Aamir Khan: টাইগার নয়, বিষ্ণোইয়ের টার্গেট আমির খান! পুলিশের হাতে কোন তথ্য?
Tiger Shroff Firing: শনিবার রাতে ইন্দোর থেকে ২২ বছর বয়সি এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে মুম্বই পুলিশ। পুলিশ সন্দেহ করছে, শুটারদের অস্ত্র যোগান বা লজিস্টিক সহায়তায় জড়িয়ে ছিল এই যুবক। সব মিলিয়ে টাইগার শ্রফ গুলিবর্ষণ কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১ জন। বিষ্ণোই গ্যাংয়ের জাল কতটা দূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখতে জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছেন অপরাধ দমন শাখার আধিকারিকরা।

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে সাম্প্রতিক গুলিবর্ষণের ঘটনায় প্রতিদিনই সামনে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। মুম্বই পুলিশের অপরাধ দমন শাখার (Crime Branch) দীর্ঘ তদন্তে এবার উঠে এল আরও এক চাঞ্চল্য়কর তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, শুটারদের প্রাথমিক এবং মূল লক্ষ্য টাইগার শ্রফ ছিলেনই না; বরং তাঁদের নিশানায় ছিলেন খোদ ‘পারফেকশনিস্ট’ আমির খান!
মুম্বই পুলিশের সূত্রে জানা গিয়েছে, কেবল আমির বা টাইগারই নন, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং বলিউডের বেশ কয়েকজন প্রথম সারির তারকাকে একযোগে নিশানা করার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছিল। অমিতাভ বচ্চন, আমির খান, অক্ষয় কুমার এবং সলমন খানের বাড়ির আশপাশে একাধিকবার রেকি ও নজরদারি চালানো হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা বদলে আমিরের পরিবর্তে টাইগারকে নিশানা করা হয়।
কেন আমিরের ওপর ক্ষুব্ধ বিষ্ণোই গ্যাং?
তদন্তকারীদের দাবি, আমির খানের তৃতীয় বিয়ে এবং গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই মূলত ক্ষেপে ওঠে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। গ্যাংটির সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে এই নিয়ে প্রকাশ্যে হুমকিও জারি করা হয়েছিল। তাঁদের দাবি ছিল, আমিরের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা সমাজে ‘লভ জিহাদ’-এর প্রচার করছেন, যা তাঁদের সনাতন সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের পরিপন্থী। বিষ্ণোই গ্যাং হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে এই ধরনের কাজ তারা কোনওভাবেই বরদাস্ত করবে না এবং দ্রুত এর প্রতিক্রিয়া জানাবে। উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসেই আমিরের নামে প্রথম এমন বেনামি হুমকি আসে।
আমিরের বদলে টাইগার কেন?
যদি আমিরই মূল টার্গেট ছিলেন, তবে কেন হঠাৎ ছক বদলে আক্রমণ করা হলো টাইগার শ্রফকে? পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে এই তথ্যও। সূত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, বিষ্ণোই গ্যাংয়ের শুটাররা প্রায় এক মাস ধরে মুম্বইয়ে ডেরা বেঁধে আমিরের বাংলোর চারপাশে নজরদারি বা রেকি চালায়। কিন্তু আমির খান জনসমক্ষে খুব একটা আসেন না। শুটিং বা নির্দিষ্ট কাজ ছাড়া তিনি সপ্তাহের পর সপ্তাহ গৃহবন্দি থাকেন। ফলে কড়া নিরাপত্তার বলয় ভেদ করে তাঁর নাগাল পাওয়া শুটারদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অন্যদিকে, টাইগার শ্রফ নিয়মিত জুহুর মাঠে ফুটবল খেলতে আসতেন এবং সেখানে তাঁর যাতায়াত ছিল সহজলভ্য। ফলস্বরূপ, আমিরের কাছে পৌঁছতে না পেরে তারা পরিকল্পনা বদলে বেশি অ্যাক্সেসিবল থাকা টাইগারের ওপর হামলা চালায়। বিষ্ণোই গ্যাংয়ের শীর্ষ সদস্য টাইসন বিষ্ণোই এবং আরজু বিষ্ণোইয়ের নামে পরিচালিত একটি বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে হুমকির পোস্টটি করা হয়। যেখানে লেখা ছিল, “আমরা, আরজু বিষ্ণোই এবং টাইসন বিষ্ণোই (লরেন্স বিষ্ণোই গোষ্ঠী), আমির খানের মতো তারকাদের মাধ্যমে আমাদের দেশে সনাতন সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ‘লভ জিহাদ’-এর নামে এই কাজের বিস্তার দেখতে পাচ্ছি। আমরা এসব কোনওভাবেই বরদাস্ত করব না এবং খুব শীঘ্রই এর উপযুক্ত জবাব দেব। আমাদের ভাই-বোন ও দেশবাসীকে কথা দিচ্ছি, তারকাখ্যাতির আড়ালে যারা আমাদের ধর্ম ও দেশের বিরুদ্ধে এই কাজগুলো প্রচার করছে, তাদের আমরা শ্বাস রুদ্ধ করে দেব।”
ঘটনার জল অনেক দূর গড়ালেও পুলিশ বসে নেই। শনিবার রাতে ইন্দোর থেকে ২২ বছর বয়সি এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে মুম্বই পুলিশ। পুলিশ সন্দেহ করছে, শুটারদের অস্ত্র যোগান বা লজিস্টিক সহায়তায় জড়িয়ে ছিল এই যুবক। সব মিলিয়ে টাইগার শ্রফ গুলিবর্ষণ কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১ জন। বিষ্ণোই গ্যাংয়ের জাল কতটা দূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখতে জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছেন অপরাধ দমন শাখার আধিকারিকরা।
