সিনেমায় গান গাইতে কত টাকা নিতেন অরিজিৎ? কত টাকা সম্পত্তি গায়কের?

'ফেম গুরুকুল' থেকে শুরু হওয়া এক সাধারণ তরুণের এই অসাধারণ জয়যাত্রা আজ সাফল্যের এমন এক শিখরে দাঁড়িয়ে, যেখান থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াও সাহসের কাজ। কিন্তু প্লেব্যাক ছাড়লেও বিপুল প্রতিপত্তি আর রেকর্ড ভাঙা উপার্জনের নিরিখে অরিজিৎ আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

সিনেমায় গান গাইতে কত টাকা নিতেন অরিজিৎ? কত টাকা সম্পত্তি গায়কের?

|

Jan 28, 2026 | 1:21 PM

অরিজিৎ সিং। যাঁর কণ্ঠে মজেছে গোটা বিশ্ব, সেই সুরের জাদুকরই এবার চিরতরে বিদায় জানালেন সিনেমার গানকে। ‘ফেম গুরুকুল’ থেকে শুরু হওয়া এক সাধারণ তরুণের এই অসাধারণ জয়যাত্রা আজ সাফল্যের এমন এক শিখরে দাঁড়িয়ে, যেখান থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াও সাহসের কাজ। কিন্তু প্লেব্যাক ছাড়লেও বিপুল প্রতিপত্তি আর রেকর্ড ভাঙা উপার্জনের নিরিখে অরিজিৎ আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

‘দ্য ইকোনমিক টাইমস’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, অরিজিৎ সিংয়ের বর্তমান মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৪১৪ কোটি টাকা (প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার)। ভারতের সবথেকে দামি গায়কদের তালিকায় তাঁর নাম সবার উপরে। প্লেব্যাক থেকে শুরু করে স্টেজ পারফর্ম্যান্স, ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট এবং গানের রয়্যালটি— সব মিলিয়ে বছরে তাঁর আয় প্রায় ৭০ কোটি টাকা।

অরিজিতের জনপ্রিয়তা এমন পর্যায়ে যে একটি গান গাওয়ার জন্য তিনি অন্তত ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকা নেন। কোনও কোনও বড় প্রজেক্টের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক আরও বাড়ে। তবে তাঁর আয়ের প্রধান উৎস হলো লাইভ কনসার্ট। সঙ্গীত পরিচালক মন্টি শর্মার এক সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, অরিজিৎ এক-একটি পারফর্ম্যান্সের জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা নেন। অন্য কিছু সূত্রের দাবি, দুই ঘণ্টার একটি পূর্ণাঙ্গ লাইভ কনসার্টের জন্য তাঁর পারিশ্রমিক পৌঁছয় প্রায় ১৪ কোটি টাকায়।

মুম্বইয়ের ভারসোভা এলাকায় একটি বহুতলেই অরিজিতের চারটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার প্রতিটির বাজারমূল্য প্রায় ৯ কোটি টাকা। তাঁর গ্যারেজে রয়েছে দামি গাড়ির সম্ভার। প্রায় ২ থেকে ৪ কোটি টাকার রেঞ্জ রোভার ভলগ ছাড়াও রয়েছে হামার এইচ৩, এবং মার্সিডিজ বেঞ্জের মতো নামী গাড়ি।

১৯৮৭ সালে জন্মানো এই শিল্পী ‘আশিকি ২’ ছবির ‘তুম হি হো’ দিয়ে রাতারাতি পরিচিতি পান। প্রায় এক দশকের কেরিয়ারে হিন্দি, বাংলা, মারাঠি ও তেলুগু মিলিয়ে ৩০০-র বেশি গান গেয়েছেন তিনি। সম্প্রতি ‘ঘর কব আওগে’ (বর্ডার ২) বা ‘মাতৃভূমি’ (ব্যাটল অফ গালওয়ান)-এর মতো গানেও তাঁর কণ্ঠ শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে।

দু’বার জাতীয় পুরস্কারজয়ী এই গায়ক তাঁর অবসরের বার্তায় লিখেছেন, “আমি প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে আর কোনও নতুন কাজ নিচ্ছি না। এই সফরটা দারুণ ছিল।” কোটি কোটির সম্পত্তি আর জনপ্রিয়তা পাশে সরিয়ে রেখে অরিজিতের এই প্রস্থান সিনেমার সঙ্গীত ইতিহাসে এক বড় শূন্যতা তৈরি করল।