ভোর ৪টে! রেমালের দুর্যোগেই মন্দারমণিতে অভিনেত্রী ও প্রেমিক, তারপর যা ঘটল…
Actress Went Crazy in Remal: মন্দারমণির সমুদ্র সৈকত থেকে ঘটা করে ছবি পোস্ট করেছেন অভিনেত্রী। হাসতে- হাসতে বলেছেন, “সকলেই আমাকে বকাঝকা করছেন। আমরা রেমালকে উদযাপন করতে মন্দারমণিতেই চলে এসেছি।” ভাবুন একবার অভিনেত্রীর কথা। কে বলুন তো তিনি?

রেমালের সতর্কতা ছিল চতুর্দিকে। শুক্রবার থেকেই আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছিল সুন্দরবন, মেদিনীপুর, দক্ষিণবঙ্গের নানা জায়গায় আঁছড়ে পড়বে রেমাল ঘূর্ণিঝড়। মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নেওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছিল হাওয়া অফিস। এ সবকে তোয়াক্কা না করেই মাঝরাতে গাড়ি ছুটিয়ে মন্দারমণি ছুটলেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী। সঙ্গে তাঁর মেকআপ আর্টিস্ট প্রেমিক। তারপর মন্দারমণির সমুদ্র সৈকত থেকে ঘটা করে ছবি পোস্ট করেছেন অভিনেত্রী। হাসতে- হাসতে বলেছেন, “সকলেই আমাকে বকাঝকা করছেন। আমরা রেমালকে উদযাপন করতে মন্দারমণিতেই চলে এসেছি।” ভাবুন একবার অভিনেত্রীর কথা। কে বলুন তো তিনি?
বাংলা ধারাবাহিকের পরিচিত মুখ এই অভিনেত্রী। প্রথম সিরিয়ালে অভিনয় করেই সকলের মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। সিরিয়ালে অভিনয় করতে-করতেই মেকআপ আর্টিস্টের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তাঁর সঙ্গেই লিভিং করছেন। সদ্য ভাড়াবাড়ি ছেড়ে নতুন বাড়িও কিনেছেন জুটিতে। প্রেমিক ছুটি পায় না। তাঁর সঙ্গে সময় কাটানো হয় না। তাই নিয়ে আক্ষেপ অভিনেত্রীর মনে। শনিবার ডাবল ইউনিটে কাজ হওয়ার পর রেমাল থেকে বাঁচতে পরপর দুদিন ছুটি ঘোষণা করেছিল সিরিয়ালটি। শিল্পী এবং কলাকুশলীদের নিরাপদে রাখার জন্যই এই ব্যবস্থাপনা। কিন্তু দামাল মন কি আর মানে! রেমালকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই সোমবার ভোর চারটেতে গাড়ি ছোটালেন অভিনেত্রী এবং তাঁর মেকআপ আর্টিস্ট প্রেমিক। মন্দারমণি পৌঁছলেন ৮টার সময়।
অভিনেত্রীর নাম অহনা দত্ত। ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ ধারাবাহিকে মিশকার চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। প্রথম সিরিয়ালেই খলনায়িকার চরিত্রে অভিনয় করে একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন। জিতে নিয়েছেন হাজার-হাজার দর্শকের মন। সেই সিরিয়ালে কাজ করতে গিয়েই মেকআপ আর্টিস্ট দীপঙ্কর রায়ের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক। অহনা মন্দারমণিতে রয়েছেন এই মুহূর্তে। সঙ্গে প্রেমিক দীপঙ্কর। মন্দারমণি অবস্থিত মেদিনীপুরে। যে মেদিনীপুরে রেড অ্যালট ছিল। সমুদ্র সৈকতে হাঁটতে-হাঁটতে TV9 বাংলার সঙ্গে কথা বলেন অহনা। বলেন, “সকলেই আমাকে প্রচণ্ড বকাঝকা করছে। রবিবার আমাদের বাড়িতে কারেন্ট আসছিল-যাচ্ছিল। একদম ভাল লাগছিল না। তার উপর দীপঙ্কর তো ছুটিই পায় না। হঠাৎ পাওয়া ছুটিতে আমাদের মাথাটা ঘুরে গেল। ব্যাকপ্যাক করে দুম করে বেরিয়ে পড়লাম মন্দারমণির উদ্দেশ্যে। আগে খোঁজ নিয়ে নিয়েছিলাম সেখানকার পরিস্থিতি। দেখলাম রেমালের যতটা গর্জন ছিল, ততটা বর্ষণ হয়নি। দারুণ একটা ক্লাইমেট। ফুরফুরে হাওয়া দিচ্ছে! ঝড়ের দাপটও নেই তেমন। সত্যি বলছি, বিশ্বাস করুন, আমরা কিন্তু কোনও বিপদ মাথায় নিয়ে আসিনি। ঝুঁকি ছিল একটা ঠিকই। কিন্তু সেই ঝুঁকির কোনওটারই সম্মুখীন হইনি। একটা কথা তো মানতেই হবে–জীবন একটাই। রিস্ক না নিলে উপভোগ করব কী করে।”
