
শুক্রবার দুপুরে আচমকাই বাঙালি হারাল তাঁর প্রিয় লেখক মণিশংকর মুখোপাধ্যায় তথা শংকরকে। আচমকাই স্তব্ধ হয়ে গেল চৌরঙ্গীর কলম। যে কলমের ধার সব প্রজন্মের পাঠককেই অনুপ্রাণিত। সেই জন অরণ্যর রূপকারকেই হারাল বাংলা। শংকরকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় টিভি নাইন বাংলাকে তিনি জানালেন, আমার অনেকদিনের পরিচিত। লেখালিখি যখন থেকে শুরু করি তবে থেকেই শংকরের সঙ্গে পরিচয়। মানুষ হিসাবে তিনি খুব মজার। এমন অমায়িক এমন অহংশূন্য মানুষ খুব কম দেখা যায়, তারপর আসে তাঁর লেখা। বিগত প্রায় সাত দশক ধরে বই লিখছে। একসময় দেখেছি শঙ্করের বই কলেজস্ট্রিতে এমনভাবে বিক্রি হত, যে আমরা হাঁ করে থাকতাম। ঝাঁকা বোঝাই করে শঙ্করের সমস্ত বই যেতে দেখতাম। ‘কত অজানারে’ এবং ‘নিবেদিতা রিসার্চ ল্যাবরেটরি’ ওর দুই অনবদ্য সৃষ্টি। ওঁর গল্প নিয়ে সত্যজিৎ রায় সিনেমাও বানিয়েছেন, আরও অনেক সিনেমাও হয়েছে। কিন্তু উনি ছিলেন একেবারেই নিরহংকার। বইমেলায় বসে বসে মানুষকে সই দিতেন। সব দৃশ্য এখন মনে পড়ে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত ভাবে একজন ভালো বন্ধুকে হারালাম এরকমই মনে হচ্ছে। আমি গভীরভাবে দুঃখিত, শোকগ্রস্ত।
শংকরের জনপ্রিয় উপন্যাস চৌরঙ্গীর আদলেই শাহজাহান রিজেন্সি ছবি তৈরি করেছিলেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। শংকরের প্রয়াণের খবর পেয়ে টিভি নাইন বাংলাকে সৃজিত জানালেন, খুবই কষ্ট হচ্ছে ,খুবই খারাপ লাগছে ওর সঙ্গে আমার শুধু ভালো পরিচয়ই নয় একপ্রকার হৃদ্যতা ছিল বলা যেতে পারে এবং শাহজাহান রেজেন্সি নিয়ে খুবই খুশি হয়েছিলেন,সব থেকে বড় কথা তিনি খুবই জমজমাটি মানুষ ছিলেন। খুব তীক্ষ্ণ সেন্স অব হিউমার, প্রচন্ড জ্ঞানী এবং খুবই দিলদরিয়া মানুষ ছিলেন। অনেক মজার মজার কথা বলতেন। অনেক অনেক সময় কাটিয়েছি আমি ওর সঙ্গে। আসলে চৌরঙ্গী উপন্যাস আমার কাছে অবিস্মরণীয় উপন্যাস। কারণ প্রথম আমার শহর, কলকাতা শহরের সঙ্গে আলাপ এই উপন্যাসের মাধ্যমে। ছোট বেলায় পড়েই মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম এবং পরবর্তীকালে আমি যখন সিনেমা তৈরি করি, আমাকে অনেকে বলেছিল এটা চৌরঙ্গীর রিমেক, কিন্তু তা নয়, আমার কাছে চৌরঙ্গী সাদা কালো ছবির অনেক আগে স্ট্যাম্পের প্রচ্ছদের উপন্যাস, ছোটবেলায় পড়া প্রথম উপন্যাস। যেটা আমাকে কলকাতাকে ভালোবাসতে শিখিয়েছিল। সেই জন্য আমি ছবিটাও একেবারে উপন্যাসের স্ট্রাকচার মেনটেন করেছিলাম এবং সেটা নিয়ে আলোচনাও হয়েছিল ওর সঙ্গে। বইয়ের কথা মাথায় রেখে ছবি বানানোয় উনি খুব খুশি হয়েছিলেন। খুবই খারাপ লাগছে, খুবই কষ্ট হচ্ছে ওর আত্মার শান্তি কামনা করি.তবে এই মানুষগুলো কোনওদিন হারিয়ে যান না, মৃত্যু হয়ে গেলেও কাজের মধ্যে উনি আমাদের মাঝে থেকে যাবে আজীবন।