AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

‘ধুরন্ধর ছবিতে আমি প্রতিশোধ নিয়েছি!’, কোন ব্যক্তিগত ক্ষত তুলে ধরলেন অর্জুন রামপাল?

বিশেষ করে ধুরন্ধর ২তে, তিনি হলেন অর্জুন রামপাল। ISI এজেন্টের মূলচক্রীর চরিত্রে অর্জুন যেন রূঢ় বাস্তবকে সামনে নিয়ে এসেছিলেন। পর্দায় তাঁকে মুম্বই হামলার মূল চক্রী হিসেবে দেখা গেলেও, বাস্তব জীবনে সেই অভিশপ্ত ২৬শে নভেম্বর অর্জুন নিজেই যমদূতকে খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সেই হাড়হিম করা অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন অভিনেতা।

'ধুরন্ধর ছবিতে আমি প্রতিশোধ নিয়েছি!', কোন ব্যক্তিগত ক্ষত তুলে ধরলেন অর্জুন রামপাল?
| Updated on: Mar 23, 2026 | 1:12 PM
Share

বক্স অফিসে ধুরন্ধর ঝড়। দর্শকরা মুগ্ধ ছবির শুরু থেকে শেষ দেখে। রণবীর সিং তো অনুরাগীদের মন জয় করে এখন সেরা নায়কের তকমা। তবে রণবীর সিংকে একপাশে রাখলে ধুরন্ধর ছবিতে যে নজর করেছেন, বিশেষ করে ধুরন্ধর ২তে, তিনি হলেন অর্জুন রামপাল। ISI এজেন্টের মূলচক্রীর চরিত্রে অর্জুন যেন রূঢ় বাস্তবকে সামনে নিয়ে এসেছিলেন। পর্দায় তাঁকে মুম্বই হামলার মূল চক্রী হিসেবে দেখা গেলেও, বাস্তব জীবনে সেই অভিশপ্ত ২৬শে নভেম্বর অর্জুন নিজেই যমদূতকে খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সেই হাড়হিম করা অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন অভিনেতা।

২০০৮ সালের ২৬শে নভেম্বর ছিল অর্জুন রামপালের জন্মদিন। বন্ধুদের নিয়ে ওরলির ফোর সিজনস হোটেলে জড়ো হয়েছিলেন তিনি। পরিকল্পনা ছিল সেখান থেকে দক্ষিণ মুম্বইয়ের তাজ হোটেলে গিয়ে নৈশভোজ সারবেন। অর্জুন স্মৃতিচারণ করে বলেন, “সেদিন আমার এক বন্ধুর তৈরি হতে একটু দেরি হচ্ছিল। ভাগ্যিস দেরি হয়েছিল! আমরা হোটেলের বারে বসে ড্রিঙ্কস অর্ডার করেছি, ঠিক তখনই মাহিমের কাছে প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে। শব্দে আমার হাতের গ্লাস কেঁপে উঠেছিল।”

১০ মিনিটের মধ্যেই একের পর এক ফোন আসতে শুরু করে। গুজব ছড়ায় কোলাবায় গ্যাং-ওয়ার শুরু হয়েছে। অর্জুন জানান, “২০-৩০ মিনিটের মধ্যে পুরো হোটেল চত্বর ঘিরে ফেলে পুলিশ। আমাদের বলা হয় বাইরে বেরোনো নিরাপদ নয়। নিজের জন্মদিনে আমি টিভির পর্দায় ২৬/১১-র সেই নারকীয় তাণ্ডব দেখেছিলাম।” পরদিন সকালে বাড়ি ফেরার পথে সেই ভয়াবহতার কথা ভেবে বারবার অসুস্থ বোধ করছিলেন তিনি। তিনবার গাড়ি থামাতে বাধ্য হয়েছিলেন অভিনেতা।

অর্জুন রামপাল জানান, বছরের পর বছর সেই ক্ষত বয়ে বেড়িয়েছেন তিনি। পরিচালক আদিত্য ধর যখন ‘ধুরন্ধর’-এর চিত্রনাট্য শোনান এবং ২৬/১১-র সেই দৃশ্যটির কথা বলেন, অর্জুন বুঝেছিলেন এটাই তাঁর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ। অভিনেতা বলেন, “চিত্রনাট্য শোনার পর আমি জানতাম, এই অভিনয়ের মাধ্যমেই আমি আমার প্রতিশোধ নেব। আমি কেবল এটুকুই বলতে চাই— ভারত মাতা কী জয়।”

ছবিটি মুক্তির পর সোশ্যাল মিডিয়ায় এক অনুরাগী অর্জুনকে প্রশ্ন করেন, একজন ভারতীয় হয়ে এমন দেশবিরোধী সন্ত্রাসবাদীর চরিত্রে অভিনয় করা তাঁর পক্ষে কতটা কঠিন ছিল? বিশেষ করে সেই দৃশ্যটি, যেখানে রণবীর সিং (হামজা আলী মাজারি) শিউরে উঠছেন আর অর্জুন রামপাল ও অক্ষয় খান্না মুম্বই হামলা উদযাপন করছেন। এর উত্তরে অর্জুন স্পষ্ট জানান, “এটি ছিল আমার জীবনের কঠিনতম দৃশ্য।” অভিনয়ের খাতিরে সন্ত্রাসবাদীর মুখোশ পরলেও, মন থেকে তিনি সেই যন্ত্রণাই অনুভব করছিলেন যা ওই রাতে প্রতিটি ভারতবাসী করেছিলেন।

বর্তমানে ‘ধুরন্ধর ২’ প্রেক্ষাগৃহে ঝড় তুললেও, প্রথম পর্বের সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আর অর্জুন রামপালের এই ব্যক্তিগত লড়াই অনুরাগীদের মনে নতুন করে দাগ কেটেছে।

Follow Us