স্ক্রিনে ছবি আঁকতেন বুদ্ধদা, ওঁর সিনেমা রয়ে গেল: পঙ্কজ ত্রিপাঠি

আমি সত্যিই খুব ভাগ্যবান সাতদিন শিমুলতলায় বুদ্ধদার সঙ্গে ছিলাম। অনেক কিছু শিখতে পেরেছিলাম। ক্রাফ্ট বলুন, লেখা বা সিনেমা, উনি মাস্টার ছিলেন।

স্ক্রিনে ছবি আঁকতেন বুদ্ধদা, ওঁর সিনেমা রয়ে গেল: পঙ্কজ ত্রিপাঠি

বাংলার চলচ্চিত্রে ফের নক্ষত্রপতন। প্রয়াত পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত (Buddhadeb Dasgupta)। বৃহস্পতিবার সকাল ছ’টা নাগাদ ঘুমের মধ্যেই দক্ষিণ কলকাতায় নিজের বাসভবনে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৭৭। তাঁর স্মৃতিচারণায় TV9 বাংলাকে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার দিলেন অভিনেতা পঙ্কজ ত্রিপাঠি

বুদ্ধার সঙ্গে আমার অদ্ভুত ভালবাসার সম্পর্ক ছিল আমার। ‘আনওয়ার কা আজব কিস্যা’তে আমার মনে আছে একদিন কলকাতা থেকে মুন্সীদার ফোন এল। ‘বুদ্ধদা তোমার সঙ্গে কথা বলবেন’। কথা বললাম। বললেন, ‘একটা ছবি করছি। তোমাকে প্রয়োজন। কলকাতা চলে এস’। পরের সপ্তাহে কলকাতায় ছিলাম। তার পরের সপ্তাহে শিমুলতলা চলে গিয়েছিলাম। ক্যামিও চরিত্র ছিল। কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ ক্যামিও চরিত্র।

আমি সত্যিই খুব ভাগ্যবান সাতদিন শিমুলতলায় বুদ্ধদার সঙ্গে ছিলাম। অনেক কিছু শিখতে পেরেছিলাম। ক্রাফ্ট বলুন, লেখা বা সিনেমা, উনি মাস্টার ছিলেন। আমার মনে আছে, লম্বা টানা শট নিতেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বুদ্ধদার সঙ্গে বসে কথা বলতাম। সিনেমা তো বটেই, জীবন, দর্শন নিয়েও কথা হত। বাস্তবে শিমুলতলা যাওয়ার খুব ইচ্ছে ছিল আমার। আর এই ছবিতে আমার চরিত্রটিও বাড়ি থেকে পালিয়ে শিমুলতলা গিয়েছিল। আমি বুদ্ধদাকে বলেছিলাম, আমার বাস্তবে যেটা ইচ্ছে ছিল, সেটাই সিনেমায় হচ্ছে। ব্রিলিয়ান্ট ছিলেন। দারুণ গল্পকার। স্ক্রিনে ছবি আঁকতেন।

পরে আবার একটা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে দেখা হয়েছিল। আমি ওঁর ঘরে গিয়ে গল্প করেছিলাম। ওঁর সঙ্গে বসে গল্প করতে ভাল লাগত। ওঁকে শুনতে ভাল লাগত। ‘আনওয়ার কা আজব কিস্যা’তে আমি জানতে চেয়েছিলাম, ‘এই চরিত্রের মোটিভেশন কী? কেন পালিয়ে শিমুলতলা এল?’ বুদ্ধদা আমাকে বলেছিলেন, ‘তুমি অভিনেতা, এটা তোমার কাজ। তুমি ভাবো, কেন পালিয়ে এল’। দারুণ উত্তর দিয়েছিলেন। ভাল লেগেছিল। আজ ভারতীয় সিনেমার বড় ক্ষতি হল। আমার শ্রদ্ধা রইল। ওঁর সিনেমা রয়ে গেল। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে সে সব পড়ানো হবে।

আরও পড়ুন, ভিস্যুয়াল দিয়ে কীভাবে গল্প বলা যায় সেটা বুদ্ধদার ছবি দেখে শেখার: সুদীপ্তা চক্রবর্তী