সঙ্গী পরকীয়া করলে ক্ষমা করতে হয়! অক্ষয়ের মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় বলিউড, হঠাৎ কী ঘটল?
অক্ষয় যখন ক্ষমার কথা বলছেন, তখন তাঁর স্ত্রী তথা লেখিকা টুইঙ্কল খান্নার এক মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে সমালোচনা। ২০২৫ সালে নিজের টক শো ‘টু মাচ’-এ কাজল, করণ জোহর এবং জাহ্নবী কাপুরের সঙ্গে আড্ডায় বসেছিলেন টুইঙ্কল। সেখানে শারীরিক ও মানসিক প্রতারণা নিয়ে আলোচনা চলাকালীন জাহ্নবী স্পষ্ট জানান, শারীরিক প্রতারণা তাঁর কাছে সম্পর্কের শেষ সীমা।

দাম্পত্যে বিশ্বাসভঙ্গ বা পরকীয়া— এই সংবেদনশীল বিষয়ে অক্ষয় কুমার এবং তাঁর স্ত্রী টুইঙ্কল খান্নার দৃষ্টিভঙ্গি কি একে অপরের পরিপূরক? ২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘রুস্তম’ ছবির প্রচার থেকে শুরু করে হালের টক শো— বিভিন্ন সময়ে এই দম্পতির করা মন্তব্য এখন সমাজমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। যেখানে অক্ষয় ‘ক্ষমা’ করার ওপর জোর দিয়েছেন, সেখানে টুইঙ্কলের আলটপকা মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম বিতর্ক।
অক্ষয় কুমারের অভিনীত ‘রুস্তম’ ছবির মূল বিষয়বস্তুই ছিল বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক। সেই সময় প্রচারের ফাঁকে অক্ষয় জানিয়েছিলেন, দীর্ঘদিনের সম্পর্কে যদি কোনও ভুল হয়েও থাকে, তবে তা ক্ষমা করে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। অক্ষয়ের কথায়, “একটি সম্পর্কের পেছনে আপনি অনেকটা সময় বিনিয়োগ করেন। সেখানে সন্তানরাও জড়িয়ে থাকে। তাই সঙ্গীকে ক্ষমা করে দিতে পারলে আপনিই শেষ পর্যন্ত জয়ী হিসেবে গণ্য হবেন।” তাঁর মতে, বিচ্ছেদের চেয়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার লড়াই অনেক বেশি কঠিন এবং সম্মানজনক।
অক্ষয় যখন ক্ষমার কথা বলছেন, তখন তাঁর স্ত্রী তথা লেখিকা টুইঙ্কল খান্নার এক মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে সমালোচনা। ২০২৫ সালে নিজের টক শো ‘টু মাচ’-এ কাজল, করণ জোহর এবং জাহ্নবী কাপুরের সঙ্গে আড্ডায় বসেছিলেন টুইঙ্কল। সেখানে শারীরিক ও মানসিক প্রতারণা নিয়ে আলোচনা চলাকালীন জাহ্নবী স্পষ্ট জানান, শারীরিক প্রতারণা তাঁর কাছে সম্পর্কের শেষ সীমা।
কিন্তু টুইঙ্কলের প্রতিক্রিয়া ছিল একেবারেই আলাদা। তিনি বিষয়টিকে বেশ হালকাভাবে নিয়ে মন্তব্য করেন, “রাত গয়ি বাত গয়ি”। এই ভিডিওটি রেডডিট-সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হতেই নেটিজেনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অনেকেরই দাবি, টুইঙ্কলের মতো একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব যেভাবে প্রতারণাকে ‘নরম্যালাইজ’ বা স্বাভাবিক হিসেবে তুলে ধরছেন, তা অত্যন্ত হতাশাজনক।
২০০১ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন অক্ষয় ও টুইঙ্কল। তাঁদের দুই সন্তান— আরভ ও নিতারা। বলিউডের চাকচিক্যের মাঝেও তাঁরা নিজেদের সংসারকে আগলে রেখেছেন। তবে প্রতারণা নিয়ে তাঁদের এই ভিন্নধর্মী মতামত আবারও প্রমাণ করল যে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমীকরণ ব্যক্তিভেদে কতটা আলাদা হতে পারে।
অক্ষয়ের ‘ক্ষমা’ করার উদারতা বনাম টুইঙ্কলের ‘উপেক্ষা’ করার কৌশল— এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে অনুরাগীরা এখন দ্বিধাবিভক্ত। দাম্পত্য টিকিয়ে রাখতে ঠিক কোনটি বেশি জরুরি, তা নিয়ে চলছে জোরদার তর্কালাপ।
