
সুন্দরবন থেকে উঠে এসে কলকাতার গ্ল্যামার দুনিয়ায় নিজের জায়গা করে নেওয়া সুস্মিতা বরাবরই ঠোঁটকাটা এবং স্পষ্টবক্তা। ‘জগদ্ধাত্রী’ বা ‘কৃষ্ণকলি’-র মতো ধারাবাহিকের পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেলেও, বর্তমানে ভ্লগার হিসেবেই তাঁর পরিচিতি বেশি। মঙ্গলবার হঠাৎই সমাজমাধ্যমে নিজের বিয়ের খবর ভাগ করে নিলেন তিনি। কিন্তু এই খুশির খবরের পরতেও দানা বেঁধেছে ঘনীভূত রহস্য।
নিজের ফেসবুক পোস্টে সুস্মিতা লিখেছেন, “মা হতে চেয়েছি বরাবরই… এই একটা ইচ্ছে কখনও মন থেকে মুছে যায়নি। ৩৬ বছর বয়সে এসে আর কোনও ভনিতা করতে চাই না। বিয়ে করলাম… তোমরা সবাই আশীর্বাদ করো।”
এখানেই শেষ নয়, ইনস্টাগ্রামে বিয়ের ছবি পোস্ট করে সুস্মিতা লিখলেন, ”যখন আমরা দুজনেই নিজের নিজের লড়াইয়ে প্রায় ভেঙে পড়ছিলাম, তখনই একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে শক্তি হয়েছিলাম… সেখান থেকেই শুরু আমাদের নতুন পথচলা। আজ সেই মানুষটার হাত ধরেই জীবনের সবচেয়ে বড় বন্ধনে আবদ্ধ হলাম। লড়াইটা এখনও আছে… তবে এবার আমরা একসাথে।”
সুস্মিতার এই পোস্টে শুভেচ্ছার ঢল নামলেও নেটিজেনদের একটি অংশ কিন্তু বেশ সন্দিহান। সম্প্রতি অভিনেত্রীর ছোট ভাইয়ের বিয়ে হয়েছে। সেই বিয়ের মেহেন্দির নকশার সঙ্গে বর্তমান পোস্টের মেহেন্দির কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছেন না নেটিজেনরা। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মেহেন্দি বদলে যাওয়া বা ভ্যানিশ হওয়া অসম্ভব বলেই দাবি তাঁদের। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এটি কি কোনো নতুন ভ্লগ বা ব্যবসার প্রচারের কৌশল?
সুস্মিতার ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই টালমাটাল। সাংবাদিক-সঞ্চালক সব্যসাচী চক্রবর্তীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর গত বছরের জুলাই মাসে আইনি বিচ্ছেদ বা ডিভোর্স চূড়ান্ত হয় তাঁদের। একসময় সব্যসাচীর ভাই সায়কের সঙ্গে ‘কূটনি বৌদি’ হিসেবে ভাইরাল হলেও বর্তমানে সেই সমীকরণও অতীত। বর্তমানে অভিনয় কমিয়ে নিজের ব্যবসা এবং ভ্লগিং নিয়েই বেশি ব্যস্ত তিনি।
সুস্মিতার এই বিয়ে নিয়ে সায়ক তাঁর ফেসবুকে লেখেন, ”ভেবে ভালো লাগছে এই বরটাও আমারই খুঁজে দেওয়া । যদিও বর হবে জানতাম না । তবে এবার থামিস প্লিজ । এটাই যেন last বিয়ে হয় এবার মা হলে আর নরমাল ডেলিভারির জন্য wait করিসনা Btw Congratulations Mrs Dey”
এখন দেখার বিষয়, সুস্মিতার এই ‘বিয়ের দাবি’ স্রেফ প্রচারের আলোয় আসার চেষ্টা, নাকি সত্যিই জীবনের নতুন এক ইনিংস শুরু করতে চলেছেন তিনি।