
ভারতীয় সঙ্গীত জগতের দুই জনপ্রিয় নাম, অরিজিৎ সিং এবং অভিজিৎ সাওয়ান্ত। একজন বর্তমানের মহাতারকা, অন্যজন দেশের প্রথম রিয়্যালিটি শো জয়ী গায়ক। সম্প্রতি অরিজিৎ সিং প্লেব্যাক থেকে বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর থেকেই ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের রাজনীতি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। এবার সেই আগুনে ঘি ঢাললেন অভিজিৎ সাওয়ান্ত। তাঁর মতে, বলিউডে সংগীতশিল্পীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও রয়্যালটির অভাব অত্যন্ত প্রকট।
একটি ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ বলেন, “ইন্ডাস্ট্রিতে এমন এক ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে যাতে গায়করা কোনোভাবেই সিনেমার চেয়ে বড় না হয়ে উঠতে পারেন। বিড্ডু , যিনি আমার ‘লফজ়ো মে’ অ্যালবামে কাজ করেছিলেন, তিনি বিদেশে মাত্র দুটি গান করে যে পরিমাণ রয়্যালটি পান, তা দিয়ে তাঁর সারাজীবন কেটে যাবে। কিন্তু ভারতে চলচ্চিত্র সংগীতের জন্য গায়করা আজও রয়্যালটি পান না।”
অভিজিতের মতে, এই শোষণের জন্য গায়কদের একাংশও দায়ী। তিনি জানান, বড় তারকার লিপে নিজের কণ্ঠ দেওয়ার সুযোগ পাওয়ার লোভে অনেক গায়ক পারিশ্রমিক নিয়ে দরদাম করেন না। তাঁর কথায়,”আমরা যা দেওয়া হয় তা-ই মেনে নিই। কারণ আমরা না করলে অন্য কেউ সেই কাজটা করে দেবে। গায়করা মনে করেন একটি বড় গান হিট হলে তা দিয়ে সারাজীবন শো করে টাকা কামানো যাবে, তাই তাঁরা রেকর্ডিংয়ের সময় টাকা চান না। এই সুযোগটাই নেয় প্রোডাকশন হাউজগুলো।”
অভিজিতের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে রয়েছে অরিজিৎ সিংয়ের সাম্প্রতিক ঘোষণা। নিজের ব্যক্তিগত এক্স হ্যান্ডেলে অরিজিৎ লিখেছিলেন, “প্লেব্যাক ছাড়ার পেছনে কোনও একটি কারণ নেই, একাধিক বিষয় কাজ করছে। আমি দীর্ঘ সময় ধরে এটা নিয়ে ভাবছিলাম। অবশেষে প্রয়োজনীয় সাহস সঞ্চয় করে এই সিদ্ধান্ত নিলাম।”
অরিজিতের মতো একজন সফল গায়কের এই সিদ্ধান্ত এবং অভিজিতের এই অভিযোগ কি বলিউডের সংগীত দুনিয়ায় কোনো বড় বদল আনবে? প্রশ্ন এখন সেটাই।