‘এমন হাল করব, সাত পুরুষ মনে রাখবে’, ফের হুমকি পেলেন রণবীর সিং-রোহিত শেট্টি

তদন্তে নেমে মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ জানতে পেরেছে, এই হ্যারি বক্সারের আসল নাম হরি চাঁদ। সে কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং বিদেশের মাটিতে বসে এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। এর আগে ১০ তারিখ রণবীরের ম্যানেজারের ফোনে আসা হুমকির নেপথ্যেও এই হ্যারিই ছিল বলে পুলিশের অনুমান।

এমন হাল করব, সাত পুরুষ মনে রাখবে, ফের হুমকি পেলেন রণবীর সিং-রোহিত শেট্টি

|

Feb 13, 2026 | 1:56 PM

মুম্বইয়ের সেলেব পাড়ায় এখন আর শুধু গ্ল্যামারের ঝিকিমিকি নেই, তার বদলে জেঁকে বসেছে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সেই চেনা আতঙ্ক। পরিচালক রোহিত শেট্টি এবং অভিনেতা রণবীর সিংয়ের ওপর বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কালো ছায়া এবার আরও ঘনীভূত হল। দিন কয়েক আগেই রোহিত শেট্টির বাড়িতে গুলির লড়াইয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই, শুক্রবার সকালে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি এল এই দুই তারকার কাছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার সকালে জনৈক ব্যক্তি নিজেকে ‘হ্যারি বক্সার’ পরিচয় দিয়ে একটি অডিও বার্তা পাঠান। সেখানে অত্যন্ত কুরুচিকর এবং হিংস্র ভাষায় রণবীর ও রোহিতকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, “ঠিক সময়ে লাইনে আয়, নইলে এমন হাল করব যে তোর পরবর্তী সাত প্রজন্ম মনে রাখবে।” হুমকিদাতা রণবীর সিংকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, “তুই তো খুব উপদেশ দিতে ভালোবাসিস, লোকজনকে থানায় পাঠাস অভিযোগ করতে? ঠিক আছে, তুইও অভিযোগ করেছিস, দেখে নেব। এবার কান খুলে শুনে রাখ, তোর ম্যানেজার থেকে শুরু করে তোর সমস্ত কর্মচারীদের ঠিকুজি-কুষ্ঠি আমাদের কাছে আছে। ওরা কখন বাড়ি ফেরে, কখন পরিবারের সঙ্গে থাকে— সব আমাদের নখদর্পণে। এবার তোকে সরাসরি কিছু বলব না, তোর কর্মীদের একে একে শেষ করব। তখন তোর টনক নড়বে!”

তদন্তে নেমে মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ জানতে পেরেছে, এই হ্যারি বক্সারের আসল নাম হরি চাঁদ। সে কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং বিদেশের মাটিতে বসে এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। এর আগে ১০ তারিখ রণবীরের ম্যানেজারের ফোনে আসা হুমকির নেপথ্যেও এই হ্যারিই ছিল বলে পুলিশের অনুমান। ভিপিএন (VPN) ব্যবহার করে নিজের অবস্থান লুকিয়ে সে বারবার বিটাউনের তারকাদের নিশানা করছে।

রোহিত শেট্টির বাড়ির কাচের বারান্দা গুলিতে ঝাঁজরা করে দেওয়ার পর থেকেই মুম্বই পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। ফরেনসিক রিপোর্ট এবং প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ নিশ্চিত যে, লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নিষিদ্ধ গোষ্ঠীটিই এই ঘটনার মাস্টারমাইন্ড। শুক্রবারের নতুন হুমকির পর রোহিত ও রণবীরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

বলিউড বোদ্ধাদের মতে, নয়ের দশকে দাউদ ইব্রাহিম বা আবু সালেমরা যেভাবে তারকাদের থেকে তোলাবাজি করত বা প্রাণনাশের হুমকি দিত, বিষ্ণোই গ্যাংয়ের এই অতিসক্রিয়তা ঠিক সেই ভয়ংকর স্মৃতিকেই উসকে দিচ্ছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, তবে কি মায়ানগরী আবার সেই অন্ধকার গ্যাংস্টার যুগের দিকেই এগোচ্ছে?