AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

থামল সুরের যাত্রা, প্রয়াত কিংবদন্তি রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী অর্ঘ্য সেন

১৯৩৫ সালের ১১ নভেম্বর অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরে মামার বাড়িতে জন্ম অর্ঘ্য সেনের। আদি ভিটে ছিল খুলনার সেনহাটি গ্রামে। কৃষিবিজ্ঞানী বাবা এবং সঙ্গীতপ্রাণ মায়ের আশ্রয়ে বড় হয়ে ওঠা অর্ঘ্যর গানের হাতেখড়ি হয়েছিল মায়ের কাছেই। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ফরিদপুরে পড়াশোনার পর চলে আসেন কলকাতায়।

থামল সুরের যাত্রা, প্রয়াত কিংবদন্তি রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী অর্ঘ্য সেন
| Updated on: Jan 14, 2026 | 1:05 PM
Share

বুধবার প্রয়াত হলেন কিংবদন্তি রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী অর্ঘ্য সেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০। বেশ কিছু দিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। রবীন্দ্রসঙ্গীত নিয়ে তাঁর আজীবন চর্চার স্বীকৃতিতে ১৯৯৭ সালে তিনি পেয়েছেন সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কার। তাঁর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

১৯৩৫ সালের ১১ নভেম্বর অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরে মামার বাড়িতে জন্ম অর্ঘ্য সেনের। আদি ভিটে ছিল খুলনার সেনহাটি গ্রামে। কৃষিবিজ্ঞানী বাবা এবং সঙ্গীতপ্রাণ মায়ের আশ্রয়ে বড় হয়ে ওঠা অর্ঘ্যর গানের হাতেখড়ি হয়েছিল মায়ের কাছেই। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ফরিদপুরে পড়াশোনার পর চলে আসেন কলকাতায়। বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং পরে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বিজ্ঞানে স্নাতক হন তিনি।

তিনি কেবল একজন পূর্ণাঙ্গ শিল্পীই ছিলেন না, ছিলেন দায়িত্বশীল পেশাদারও। ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটে (ISI) কর্মজীবন শুরু করে দীর্ঘ সময় ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে অর্গানাইজেশন (NSSO)-এ উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনের ব্যস্ততার মাঝেও রবীন্দ্রসঙ্গীতের চর্চা থেকে বিচ্যুত হননি তিনি।

ছাত্রাবস্থায় পঙ্কজকুমার মল্লিকের রেডিওর গান শুনে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন অর্ঘ্য সেন। অশোকতরু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে প্রাথমিক তালিম নিলেও, তাঁর গানের মোড় ঘুরে যায় প্রবাদপ্রতিম শিল্পী দেবব্রত বিশ্বাসের (জর্জ) সান্নিধ্যে এসে। দেবব্রত বিশ্বাসের ভাবশিষ্য হিসেবে তাঁর শুদ্ধ উচ্চারণ এবং শব্দের গভীরতাকে স্পর্শ করার ক্ষমতা শ্রোতাদের মোহিত করত। ‘আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে’ কিংবা ‘আমার মাথা নত করে দাও’-এর মতো কালজয়ী গানগুলো তাঁর কণ্ঠে এক বিশেষ মাত্রা পেয়েছিল।

রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রসারে সারাজীবনের অবদানের জন্য ১৯৯৭ সালে তিনি ভারত সরকারের ‘সঙ্গীত নাটক অকাদেমি’ পুরস্কারে ভূষিত হন। এছাড়াও পরবর্তীকালে তিনি ‘টেগোর ফেলো’ সম্মান লাভ করেন। তবে পুরস্কারের চেয়েও রসিক শ্রোতাদের ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধাই ছিল তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। অর্ঘ্য সেনের প্রয়াণে রবীন্দ্রসঙ্গীতের একটি ঘরানার অবসান ঘটল। তাঁর গাওয়া গানগুলো উত্তরপ্রজন্মের কাছে পথপ্রদর্শক হয়ে থেকে যাবে।