
সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। কিন্তু সেই গায়িকা দেবলীনা নন্দীর ব্যক্তিগত জীবনে এখন বইছে ঝোড়ো হাওয়া। ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর জাঁকজমক করে প্রবাহ নন্দীর সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিয়ের এক বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সেই রূপকথা যেন বিষাদে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ, দীর্ঘদিনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যারও পথ বেছে নিয়েছিলেন গায়িকা। খেয়েছিলেন ৭৮ টা ঘুমের ওষুধ! সেই ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছিল সোশাল মিডিয়া। দেবলীনার অভিযোগ, তাঁর স্বামী প্রবাহ নন্দী নাকি তাঁকে মা ও স্বামীর মধ্যে যে কোনও একজনকে বেছে নিতে বলেছিলেন। সেই টানাপোড়েনের মাঝে পড়েই নিজের জীবনকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন দেবলীনা। তবে এখন অনেকটাই শারীরিক দিক থেকে সুস্থ তিনি। ফের মঞ্চেও ফিরেছেন। আর এবার স্বামী প্রবাহ নন্দীর বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ করলেন দেবলীনা।
পাইলট স্বামীর বিরুদ্ধে আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন দেবলীনা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর থানায় স্বামী প্রবাহ নন্দী এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ (বধূ নির্যাতন) ধারায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
অভিযোগে দেবলীনা জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকেই তাঁর উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চলছিল। পারিবারিক অশান্তি ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠে। জানুয়ারি মাসে আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনার পর বিষয়টি সামনে আসে। এরপর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নোটিস পাওয়ার পরই প্রবাহ নন্দী তাঁর মা-বাবাকে নিয়ে থানায় হাজিরা দেন। তাঁরা তদন্তে সহযোগিতা করছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই মুহূর্তে কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। বধূ নির্যাতনের মামলাটি এখনও আদালতে ওঠেনি, তবে পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে এবং সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে ‘স্ত্রীধন’ হিসেবে বিয়ের সময় পাওয়া সোনার গয়না, নগদ অর্থ ও কিছু আসবাবপত্র পুলিশি সহায়তায় প্রবাহের বাড়ি থেকে ফেরত পেয়েছেন দেবলীনা।
বর্তমানে স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকছেন। পাশাপাশি প্রবাহের কাছে খোরপোশ চেয়ে আইনি আবেদনও করেছেন তিনি। ঘটনাকে ঘিরে সঙ্গীত মহল ও অনুরাগীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় পুলিশ এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করতে নারাজ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। যদিও এ প্রসঙ্গে দেবলীনা নন্দীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।