
২০০৫ সাল। এক নামী চ্যানেলের রিয়েলিটি শো ‘ফেম গুরুকুল’-এ অংশ নিতে মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ থেকে মুম্বই পাড়ি দিয়েছিলেন ১৮ বছরের এক তরুণ। সেদিন বিচারকদের রায়ে শীর্ষ পাঁচের তালিকায় জায়গা না পেয়ে চোখের জলে বিদায় নিতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু সেই তরুণই যে একদিন ভারতীয় সঙ্গীতজগতের ভোল বদলে দেবে, তা হয়তো সেদিন কেউ ভাবেনি। তিনি আজকের ‘মিউজিক সেনসেশন’ অরিজিৎ সিং।
ফেম গুরুকুল থেকে ছিটকে যাওয়ার পর শুরু হয় অরিজিতের আসল লড়াই। ছোটখাটো কাজ করতে করতেই তিনি সঙ্গীত পরিচালক প্রীতমের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। মূলত মিউজিক প্রোগ্রামার হিসেবেই কেরিয়ার শুরু করেছিলেন তিনি। সুরের কারিগরি আর টেকনিক্যাল খুঁটিনাটি শেখার সেই সময়টাই আজ তাঁকে অন্য গায়কদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
২০১১ সালে ‘মার্ডার ২’ ছবির ‘ফির মহব্বত’ দিয়ে প্লেব্যাক শুরু হলেও অরিজিতের ভাগ্যবদল হয় ২০১৩ সালে। পরিচালক মহেশ ভাটের ‘আশিকি ২’ ছবির গানগুলো মুক্তির পর যেন দেশে এক সুনামি আছড়ে পড়ে। ‘তুম হি হো’ গানটি অরিজিৎকে রাতারাতি সুপারস্টারে পরিণত করে। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ‘চান্না মেরেয়া’, ‘ইয়ে দিল হ্যায় মুশকিল’, ‘ফির লে আয়া দিল’ বা ‘কেসরিয়া’, গহেরা হুয়া। গত এক দশকে বলিউডের প্রতিটি ব্লকবাস্টার ছবির প্রাণভোমরা হয়ে উঠেছেন তিনি। তবে শুধুই হিন্দি গান নয়, বাংলা সিনেমার গানেও নিজেকে মেলে ধরেছিলেন ঘরের ছেলে অরিজিৎ। মানবজমিন, লহ গৌরাঙ্গের নাম ছবিগুলোর গান তাঁর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
অরিজিৎ কেবল গায়ক হিসেবেই থেমে থাকেননি। ২০২১ সালে সানিয়া মালহোত্রা অভিনীত ‘পাগলায়েত’ ছবির মাধ্যমে তিনি স্বতন্ত্র সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তাঁর সুরারোপিত গানগুলি সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়ে নেয়। সম্প্রতি তিনি নিজের মিউজিক লেবেল ‘ওরিয়ন’ (Oriyon Music) শুরু করেছেন, যেখান থেকে একের পর এক স্বাধীন সঙ্গীত বা ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিউজিক’ উপহার দিচ্ছেন তিনি।
মুম্বইয়ের ঝকঝকে দুনিয়া, কোটি টাকার গাড়ি— এসবের মাঝেও অরিজিৎ সিং আজও সেই জিয়াগঞ্জেরই ছেলে। মুম্বই ছেড়ে নিজের গ্রামেই বেশি সময় কাটান। স্কুটারে চেপে বাজারে যাওয়া বা সাধারণ পোশাকে ঘুরে বেড়ানো, তাঁর এই সারল্যই তাঁকে অন্য সব তারকাদের থেকে আলাদা এক সম্মান দিয়েছে। আজ যখন তিনি প্লেব্যাক থেকে অবসরের জল্পনা উসকে দিচ্ছেন, তখন তাঁর এই দীর্ঘ সফরটি যে কোনও তরুণ শিল্পীর কাছে এক বড় পাঠশালা।