি হিসেবে আরসিবি কিনেছে জেকব ডাফিকে। তাই হ্যাজেলউড না থাকলেও খুব একটা ক্ষতি হবে না আরসিবির। কারণ দলে রয়েছেন নুয়ান তুষারা, ভুবনেশ্বর কুমার, যশ দয়ালের মতো তারকারা। তাই প্রথম দুই ম্যাচে আরসিবির চোটে জর্জরিত হওয়া নিয়ে স্বল্প ভুগতে পারে আরসিবি। শোনা যাচ্ছে সানরাইজার্সের অধিনায়ক হতে পারেন ঈশান কিষান। সহ-অধিনায়ক হওয়ার কথা অভিষেক শর্মার। কিন্তু যেহেতু হায়দ্রাবাদের বোলিংয়ে শক্তির অভাব, তাই প্রথমদিকের ম্যাচগুলিতে ভুগতে হতে পারে হায়দ্রাবাদকে। লখনৌ সুপারজায়ান্টের শ্রীলঙ্কান স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাও চোটের কবলে পড়েছেন। সেই ম্যাচেই হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে বাকি ম্যাচগুলি খেলতে পারেননি তিনি। লখনৌয়ের প্রথমদিকের ম্যাচগুলিতে না খেলতে পারলেও, আশা করা যাচ্ছে বাকি ম্যাচগুলিতে পাওয়া যাবে তাঁকে।
২৮ তারিখ প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি আরসিবি ও হায়দ্রাবাদ। এর আগের বছর আরসিবি চ্য়াম্পিয়ন হওয়াতে তারাই প্রথম ম্য়াচ খেলবে। এমনকি চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও ক্লিনচিট পাওয়ায় সেই মাঠেই খেলবে আরসিবি। ২৯ মার্চ অর্থাৎ দ্বিতীয় দিন কলকাতার প্রথম ম্যাচ মুম্বইয়ে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে। ঘরের মাঠ ইডেন গার্ডেন্সে নাইটদের প্রথম ম্যাচ ২ এপ্রিল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে। এছাড়াও কেকেআর খেলবে পঞ্জাব (৬ এপ্রিল, কলকাতা) ও লখনৌয়ের বিরুদ্ধে (৯ এপ্রিল, কলকাতা)। যে সূচি ঘোষণা করা হয়েছে, সেই সূচিতে প্রতি দলই ৪টি করে ম্যাচ খেলবে। কলকাতার ৩টি ম্যাচ ঘরের মাঠে। অন্যদিকে, হায়দ্রাবাদ ছাড়াও রাজস্থান, চেন্নাই, মুম্বইয়ের সঙ্গে খেলবেন কোহলির আরসিবি। ধোনির সিএসকে দুটি ও রাজস্থান রয়্যালস তিনটি ম্যাচ খেলবে ঘরের মাঠে। চার দিন রয়েছে দিনে দুটি করে ম্যাচ বা ‘ডাবল হেডার’। ৪ এপ্রিল প্রথম ডাবল হেডারে মুখোমুখি হবে দিল্লি ও মুম্বই। প্রথম ম্যাচ শুরু বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে। দ্বিতীয় ম্যাচ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে। আর অন্যদিন ম্যাচ হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে।
