ধারাবাহিক থেকে কি দূরে সরে যাচ্ছেন দর্শকের পছন্দের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা?
২০২৬-এর এপ্রিল মাস। বাংলা ধারাবাহিকের সামগ্রিক রেটিং কমতে শুরু করেছে। বার্কের নির্দিষ্ট গ্রুপে বেঙ্গল টপার ৬ রেটিং ছুঁতে পারল না। এদিকে বেশিরভাগ ধারাবাহিকে নায়ক বা নায়িকার চরিত্রে অপেক্ষাকৃত নতুন মুখদের বেছে নেওয়া হচ্ছে। নতুন প্রতিভাদের কারও অভিনয় দক্ষতা নজরকাড়া। আবার কেউ নিয়মিত হোঁচট খাচ্ছেন চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে গেলে।

২০২৬-এর এপ্রিল মাস। বাংলা ধারাবাহিকের সামগ্রিক রেটিং কমতে শুরু করেছে। বার্কের নির্দিষ্ট গ্রুপে বেঙ্গল টপার ৬ রেটিং ছুঁতে পারল না। এদিকে বেশিরভাগ ধারাবাহিকে নায়ক বা নায়িকার চরিত্রে অপেক্ষাকৃত নতুন মুখদের বেছে নেওয়া হচ্ছে। নতুন প্রতিভাদের কারও অভিনয় দক্ষতা নজরকাড়া। আবার কেউ নিয়মিত হোঁচট খাচ্ছেন চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে গেলে। লক্ষণীয় বাংলা টেলিভিশনের ‘তারকা’ যাঁরা, তাঁরা অনেকেই উধাও ধারাবাহিক থেকে। যেমন অপরাজিতা আঢ্য, মধুমিতা সরকার, শন বন্দ্যোপাধ্যায়, রুকমা রায়, নবনীতা দাস, সৌমিতৃষা কুণ্ডু এমনই বেশ কিছু নাম করা যায়। তালিকা দীর্ঘ, অন্তত ২০টা নাম রয়েছে।
কেন ধারাবাহিক থেকে বিরতি নিলেন? অভিনেত্রী রুকমা রায় বললেন, ”আমি ধারাবাহিকই করতে চাই। তবে ২০২৫-এ ধারাবাহিক শেষ হওয়ার পর যেসব চরিত্র আমার কাছে এসেছে, সেগুলো তেমন পছন্দ হয়নি। ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছি বলে, ধারাবাহিকে কাজ করব না, একদম সেরকম নয়। এখন বিরতিতে আছি। তার মধ্যে একটা ছবি করার প্রস্তাব পেলাম। তবে ধারাবাহিকে ফিরতে চাই।” বাংলা ধারাবাহিকে কিছু শিল্পীকে তুলনায় কম পারিশ্রমিকে কাজ করতে বলা হচ্ছে। সেটা কি সমস্যার কারণ? রুকমার বক্তব্য, ”করোনার কারণে যে লকডাউন হয়েছিল, তারপর থেকে ধারাবাহিকের বাজেট তুলনায় কমেছে। তবে সেটা কারণ নয়। আমি ভালো চরিত্র পেলেই ধারাবাহিক করব।” অভিনেতা শন বন্দ্যোপাধ্যায় এখন ধারাবাহিক থেকে দূরে থাকতে চান। তিনি বললেন, ”আমি এই মুহূর্তে ধারাবাহিক করতে চাই না। সিনেমাতে কাজ করতে চাই। ভালো চরিত্র পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। সেই কারণেই একটা বিরতি নিয়েছি।”
‘মন ফাগুন’ ধারাবাহিকে শন-সৃজলার জুটির রসায়ন ছিল চোখে পড়ার মতো। সৃজলা বললেন, ”প্রথমে বিরতি নিয়েছিলাম সতর্কভাবে। কিন্তু সেটা বড়সড় ব্রেকে পরিণত হয়েছে। আমার ব্যক্তিগত জীবনে কিছু দায়িত্ব আছে। একটা ধারাবাহিক করে বুঝেছি, একবার কাজ শুরু করে দিলে, সেটা ভালো করার জন্য সব দিয়ে ফেলি, আমার কোনও সময় জ্ঞান থাকে না। এদিকে গত চার বছরে আমার শরীর অনেকটাই খারাপ হয়েছে। এখন ১৪ ঘণ্টা শুটিং করার আমার জন্য ঝুঁকির। এখানে একা থাকি। আমাকে দেখার সেরকম কেউ নেই। তাই আপাতত ধারাবাহিকে কাজ করার কথা ভাবছি না।” সৃজলা যোগ করেন, ”যদি প্রশ্ন করেন, কেন সামগ্রিকভাবে ধারাবাহিকের রেটিং কমছে, তা হলে বলব, দর্শকের ধৈর্য কমেছে। সে কারণে বিভিন্ন সংস্থা মাইক্রো ড্রামাতে বিনিয়োগ করছে। আমিও এরকম একটা মাইক্রো ড্রামাতে কাজ করলাম। কিছুজন আছেন, যাঁদের কাছে কাজই সব কিছু। আমি ওরকম মানুষ নই। আমার জীবনে ব্যক্তিগত জীবন আর কাজের ভারসাম্য থাকা অত্যন্ত জরুরি।”
ধারাবাহিকে কাজ করতে গেলে যে পরিমাণ সময় দিতে হয়, তাতে একটা সময়ের পর অভিনেতা বা অভিনেত্রীরা ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন, সে কথা বোঝা গেল অভিনেত্রী নবনীতা দাসের সঙ্গে কথা বলে। নবনীতা বলছেন, ”আমার টিনএজ পুরোটাই কেটেছে ১৮ থেকে ১৯ ঘণ্টা করে শুটিং করে। তখন শুটিংয়ে ১৪ ঘণ্টার সীমা ছিল না। এখন মনে হয়, এর জন্য আমার ব্যক্তিগত জীবনের অনেক কিছু বিঘ্নিত হয়েছিল। ২০২৪ অবধি ধারাবাহিকে কাজ করার পর আমার মনে হল, জীবনটাকে আরও কিছুটা এক্সপ্লোর করা দরকার। আমি বেঙ্গালুরুর একটা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হলাম। এই জীবনটা খুবই উপভোগ করছি। আমি নিজেকে খুবই লাজুক প্রকৃতির ভাবতাম। এখন কিন্তু অনেকের সঙ্গে মিশছি।” তা হলে কি এখন ধারাবাহিক থেকে দূরে থাকতে চান? নবনীতার উত্তর, ”সেরকম নয়। ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের প্রস্তাব এসেছিল আমার কাছে। তবে শেষ অবধি সুযোগ হয়নি করার। ‘ও মোর দরদিয়া’-র জন্যও প্রথমে কথা হয়েছিল। আমাকে বলা হচ্ছে, চরিত্রগুলোর তুলনায় আমাকে কমবয়সী লাগছে। সুযোগ পেলে নিশ্চয়ই কাজ করব।”
পারিজাত চৌধুরীকে দেখা গিয়েছিল ‘মিত্তির বাড়ি’ ধারাবাহিকে। তিনি কি ধারাবাহিক থেকে সাময়িক বিরতি নিয়েছেন? পারিজাত খোলসা করলেন, ”আমি ‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’ করার পর কিছুটা বিরতি নিয়েছিলাম। ‘হালুম’ ছবির শুটিং করার পরও বিরতি নিয়েছি। একইভাবে দর্শকের কাছে ‘মিত্তির বাড়ি’ করার সময়ে আমি জোনাকিই হয়ে গিয়েছিলাম। একটা চরিত্র থেকে অন্য চরিত্র করার মধ্যে বিরতি রাখতে চাই। এই মুহূর্তে সিনেমা বা ওয়েব সিরিজে কাজ করতে চাই। ভালো চরিত্র এলে ধারাবাহিকে ফিরতে পারি। ভালো চরিত্রে অভিনয় করাটাই আসল লক্ষ্য।”
শুধু এই পাঁচজনই নয়, প্রায় পনেরোজন জনপ্রিয় মুখের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেল, এই মুহূর্তে টেলিভিশন থেকে বিরতি রাখতে চান তাঁরা। অনেক সময়ে প্রতিষ্ঠিতরা যে পরিমাণ পারিশ্রমিক চাইছেন, তা দিয়ে বিশেষ লাভ হচ্ছে না প্রযোজনা সংস্থার। তাই সামনের এক বছর অপেক্ষাকৃত নতুন অভিনেতা-অভিনেত্রীদেরই বেশিরভাগ সময়ে দেখতে হবে বাংলা ধারাবাহিকে।
