
বলিউডে একদম অন্য ধারার ছবি করে নিজের একটা আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন পরিচালক অনুভব সিনহা। ‘মুলক ‘, ‘থাপ্পড়’ ছবির পর এবার অভিনেত্রী তাপসী পান্নুর সঙ্গে আরও একটি কোর্টরুম ড্রামা নিয়ে আসছেন পরিচালক অনুভব। ছবির নাম ‘আশি’। নারীদের উপর নির্যাতন ও তাঁর জটিল বিচার প্রক্রিয়ায় অনেক সময় ন্যায় অধরা থেকে যায়। প্রায় প্রতি দিনই আশির উপর এই জঘন্য ঘটনার শিকার হয় নারী। সেই ছবির প্রচারে এসে টিভিনাইন বাংলার সঙ্গে একান্ত আলাপে পরিচালক অনুভব সিনহা।
এই নিয়ে তাপসীর সঙ্গে তিন নম্বর ছবি করলেন পরিচালক। তাপসীকে বারংবার ব্যবহার করার বিশেষ কোন কারণ? এর উত্তরে পরিচালক বললেন, ” ছবি করার সময় ওর কথাই প্রথম মনে হয়, তাপসীর সঙ্গে সহজ কাজের সম্পর্ক। খুব ভাল অভিনেত্রী, ভালো কাজ করেন। সব থেকে বড় কথা তাপসী যে কাজটা করে সেটা মন থেকে বিশ্বাস করে, তারপর করে। ছবি করতে হবে বলে করে না, গল্পের আত্মার সঙ্গে একাত্ম হয়ে করেন। অনেকেই আছেন নিজের কাজের একটা ডালি সাজানোর জন্য নানা ধরণের কাজ করেন, যেমন কমেডি, অ্যাকশন, রোমান্টিক চরিত্র করতে হবে বলে করেন। তবে তাপসী এই ধরণের গল্প বিশ্বাস করে করেন। ”
পরিচালক বেশিরভাগ সময় কোর্টরুম ড্রামা তৈরি করেন, এটাতে কীধরনের চ্যালেঞ্জ থাকে? দর্শকদের ধরে রাখা কি খুব কঠিন হয়?
এর উত্তরে একদম না ভেবেই পরিচালক জানালেন, ” আমার মনে হয় না এটা কোনও চ্যালেঞ্জ । আমি কোর্টরুম ড্রামা করতেই পছন্দ করি , আমার পক্ষে সম্ভব হলে প্রতিবছর একটা করে এই ধরনের ছবি বানাই। আসল বাস্তব হল কপটতা চলে কোর্টে। বিচারক যা বলে দেবে ওটাই ফাইনাল। এরপর ইমোশনাল যোগ তৈরি হয়ে যায় দর্শকদের। আমি নিজে দুবার সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছি ব্যক্তিগত কারণে, সেটা অবশ্য তেমন কিছুই বিষয় নয়। তবে ছবি তৈরির জন্য দুবার গিয়েছিলাম দিল্লির সেশন কোর্টে পাটিয়ালা হাউসে। দারুণ মজার অভিজ্ঞতা হয় ওখানে। আমার মতে ওই কোর্টে যদি কেউ বেশিক্ষণ কাটিয়ে ফেলে, তাহলে সে শুধু কোর্টরুম ড্রামাই বানাবে, কারন ঐ কোর্টের মধ্যে আরও বেশি সিনেমা চলতে থাকে, দারুণ অদ্ভুত অদ্ভুত মামলা চলে, সেই বিষয় নিয়ে তর্ক চলে (হাসি)।”
টিভিনাইন-এর তরফ থেকে প্রশ্ন করা হয় ‘আশি’ ছবির বিষয় খুব সেনসেটিভ, আপনার কি মনে হয় এই পৃথিবীটা মেয়েদের জন্য সুরক্ষিত নয়? উত্তরে অনুভব বলেন, ” আর কি করা যাবে এই পৃথিবীটা আমরা ছেলেরা নিজেদের মত করে সাজিয়ে নিয়েছি। আমরা নিজেদের সুরক্ষিত রাখার,সব ব্যবস্থা করে নিয়েছি, বাকিরা নিজেদেরটা বুঝে নিক। আমি তো কলকাতার আরজিকর এর ঘটনাও জানি বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, কী বলব সব জায়গায় প্রতি মিনিটে ঘটছে এই জঘন্য ঘটনা, খুব করুণ বিষয়।”
কলকাতার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করায় পরিচালক বললেন,” আমার সঙ্গে সেই কলেজের সময় থেকে বাংলার পরিচয় আছে। আমার ক্লাসমেট বাঙালি ছিল, বাঙালিরা নিজেদের সংস্কৃতি ও খাবার নিয়ে খুব সেনসেটিভ। আমি দেখেছি, অবশ্য অন্য প্রদেশের কথা বললে তারাও কম যায় না। আমার দিদির বিয়ে হয়েছে কলকাতায়। ও তো একেবারে বাঙালি হয়ে গিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, বহু বাঙালি পরিচালক আমার বন্ধু, গৌতম ঘোষ, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বহু রয়েছেন তবে একটি ছবি দেখে আমার মনে হয়, যদি এই ছবিটা আমি বানাতে পারতাম, পরিচালক মৃণাল সেনের ‘একদিন প্রতিদিন’। আসলে আমি যে ধরণে ছবি বানাই ওর ছবি মেকিং এর সঙ্গে একটা মিল রয়েছে। ”
পরিচালককে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বাংলা বা কলকাতার কোনও বিষয় নিয়ে ছবি করতে হলে কোন বিষয়টিকে নিয়ে ছবি বানাতে চান? উত্তরে অনুভব সিনহা বললেন, ” আমি চাই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বায়োপিক বানাতে চাই , কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুব আকর্ষণীয় চরিত্র। প্রথমত তিনি একজন মহিলা রাজনীতিবিদ নেত্রী। সবথেকে বড় কথা বাংলা রাজনৈতিক ভাবে এতটাই বৃহৎ। আর সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাঠে নেমে রাজনীতি করেন। মহিলা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মানেই জীবনের অনেক ওঠাপড়া থাকবে। মানুষ মানেই সবকিছু সঠিক হতে পারে না। নিশ্চিত অনেক ওঠানামা থাকবে, ওর,জীবনী নিশ্চিত চমকপ্রদ হবে। অবশ্য বানানোটা এত সহজ নয়, ব্যক্তিগত কিছুই জানি না ওর সম্পর্কে, সময় কাটাতে হবে তাহলেই সম্ভব। আমি একবার পনেরো ফিটের দূরত্বে দেখেছি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। করোনার সময় ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে কলকাতায় এসেছিলাম, তখন দেখে বুঝেছি উনি মাঠে নেমে রাজনীতি করা মানুষ। “