বলিউড হিরোরা যৌনতায় অক্ষম! তাই স্ত্রীরা পরপুরুষে মজেছেন! বিস্ফোরক দাবিতে তুমুল হইচই
এ কোনও গুঞ্জন নয়, বরং বলিউড বেডরুমের গোপন খবর ফাঁস করলেন মুম্বইয়ের জনপ্রিয় সাংবাদিক সীমি চন্দক। একেবারে খুঁটিনাটি জানিয়ে বলিউডের হ্যান্ডসাম হাঙ্কদের 'অন্দর কী বাতে'র হাড়ি এবার হাটে ভাঙলেন সীমি। সীমির দূরবীণে ধরা পড়ল, বলিউডের সেসব তথাকথিত সুখী দাম্পত্যের অসুখী ও অখুশি বাস্তবতা।

বলিউডের হিরোরা নাকি সঙ্গমে অক্ষম! পেশি ফুলিয়ে, বুকখোলা জামায় অনুরাগীদের সামনে হট ডুড সাজলেও, বাস্তবে নাকি তাঁরা বিছানায় একেবারে ঠান্ডা? নাহ, এ কোনও গুঞ্জন নয়, বরং বলিউড বেডরুমের গোপন খবর ফাঁস করলেন মুম্বইয়ের জনপ্রিয় সাংবাদিক সীমি চন্দক। একেবারে খুঁটিনাটি জানিয়ে বলিউডের হ্যান্ডসাম হাঙ্কদের ‘অন্দর কী বাতে’র হাঁড়ি এবার হাটে ভাঙলেন সীমি। সীমির দূরবীণে ধরা পড়ল, বলিউডের সেসব তথাকথিত সুখী দাম্পত্যের অসুখী ও অখুশি বাস্তবতা।
ব্য়াপারটা একটু খোলসা করে বলা যাক। সীমির চোখে, বলিউড দুনিয়াটা একেবারেই দেখনদারির উপর দাঁড়িয়ে। সোশাল মিডিয়াতেই শুধু তারকাদের সুখের সংসারের গল্প। বিবাহবার্ষিকী থেকে জন্মদিনে, মাখো মাখো ছবি পোস্ট,আদুরে বার্তা! কিন্তু এরাঁ আদতে নাকি একেবারেই অসুখী গৃহকোণে বাঁচেন। এরপরই সটান তিনি জানিয়ে দেন, শরীরী খেলায় নাকি একটি ম্যাচও টিকতে পারেন না অধিকাংশ সিক্সপ্যাকধারী! যে নায়ক যত বেশি পেশি বহুল, সেই নায়ক নাকি ততটাই তাড়াতাড়ি আউট! সিনেমার পর্দায় যে নায়ক-নায়িকারা প্রেমে ডগমগ হয়ে উষ্ণতা ছড়ান, তাঁরাই বাস্তবের আদুরে খেলায় একেবারে টাঁয় টাঁয় ফুস…। হ্যাঁ, এটাই নাকি বলিউডের বাস্তব ছবি।
সীমি চন্দকের মতে, বলিউডের অনেক তথাকথিত ‘পাওয়ার কাপল’-এর শোওয়ার ঘরের সমীকরণ শুনলে সাধারণ মানুষ চমকে উঠবেন। তাঁর দাবি, বহু তারকা দম্পতি বছরের পর বছর পার করছেন নিজেদের মধ্যে কোনও শারীরিক ঘনিষ্ঠতা ছাড়াই। জনসমক্ষে তাঁরা একে অপরের হাতে হাত রেখে পোজ দেন, কিন্তু ঘরের চার দেওয়ালের মাঝে তাঁরা যেন একেকটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। এই সম্পর্কগুলোতে ভালবাসা, আদরের চেয়ে ব্যবসায়িক চুক্তিই বেশি।
সীমির দাবি, বিচ্ছেদ হলে ব্র্যান্ড ভ্যালু কমে যাবে, এই ভয়েই অনেকে শারীরিক আকর্ষণহীন এই সম্পর্ক বয়ে বেড়াচ্ছেন। আর এখান থেকেই উৎপত্তি পরকীয়ার! সীমির দাবি, বাড়িতে স্বামীর থেকে পর্যাপ্ত সময়, শারীরিক সুখ এবং মানসিক সমর্থন না পাওয়ায় অনেক ‘স্টার ওয়াইফ’ই শরীরী সুখ খোঁজেন বাড়ির বাইরে।
এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে সীমি ইঙ্গিত করেছেন এক জনপ্রিয় সুপারস্টারের স্ত্রীর দিকে, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে স্বামীর অবহেলার শিকার ছিলেন। ওই সুপারস্টার অভিনেতা নিজের কেরিয়ার এবং একাধিক সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে এতটাই মশগুল ছিলেন যে, তাঁর স্ত্রী এক সময় চূড়ান্ত অবসাদে ডুবে যান। সীমি চন্দকের দাবি অনুযায়ী, সেই একাকীত্ব কাটাতে ওই তারকা-পত্নী তাঁর ব্যক্তিগত জিম ট্রেনারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী এক যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এটি বলিউডের সেই ‘সেক্সলেস’ ম্যারেজের একটি বড় উদাহরণ যেখানে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের পরকীয়া সম্পর্কে অবগত থাকলেও ‘ইমেজ’ বাঁচাতে চুপ করে রয়েছেন।
সীমি তাঁর সাক্ষাৎকারে এমন এক দম্পতির কথা উল্লেখ করেছেন যারা বলিউডের অন্যতম শক্তিশালী জুটি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু তাঁদের মধ্যে কোনও শারীরিক সম্পর্ক নেই। তাঁরা একে অপরের সঙ্গে একটি অলিখিত চুক্তিতে আবদ্ধ। সীমি জানান, এই তারকা-পত্নী প্রায়শই বিদেশের ট্রিপে যান তাঁর বিশেষ পুরুষ বন্ধুদের সঙ্গে, আর অভিনেতা স্বামী ব্যস্ত থাকেন উঠতি মডেলদের নিয়ে।
বলিউডে রয়েছে আরও এক অভিনেতা দম্পতি। যাঁরা একই ফ্ল্যাটে থাকেন ঠিকই, কিন্তু তাঁদের বেডরুম আলাদা। সীমি চন্দকের মতে, এই ধরনের দম্পতিদের জন্য বাড়িটা কেবল একটা ঠিকানা। তাঁরা ডাইনিং টেবিলে একসঙ্গে বসে ডিনার করেন না, এমনকি মাসের পর মাস তাঁদের মধ্যে কোনও শারীরিক স্পর্শও হয় না। অথচ ক্যামেরার সামনে এরাই সবথেকে বেশি রোমান্টিক পোজ দেন।
তা এমনটা কেন ঘটছে বলিপাড়ায়?
আসলে পর্দায় নিজেদের ফিটফাট দেখাতে বেশিরভাগ হিরোই জিমে গিয়ে কসরতের পাশাপাশি অতিরিক্ত স্টেরয়েড নেন। সঙ্গে অতিরিক্ত নেশা তো রয়েইছে। সেই নেশা, স্টেরয়েডের দাপটে হিরোদের পর্দায় যতটা উত্তেজক লাগে, বাস্তবে তাঁরা ঠিক ততটাই শীতল। এছাড়াও, নাম না করে বলিউডের তিন খান ও আরও কয়েক জন উল্লেখযোগ্য হিরোদের ইঙ্গিত করে সীমি বলেছেন, আমাদের স্টারদের গড় বয়স তো ষাটের উপরে, তাহলে তারা আর কীভাবেই বা যৌনতায় সক্রিয় থাকবেন! এছাড়াও, স্টারদের আত্মরতি অর্থাৎ নিজেতে মগ্ন থাকাও এই যৌনতা বিহীন দাম্পত্যের একটা কারণ হিসাবে দর্শিয়েছেন এই সুপরিচিত বলিউড সাংবাদিক।
