
মুক্তির মাত্র পাঁচ দিনেই বিশ্বজুড়ে ৭০০ কোটির গণ্ডি পেরিয়ে বক্স অফিসে রীতিমতো তাণ্ডব চালাচ্ছে আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ (Dhurandhar 2)। রণবীর সিংয়ের এই ব্লকবাস্টার সিক্যুয়েল একদিকে যেমন দক্ষিণী ছবির একচেটিয়া রাজত্বকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে, অন্যদিকে তেমনই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিতর্ক। এবার ২০২৬-এর তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ‘প্রোপাগান্ডা’ বা রাজনৈতিক প্রচারের অভিযোগে আইনি জটিলতায় পড়ল এই মেগাহিট ছবি।
গত ১৯শে মার্চ প্রেক্ষাগৃহে আসার পর থেকেই ছবিটির বিষয়বস্তু নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। এর আগেই জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি এই সিনেমাটিকে ‘বিজেপির নির্লজ্জ প্রোপাগান্ডা’ বলে তোপ দেগেছিলেন। এবার সেই বিতর্কের আঁচ পৌঁছল আদালতেও। তামিলনাড়ু বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে এই ছবিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন এক জনৈক আইনজীবী।
বিচারপতি সুশ্রুত অরবিন্দ ধর্মাধিকারী এবং বিচারপতি জি অরুল মুরুগানের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাকারী দাবি করেন, “এই সিনেমায় একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের আদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গিকে একতরফাভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ভোটের মুখে এমন ছবির প্রদর্শন নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধির পরিপন্থী।”
মামলাকারীর মৌখিক অভিযোগ শুনে আদালত জানিয়েছে, বিষয়টি লিখিত আকারে জমা দিলে তবেই প্রদর্শনী নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, এর আগে থলপতি বিজয়ের ‘জননয়াগন’ ছবিটিকেও একই ধরনের আইনি জটে পড়তে হয়েছিল। সেন্সর বোর্ড সেই সময় ছবিটির ছাড়পত্র আটকে পর্যালোচনার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠিয়েছিল। ‘ধুরন্ধর ২’-এর ক্ষেত্রেও কি একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে? সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
তর্ক-বিতর্ক যাই থাক, বক্স অফিসের পরিসংখ্যানে ‘ধুরন্ধর ২’ এখন অপরাজেয়। দক্ষিণী বলয়েও ছবিটির ব্যবসা ঈর্ষণীয়। তবে তামিলনাড়ুর আসন্ন নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে আদালত যদি কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেয়, তবে তা ছবির ব্যবসায়িক সাফল্যে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে।
এখন দেখার, মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়ে রণবীর সিংয়ের এই বিজয়রথ থামে কি না, নাকি ‘ধুরন্ধর ২’ সব বাধা কাটিয়ে নিজের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখে। নজর থাকবে আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকে।