‘সোজা বাড়ি চলে যান…’, ‘ধুরন্ধর ২’-এর শোয়ের মাঝেই দর্শকদের নির্দেশ সিনেমাহলের! কী ঘটল হঠাৎ?

ছবির প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর ১০ মিনিটের বিরতি দিলেও, দীর্ঘক্ষণ পার হয়ে যাওয়ার পর আর স্ক্রিনিং শুরু হয়নি। যান্ত্রিক ত্রুটির কথা বলে দর্শকদের বসিয়ে রাখা হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে গেলেও কোনো সদুত্তর না মেলায় ধৈর্য হারান দর্শকরা। অভিযোগ, মাল্টিপ্লেক্সের ভেতরেই কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন কয়েকশো মানুষ।

সোজা বাড়ি চলে যান..., ধুরন্ধর ২-এর শোয়ের মাঝেই দর্শকদের নির্দেশ সিনেমাহলের! কী ঘটল হঠাৎ?

|

Mar 19, 2026 | 2:11 PM

পরিচালক আদিত্য ধরের ‘ধুরন্ধর ২’ ঘিরে উন্মাদনা যখন তুঙ্গে, তখনই ঘটল বিপত্তি। ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় নয়ডার এক নামী মাল্টিপ্লেক্সে ছবিটির বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু যান্ত্রিক বিভ্রাট এবং কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার জেরে দর্শকদের রাতভর হয়রানির শিকার হতে হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে শেষমেশ পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

হিন্দুস্তান টাইমস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৮ মার্চ বিকেল ৫:৪৫-এর শো চলাকালীন গন্ডগোলের সূত্রপাত। ছবির প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর ১০ মিনিটের বিরতি দিলেও, দীর্ঘক্ষণ পার হয়ে যাওয়ার পর আর স্ক্রিনিং শুরু হয়নি। যান্ত্রিক ত্রুটির কথা বলে দর্শকদের বসিয়ে রাখা হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে গেলেও কোনো সদুত্তর না মেলায় ধৈর্য হারান দর্শকরা। অভিযোগ, মাল্টিপ্লেক্সের ভেতরেই কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন কয়েকশো মানুষ।

উত্তেজনা চরমে পৌঁছায় যখন দেখা যায় অডিটোরিয়াম-১-এর শো বন্ধ থাকলেও রাত ১০টার শো অন্য স্ক্রিনে চালানোর প্রস্তুতি চলছে। দর্শকরা অভিযোগ করেন, কর্তৃপক্ষ একদিকে শো বন্ধ রাখছে, অন্যদিকে দর্শকদের পাঁচ মিনিটের মধ্যে শুরু হবে বলে আস্বস্ত করে পপকর্ন ও কোল্ড ড্রিঙ্কস বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে গেলে মাল্টিপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ পুলিশ ডাকতে বাধ্য হয় এবং শেষ পর্যন্ত ওই দিনের সমস্ত শো বাতিল করা হয়।

সেক্টর ৭৮-এর ব্যবসায়ী শশাঙ্ক সিং তাঁর স্ত্রী স্বাতিকে নিয়ে এই বিশেষ শো দেখতে এসেছিলেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমরা রাত ৮টা থেকে অপেক্ষা করছি। অডিটোরিয়াম ১-এর শো বন্ধ করে দেওয়া হলেও বাকি স্ক্রিনগুলোতে সিনেমা চলছিল। এটা কেমন বিচার?”

তাঁর স্ত্রী স্বাতি আরও যোগ করেন, “ওরা বারবার বলছিল আর পাঁচ মিনিট। এই ফাঁকে আমাদের কাছে কয়েক হাজার টাকার খাবারও বিক্রি করল। খাবার বেচে ওরা টাকা কামিয়ে নিল, কিন্তু আমাদের সময় আর টিকিটের টাকার কী হবে?”

সাক্ষী শ্রীবাস্তব নামে অন্য এক দর্শক দাবি করেন, “আমি দেখলাম অন্য একটি অডিটোরিয়ামে ছবির দ্বিতীয়ার্ধ চলছে। যখন আমি প্রতিবাদ করলাম, তখন ওরা আমাকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিল! নিজেদের পাওনা গণ্ডা বুঝে নিতে চাইলে সাধারণ মানুষকে কি এভাবে হুমকি দেওয়া যায়?”

রণবীর সিংয়ের এই বিগ বাজেট ছবির মুক্তির শুরুতেই এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা দর্শকদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, মুক্তির পর মূল প্রেক্ষাগৃহগুলোতে সুষ্ঠুভাবে প্রদর্শনী চালানো সম্ভব হয় কি না।

Follow Us