Dimple Kapadia on Nana Patekar: ডিম্পলের মুখে অশ্লীল সংলাপ শুনে শুটিং থামিয়ে দিয়েছিলেন নানা পাটেকর! কী ঘটেছিল সেদিন?
Dimple Kapadia remembers Nana Patekar: গত বৃহস্পতিবার ৭৫ বছর বয়সে নানার প্রয়াণের পর, ফিল্মফেয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁর সঙ্গে কাটানো সেই সোনালি দিনগুলির স্মৃতি রোমন্থন করেছেন অভিনেত্রী ডিম্পল কাপাডিয়া। নানার কাজের প্রতি চরম সততা, মাঝে মাঝে তাঁর ভয় ধরানোর মতো মেজাজ থেকে শুরু করে দুজনের মধ্যেকার মজার কান্ড—সবকিছুই ফিরে দেখেন অভিনেত্রী।

প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ পথচলা, আর তার মাঝে চার-চারটি ভিন্নধর্মী ছবি—১৯৯১ সালের ‘প্রহার’ (Prahaar) থেকে শুরু করে ‘ক্রান্তিবীর’, ‘ওয়েলকাম ২’ এবং ‘তুম মিলো তো সহী’—বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের সঙ্গে একান্তে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল বেশ রোমাঞ্চকর। গত বৃহস্পতিবার ৭৫ বছর বয়সে নানার প্রয়াণের পর, ফিল্মফেয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁর সঙ্গে কাটানো সেই সোনালি দিনগুলির স্মৃতি রোমন্থন করেছেন অভিনেত্রী ডিম্পল কাপাডিয়া। নানার কাজের প্রতি চরম সততা, মাঝে মাঝে তাঁর ভয় ধরানোর মতো মেজাজ থেকে শুরু করে দুজনের মধ্যেকার মজার কান্ড—সবকিছুই ফিরে দেখেন অভিনেত্রী।
নানা পাটেকর পরিচালিত ও অভিনীত প্রথম ছবি ‘প্রহার’-এর সুবাদেই বড় পর্দায় প্রথমবার একসঙ্গে কাজ করেছিলেন তাঁরা। নানার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা মনে করে ডিম্পল জানান, নানা যেমন একদিকে অসম্ভব জেদি ও অনিশ্চিত স্বভাবের ছিলেন, তেমনই অন্যদিকে ছবির চিত্রনাট্য ও সহ-অভিনেতাদের প্রতি তাঁর গভীর দায়বদ্ধতা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথম দিকে নানা তাঁকে এই ছবির অফার দেওয়ায় রীতিমতো অবাক হয়ে গিয়েছিলেন ডিম্পল।
অভিনেত্রীর কথায়, “উনি ছিলেন পুরোটাই মন আর ভালোবাসায় ভরা। অবশ্যই উনি আপনাকে ভয় দেখানোর বা চাপে রাখার চেষ্টা করতেন, কিন্তু সেটাকে আপনাকে স্বাভাবিকভাবেই নিতে হত। সত্যি বলতে, নানা যখন আমাকে তাঁর পরিচালিত ‘প্রহার’ ছবিতে কাস্ট করার কথা প্রস্তাব করেছিলেন, আমি তো তাজ্জব বনে গিয়েছিলাম। আমি ভাবছিলাম উনি আমার মধ্যে এমন কী দেখলেন? সেসময় তো আমার চেয়েও কত ভালো ভালো অভিনেতা ছিলেন!”
‘প্রহার’ ছবির একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল দৃশ্যের কথা মনে করে ডিম্পল জানান, মেয়ের ওপর হওয়া অন্যায়ের সেই সিকোয়েন্সটিতে তাঁকে ঠিক কীভাবে প্রস্তুত করেছিলেন পরিচালক নানা পাটেকর। “আমার মনে আছে, প্রহার ছবিতে এমন একটা দৃশ্য ছিল যেখানে আমার মেয়ের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। নানা আমাকে মানসিকভাবে চাগিয়ে তোলার জন্য নিজের জীবনের কোনও ব্যক্তিগত বা হিংসাত্মক অভিজ্ঞতার কথা কল্পনা করতে বলেছিলেন। আমি তখন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি, একেবারে ভেঙে পড়েছিলাম। আর যখন উনি নিজের মনের মতো শটটা পেয়েছিলেন, তখন নানা ভীষণ খুশি হয়েছিলেন,” জানান ডিম্পল।
নানার সঙ্গে কাজের ক্ষেত্রে মজার ও হালকা মেজাজের স্মৃতিও কম নেই। পরবর্তীকালে ‘ওয়েলকাম ২’ (Welcome 2) ছবিতে যখন তাঁরা ফের একসঙ্গে কাজ করেন, তখন নানার এক অন্য রূপ দেখেছিলেন ডিম্পল। মরুভূমির মধ্যে শুটিং চলাকালীন ছবির একটি দৃশ্যে ডিম্পলের শেষ সংলাপ ছিল— ‘মা কি আঁখ’। মনিটরের সামনে তাঁবুতে বসে সেই সংলাপটি শুনতে পেয়েছিলেন নানা। আর তা শুনেই যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছিল তাঁর!
ঘটনাটি স্মরণ করে ডিম্পল বলেন, “দৃশ্যটা এতই অদ্ভুত আর মজার ছিল! নানা বুঝতে পেরেছিলেন কিছু একটা গণ্ডগোল হচ্ছে। তক্ষুনি তিনি চিৎকার করে তাঁবু থেকে বেরিয়ে আসেন, বিরতিতে নিজের টাই খুলে ছুড়ে ফেলে দেন এবং রেগে গিয়ে বলেন, ‘প্যাক আপ! এ আবার কেমন ডায়লগ? কোনও মহিলাকে দিয়ে তুমি এই ধরনের কথা বলাতে পারো না!’”
