
বিতর্কের নাম ‘কেডি: দ্য ডেভিল’। ছবির একটি চটুল গানকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল, তা এবার ধর্মীয় অনুশাসনের ঘেরাটোপে পড়ল। আলিগড়ের প্রথিতযশা আলেম মুফতি মাওলানা ইব্রাহিম হোসেন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই গানে যে ধরনের ‘অশ্লীল’ এবং ‘কুরুচিকর’ দৃশ্য ব্যবহার করা হয়েছে, তা ইসলামি শিক্ষার পরিপন্থী।
ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুফতি ইব্রাহিম হোসেন সাফ জানিয়েছেন, এই ধরনের বিষয়বস্তু প্রদর্শন বা প্রচার করা ‘হারাম’ এবং ‘গুনাহ-এ-কবিরা’ (মহাপাপ)। তাঁর মতে, ধর্মীয় নীতি বিসর্জন দিয়ে এই ধরনের অশ্লীলতাকে প্রশ্রয় দেওয়া সমাজের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। বিশেষ করে যুবসমাজের ওপর এর কুপ্রভাব এবং সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
২০২৬ সালের ১৪ মার্চ মুক্তি পেয়েছিল গানটি, যার মাধ্যমে কন্নড় সিনেমায় অভিষেক হওয়ার কথা ছিল নোরা ফাতেহির। সত্তরের দশকের রেট্রো ডান্স বার-এর আদলে তৈরি এই গানে নোরার সঙ্গে পা মিলিয়েছেন সঞ্জয় দত্ত। কিন্তু মুক্তির পরেই গানের কথা এবং নোরার ‘হুক স্টেপ’ নিয়ে নেটপাড়ায় ছিছিক্কার শুরু হয়। জনরোষের মুখে পড়ে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার গানটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
সত্তরের দশকের প্রেক্ষাপটে তৈরি গানে কিছুটা খোলামেলা দৃশ্য বা দ্ব্যর্থবোধক কথা নতুন কিছু নয়। তবে দর্শকদের একাংশের দাবি, এবার সব সীমা অতিক্রম করেছেন নির্মাতারা। নোরার শরীরী বিভঙ্গ এবং গানের আপত্তিকর লিরিকস ভারতীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী বলে দাবি তুলেছিলেন নেটিজেনরা। এবার সেই আগুনেই ঘি ঢালল আলিগড়ের এই ফতোয়া।
সংসদীয় কোপ এবং ধর্মীয় ফতোয়া— এই জোড়া ফলায় বিদ্ধ হয়ে ‘কেডি: দ্য ডেভিল’-এর নির্মাতারা এখন রীতিমতো কোণঠাসা। ৩০ এপ্রিল ছবিটির মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও, এই বিতর্কিত গানটি বাদ দিয়ে ছবিটির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েই এখন চলছে জোর আলোচনা।