১১ বছর ধরে শরীরে অসুখ পুষছেন দিলজিৎ! কী হয়েছে গায়ক-অভিনেতার?
এই ঝলমলে জীবনের আড়ালেই ২০১৫ সাল থেকে একটি শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছেন তিনি। দীর্ঘ এক দশক ধরে শরীরে রোগ বয়ে বেড়ালেও, এখন নাকি সেই কষ্টের সঙ্গেই আপস করে নিয়েছেন গায়ক। এমনকি পরিস্থিতির জন্য সবসময় ব্যাগে করে ওষুধের বাক্স নিয়ে ঘুরতে হয় তাঁকে।

গ্ল্যামার দুনিয়ার জাঁকজমক, বিশ্বজোড়া নাম আর অঢেল অর্থ— আন্তর্জাতিক স্তরে খ্যাতিসম্পন্ন তারকা ও অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জের জীবনে কোনো কিছুরই অভাব নেই। কিন্তু এই ঝলমলে জীবনের আড়ালেই ২০১৫ সাল থেকে একটি শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছেন তিনি। দীর্ঘ এক দশক ধরে শরীরে রোগ বয়ে বেড়ালেও, এখন নাকি সেই কষ্টের সঙ্গেই আপস করে নিয়েছেন গায়ক। এমনকি পরিস্থিতির জন্য সবসময় ব্যাগে করে ওষুধের বাক্স নিয়ে ঘুরতে হয় তাঁকে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই গোপন শারীরিক সমস্যার কথা খোলসা করেছেন দিলজিৎ। তিনি জানান, তাঁর পিত্তথলিতে (Gallbladder) প্রায় ১১ সেন্টিমিটারের একটি বড় পাথর রয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, গলব্লাডারের পাথর অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। তবে দিলজিৎ এই কষ্টের সঙ্গেই মানিয়ে নিয়েছেন। অস্ত্রোপচার না করানো প্রসঙ্গে গায়কের যুক্তি, “আমাকে অনেকেই অপারেশন করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু পাথরটা নিয়ে আমার এখন আর কোনও সমস্যা বা ব্যথা হচ্ছে না। তাহলে শুধু শুধু কেন শরীরে ছুরি-কাঁচি চালাতে যাব?”
তবে দিলজিৎ আরও যোগ করেন যে, তাঁর মন বলছে পাথরটি হয়তো ইতিমধ্যেই গলে বা সরে গিয়েছে। তা সত্ত্বেও সুরক্ষার খাতিরে ওষুধপত্র সবসময় সঙ্গেই রাখেন তিনি, যদিও এখন আর সেগুলোর প্রয়োজন পড়ে না। এতদিন এই ব্যধির কথা নিজের পরিবার বা বন্ধু— কাউকেই জানতে দেননি তারকা। এই প্রথমবার তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলেন।
সুস্থতার পাশাপাশি এই সাক্ষাৎকারে জীবনের এক গভীর দর্শন নিয়েও কথা বলেন দিলজিৎ। তিনি জানান, তাঁর শৈশব কেটেছে চরম অভাব ও দারিদ্রের মধ্যে। সেই কারণেই একটা সময় স্রেফ টাকার পেছনে অন্ধের মতো ছুটেছিলেন। কিন্তু আজ সাফল্যের চূড়ায় দাঁড়িয়ে তাঁর উপলব্ধি সম্পূর্ণ আলাদা। অর্থ সম্পর্কে নিজের নতুন চিন্তাধারা শেয়ার করে দিলজিৎ বলেন,”দিনশেষে এই টাকা তো এখানেই পড়ে থাকবে। কেউ তো আর মৃত্যুর পর সঙ্গে করে টাকা নিয়ে যেতে পারবে না। আমি জানি, এখন অনেকে বলবেন যে পকেটে টাকা থাকলে এমন তত্ত্বকথা বলা সহজ, আমি সেটা বুঝি। কিন্তু এটাও তো সত্যি যে, পৃথিবীর অধিকাংশ অশান্তি আর ক্ষমতার লড়াইয়ের মূলে রয়েছে এই অর্থ।”
