বাদ চিরঞ্জিৎ-কাঞ্চন, তৃণমূলের তালিকায় এবার স্টার প্রার্থী কারা?

বারাসতের দীর্ঘদিনের বিধায়ক চিরঞ্জিৎ আগেই রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, অন্যদিকে কাঞ্চন মল্লিককে নিয়েও দলের অন্দরে সমীকরণ বদলাচ্ছে। সেই জল্পনাতেই সিলমোহর পড়ল মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেসের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায়। দেখা গেল ২৯১ কেন্দ্রে প্রার্থী তালিকায় বাদ পড়লেন চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী এবং কাঞ্চন মল্লিক।

বাদ চিরঞ্জিৎ-কাঞ্চন, তৃণমূলের তালিকায় এবার স্টার প্রার্থী কারা?

|

Mar 17, 2026 | 7:42 PM

বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার অনেক আগেই রাজনীতির অন্দরে শুরু হয়েছিল তীব্র জল্পনা। সূত্রের খবর ছিল, এবার বেশ কয়েকজন তারকা বিধায়ককে টিকিট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। এই তালিকায় সবথেকে বড় চমক ছিল অভিনেতা চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী এবং উত্তরপাড়ার বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক। বারাসতের দীর্ঘদিনের বিধায়ক চিরঞ্জিৎ আগেই রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, অন্যদিকে কাঞ্চন মল্লিককে নিয়েও দলের অন্দরে সমীকরণ বদলাচ্ছে। সেই জল্পনাতেই সিলমোহর পড়ল মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেসের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায়। দেখা গেল ২৯১ কেন্দ্রে প্রার্থী তালিকায় বাদ পড়লেন চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী এবং কাঞ্চন মল্লিক। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে চিরঞ্জিতের বদলে বারাসত কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের হয়ে লড়বেন সব্যসাচী দত্ত। শ্রীরামপুরের সাংসদ ও তৃণমূলপন্থী আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরপাড়া কেন্দ্রে কাঞ্চন মল্লিকের বদলে তৃণমূলের টিকিট পেয়েছেন।

কাঞ্চন মল্লিকের টিকিট না পাওয়া নিয়ে যখন রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে ছিল, তখন টিভি নাইন বাংলাকে কাঞ্চন বলেছিলেন, ”কাঞ্চন মল্লিককে এমনিতে সবাই চেনে অভিনেতা হিসেবেই, সেই চর্চাটা চলে গেলে, জল থেকে যদি মাছকে বের করে দেওয়া হয়, আমার সেরকমই হবে। আমি ধন্যবাদ জানাব সবাইকেই। আমার তো আলাদা একটা পরিচিতি রয়েছে। ধন্যবাদ জানাব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। একজন শিল্পীকে, শিল্পীর সম্মান দিয়ে, বিধায়ক হিসেবে কাজ করেছি। সেই টুকু সুযোগ সুবিধা দিয়েছেন, আমার অঞ্চলের লোকেরা দিয়েছেন। যাতে আমি সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারি। তার জন্য ধন্যবাদ।”

কাঞ্চন আরও বলেছিলেন, ”কাঞ্চন মল্লিক প্রথমবারই টিকিট পাওয়ার জন্য তদবির করিনি, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধেই দাঁড়িয়ে ছিলাম, আমি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব, তিনি আমাকে এই সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার কার্য তালিকা প্রকাশ করব এবং সবথেকে বড় কথা হল, তৃণমূল কংগ্রেস একটা দল, কারও একার সম্পত্তি নয়। আমার ইচ্ছেতে সব কাজ হবে না। শীর্ষ নেতৃত্ব যা ঠিক করবেন, তাই মেনে নেব।”

আসন্ন বিধানসভায় তৃণমূলের তারকা প্রার্থী কারা?

মঙ্গলবার প্রকাশিত তৃণমূল কংগ্রেসের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকার দিকে চোখ রাখলে স্পষ্ট হচ্ছে, এবার নতুন তারকা মুখ নেই। বরং পুরনো স্টার ম্যাজিকের উপরই ভরসা রেখেছেন যে তৃণমূল সুপ্রিমো তা একেবারে স্পষ্ট। যেমন, পরিচালক রাজ চক্রবর্তী রইলেন ব্যারাকপুর কেন্দ্রেই, অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় রইলেন বরাহনগরেই, সঙ্গীতশিল্পী অদিতি মুন্সী রইলেন রাজারহাট-গোপালপুরে, অভিনেত্রী লাভলি মৈত্র রইলেন সোনারপুর দক্ষিণেই। তবে অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীর বদল হল কেন্দ্র। ২১-এর বিধানসভায় চণ্ডীপুর থেকে তৃণমূলের হয়ে ভোটে লড়েছিলেন সোহম। আর এবার তাঁর লড়াইয়ের কেন্দ্র করিমপুর। অন্যদিকে, তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় এবার নিউ এন্ট্রি সাধন পাণ্ডেকন্যা শ্রেয়া পাণ্ডে। মানিকতলা কেন্দ্র থেকে টিকিট পেয়েছেন শ্রেয়া।

দ্বিতীয়বার টিকিট পেয়ে রাজ চক্রবর্তী জানালেন, ”ধন্যবাদ জানাব আমাদের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আমাদের দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আমার উপর দ্বিতীয়বারও আস্থা রাখার জন্য। আমি ধন্যবাদ জানাব আমার বিধানসভা কেন্দ্রের সমস্ত মানুষকে। যাঁদের সঙ্গে আমি গত পাঁচবছর ধরে কাজ করে আসছি। যেকোনও প্রয়োজনে আমি তাঁদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। অনেক কাজ বাকি রয়েছে, তা যেন পূরণ করতে পারি। ভালো লাগছে। এবারের লড়াইটা কঠিন, যে অশুভ শক্তি ও বিজেপি শক্তি, তাঁদের যে প্রভাবিত করার রাজনীতি, সমস্ত এজেন্সি, প্রচুর পয়সার পাহাড় নিয়ে এসেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। কিন্তু মানুষ আমাদের সঙ্গে রয়েছে।”

শ্রেয়া পাণ্ডের কথায়, ”আমি ভালো করে কাজ করার চেষ্টা করব। আমি কৃতজ্ঞ, দলের কাছে, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। দলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। যেভাবে আমার বাবা ও মা কাজ করেছে। আমার কেন্দ্রে যেভাবে মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছি, আরও ভালো করে মানুষের সমস্যা বুঝে কাজ করার চেষ্টা করব।”

সায়ন্তিকা বললেন, ”উপনির্বাচনে আমি জিতে ছিলাম। বরাহনগরবাসীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এবার আমি দলের কাছে কৃতজ্ঞ। মুখমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে কৃতজ্ঞ যে তাঁরা আমার উপর ভরসা ও বিশ্বাস করেছেন। দেড় বছর ধরে কাজ করেছি। ভবিষ্যতেও করব। আমার কাছে কাজের বিকল্প কিছু হতে পারে না।”

সোহম জানালেন ”করিমপুরের মানুষজন, সেখানকার যাঁরা নেতৃত্বরা রয়েছেন, তাঁরা সবাই আমাকে সাহায্য করবেন। আশীর্বাদ করবেন, স্নেহ করবেন, আমাদের একটাই লক্ষ্য যাঁরা আমাদের অধিকার নিয়ে নয়, ছয় খেলছে, নাগরিকত্ব কেড়ে নিচ্ছে, আমাদের অস্তিত্ব কেড়ে নিচ্ছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করে, আমরা বাংলা থেকে তাঁদেরকে নিশ্চিহ্ন করব গণতান্ত্রিকভাবে।”

 

 

 

Follow Us