‘দম বন্ধ হয়ে আসছে…’, ফের কী কাণ্ড ঘটালেন দেবলীনা?
আজ আমি একটু স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছি। আপনাদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, দয়া করে নোংরা ট্রোল করে আমার মানসিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করবেন না। আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম সেই দিনটিই আমার জীবনের শেষ দিন হবে, কিন্তু ভগবান আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। দয়া করে আমাকে একটু সুস্থভাবে বাঁচতে দিন।

গত কয়েকদিন ধরে যার সুরেলা কণ্ঠ আর হাসিমুখের ভ্লগ ছিল নেটপাড়ার বিনোদনের রসদ, সেই দেবলীনা নন্দী এখন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। আত্মহত্যার চেষ্টা করার পর প্রাণ ফিরে পেলেও শান্তি ফেরেনি তাঁর মনে। ফের একবার সোশ্যাল মিডিয়া লাইভে এসে বিস্ফোরক গায়িকা। তাঁর হাহাকার মেশানো কণ্ঠস্বর আর ‘দম বন্ধ হয়ে আসার’ আকুতি এখন নেটদুনিয়ার নতুন আলোচনার বিষয়।
এবার কী বললেন দেবলীনা?
শনিবার সকালে ফের লাইভে এসে দেবলীনা বলেন, “আমি যে পথটি বেছে নিয়েছিলাম, আজ বুঝতে পারছি সেটি সঠিক ছিল না। ভুল আমি করেছি, কিন্তু সেই ভুলের নেপথ্যে ছিল শুধুই ভালোবাসা। একদিকে আমার মা, আর অন্যদিকে ভালোবেসে বিয়ে করা স্বামী—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। আজ আমি একটু স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছি। আপনাদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, দয়া করে নোংরা ট্রোল করে আমার মানসিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করবেন না। আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম সেই দিনটিই আমার জীবনের শেষ দিন হবে, কিন্তু ভগবান আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। দয়া করে আমাকে একটু সুস্থভাবে বাঁচতে দিন। নিজের ভালোবাসার মানুষ আর সংসার হারিয়ে ফেলা আমার কাছে মৃত্যুসম যন্ত্রণার। আপনাদের বিষাক্ত কথায় দয়া করে আমাকে নতুন করে মেরে ফেলবেন না।
এই লাইভে দেবলীনা জানান, ”এটিই আমার প্রথম এবং শেষ বক্তব্য। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে শুয়ে আমি কীভাবে ভিডিও করছি? তাঁদের উদ্দেশ্যে জানাই, একটু ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখবেন ঘটনার দুদিন পর থেকে যখন পরিচিতরা দেখা করতে এসেছেন, তখনই ভিডিওগুলো করা হয়েছে। অনেকে চাইছেন আমি মরে যাই, এমনকি মেসেজ বা কমেন্ট করে সেটি লিখছেনও। আমি মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছি। যারা এমন বলছেন, চাইলে তাঁদের বিরুদ্ধে অনেক পদক্ষেপ নেওয়া যায়, কিন্তু বিশ্বাস করুন—আমি আর পারছি না। তাই পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি হিসেবে এই শেষ ভিডিওটি আপলোড করছি। এরপর যা বলার বা দেখানোর, তা প্রমাণসহ সঠিক জায়গায় (আইনি বা উপযুক্ত মাধ্যমে) দেখাব।
বিয়ে হয়েছে মানেই তো নিজেকে বিক্রি করে দিইনি যে নিজের পরিবারকে ছেড়ে দেব। হ্যাঁ, আমার দোষ এটাই যে নিজের দুঃখ-কষ্ট চেপে সব সময় হাসিমুখে থেকেছি। যাদের জন্য আমি কষ্ট পেয়েছি, ক্যামেরার সামনে সবসময় তাঁদের ভালোটাই তুলে ধরেছি, খারাপ দিকগুলো কখনও দেখাইনি। কিন্তু এখন প্রয়োজন পড়লে আমি সত্যটা সামনে আনব।”
