‘মহাভারত’ তৈরি করতে কেন ভয় পাচ্ছেন আমির খান?

আমির মনে করেন, মহাভারতের মতো একটি বিষয় নিয়ে কাজ করতে গেলে বিন্দুমাত্র ভুলের অবকাশ রাখা চলবে না। তাঁর কথায়, "আমি প্রায়ই বলি, আপনি মহাভারতকে হতাশ করতে পারেন, কিন্তু মহাভারত আপনাকে কখনো হতাশ করবে না। আপনি যদি খারাপ কাজ করেন, তবেই মহাকাব্যটির অমর্যাদা হবে।

মহাভারত তৈরি করতে কেন ভয় পাচ্ছেন আমির খান?

|

Jan 21, 2026 | 7:54 PM

দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বড় পর্দায় মহাকাব্য ‘মহাভারত’ ফুটিয়ে তোলা। কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণের পথে পা বাড়ানোর আগে চরম সতর্ক বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান। তাঁর কাছে এই প্রকল্প কেবল একটি বাণিজ্যিক সিনেমা নয়, বরং এক বিশাল সাংস্কৃতিক দায়িত্ব। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই মহাকাব্য নিয়ে নিজের মনের সুপ্ত ইচ্ছা এবং আশঙ্কার কথা ভাগ করে নিলেন ৬০ বছর বয়সী এই অভিনেতা।

সিএনএন-নিউজ ১৮-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আমির বলেন, “মহাভারত নির্মাণ করা আমার স্বপ্ন। দেখা যাক কোনোদিন তা বাস্তবে রূপ পায় কি না। আমি সত্যিই সুযোগটা পেতে চাই, কিন্তু এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক বিশাল দায়বদ্ধতা। ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে এই কাহিনী ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। এমন কোনো ভারতীয় নেই যিনি ভগবদ্গীতা পড়েননি বা নিদেনপক্ষে ঠাকুরমার মুখে এই গল্প শোনেননি।”

আমির মনে করেন, মহাভারতের মতো একটি বিষয় নিয়ে কাজ করতে গেলে বিন্দুমাত্র ভুলের অবকাশ রাখা চলবে না। তাঁর কথায়, “আমি প্রায়ই বলি, আপনি মহাভারতকে হতাশ করতে পারেন, কিন্তু মহাভারত আপনাকে কখনো হতাশ করবে না। আপনি যদি খারাপ কাজ করেন, তবেই মহাকাব্যটির অমর্যাদা হবে। আমি নিশ্চিত করতে চাই যে যখনই আমি এই ছবি বানাব, তা যেন এমন হয় যাতে প্রত্যেক ভারতীয় গর্ববোধ করেন।”

মহাভারতের গভীরতাকে বিশ্ব চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপটে বিচার করেছেন আমির। ‘লর্ড অফ দ্য রিংস’ বা ‘অবতার’ মতো হলিউড ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বিশ্ববাসী অনেক বড় বড় বিনোদনমূলক সিনেমা দেখেছে। কিন্তু মহাভারত হলো সব গল্পের মা। যদি এটি সঠিক ভাবে তৈরি করা যায়, তবে তা বিশ্ব দরবারে ভারতীয়দের গর্বের কারণ হবে। আমি সময় নিচ্ছি কারণ আমি চাইছি সবটা যেন নিখুঁত হয়।”

বর্তমানে রাজকুমার হিরানির সাথে দাদাসাহেব ফালকের বায়োপিক নিয়ে ব্যস্ত আমির আগেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ‘মহাভারত’ হতে পারে তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনের শেষ কাজ। ২০২৫ সালের এক আড্ডায় তিনি বলেছিলেন, “হয়তো এই কাজটি করার পর আমার মনে হবে যে আর কিছুই করার বাকি নেই।”

কর্তব্য, নীতি এবং সংগ্রামের এই কালজয়ী মহাকাব্যকে সেলুলয়েডে বন্দি করতে আমির যে অত্যন্ত যত্নবান এবং স্পর্শকাতর, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট। এখন দেখার, রুপোলি পর্দায় কবে প্রাণ পায় আমিরের এই স্বপ্নের ‘সাংস্কৃতিক মিশন’।