
আজ তিনি জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেতা। ঝুলিতে রয়েছে দারুণ সব সিনেমা। কিন্তু সাফল্যের এই শিখরে পৌঁছানোর রাস্তাটা অভিনেতার কাছে মসৃণ ছিল না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের কৈশোরের কঠিন দিনগুলির কথা মনে করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন জাতীয় পুরস্কার অভিনেতা। জানালেন, মাত্র ১৬ বছর বয়সেই অভাবের তাড়নায় তাঁকে কাজে নামতে হয়েছিল। জানেন কে এই অভিনেতা? ইনি আর কেউ নন, বিক্রান্ত মাসে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিক্রান্ত মাসে জানান, উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয় বরং নিছক প্রয়োজনেই তিনি অভিনয় জগতে পা রাখেন। ২০০৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। সেই সময় নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে মুম্বইয়ের একটি কফিশপে কাজ করতেন বিক্রান্ত। পাশাপাশি শামাক দাভরের নাচের দলেও সহকারী প্রশিক্ষক ছিলেন তিনি।
অতীতের দিনগুলো হাতড়ে বিক্রান্ত বলেন, “তখন আমার বয়স মাত্র ১৬। প্রতিদিন চারটে লোকাল ট্রেন পাল্টে যাতায়াত করতাম, ১৬ ঘণ্টা কাজ করতে হত। অনেক সময় শুধু ‘পার্লে-জি’ বিস্কুট আর জল খেয়ে দিন কাটিয়েছি। কোনও কিশোর শখে এমন জীবন বেছে নেয় না, আমি বাধ্য হয়েছিলাম। তবে আমি এটাকে করুণার গল্প হিসেবে তুলে ধরতে চাই না।”
প্রথম কাজে হোঁচট ও অনিশ্চয়তা
বিক্রান্তের প্রথম টেলিভিশন প্রজেক্টটি ছিল একটি ফ্যান্টাসি শো, যেখানে তিনি এক অদৃশ্য হওয়ার ক্ষমতা সম্পন্ন চরিত্রের অভিনয় করেছিলেন। টানা আট মাস পরিশ্রম করলেও সেই শো যথাসময়ে সম্প্রচারিত হয়নি। কয়েক বছর পর গভীর রাতে সেটি দেখানো হলেও ততদিনে বিক্রান্ত বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। যদিও সেই কঠিন সময়ে সংশ্লিষ্ট প্রযোজক তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তাঁকে প্রোডাকশন অফিসে কাজের সুযোগ করে দিয়েছিলেন।
টেলিভিশনের ‘বালিকা বধূ’ বা ‘কবুল হ্যায়’-এর মতো ধারাবাহিকের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়ার পর ২০১৩ সালে ‘লুটেরা’ ছবির হাত ধরে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন বিক্রান্ত। সম্প্রতি বিধু বিনোদ চোপড়ার ‘টুয়েলভথ ফেল’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য ৭১তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার সম্মান অর্জন করেছেন তিনি।
আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশাল ভরদ্বাজের অ্যাকশন-থ্রিলার ‘ও রোমিও’-তে একটি বিশেষ চরিত্রে দেখা যাবে বিক্রান্তকে। এই ছবিতে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন শাহিদ কাপুর ও তৃপ্তি দিমরি।