
কথায় আছে ‘অপজিট অ্য়াট্রকস’ অর্থাৎ বিপরীত দুই জিনিসের মধ্য়েই আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি। দেবলীনা নন্দী ও তাঁর স্বামী প্রবাহ নন্দীর মধ্যে যেন সম্পর্কটা তেমনই ছিল। একজন উড়ান ভরেন আকাশে। আর একজন গানের কেরিয়ারকে আকশচুম্বী করে তুলছিলেন ধীরে ধীরে। হয়তো এই আকাশ ছোঁয়াটাই একমাত্র মিল, আর এই মিলই এতদিন বেঁধে রেখেছিল তাঁদের। না হলে, গান, সুর এসব থেকে শতহস্তে দূরে থাকেন প্রবাহ, আর অন্যদিকে, সরগমকেই জীবনের মূল ছন্দ বানিয়ে ফেলেছিলেন দেবলীনা। তাতে কি? পাইলট স্বামীর সঙ্গে গায়িকা স্ত্রীয়ের সংসারের ছন্দ কিন্তু ছিল পিয়ানোর টুংটাং। মাখো মাখো প্রেমে, মিষ্টি বেবি ডাকে সকাল থেকে রাত কাটত দেবলীনা ও প্রবাহের। দেবলীনার ভিডিয়োতে সেই গদগদ প্রেম দেখতে অভ্যস্ত ছিল দেবলীনার অনুরাগীরাও। এমনকী, সুপুরুষ প্রবাহও নিজের মতো করে সোশাল মিডিয়ায় পরিচিতি বাড়িয়ে নিয়েছিলেন।
চন্দননগরের ছেলে, দার্জিলিংয়ের ঐতিহ্যবাহী সেন্ট পলস স্কুল থেকে পড়াশুনো করেছেন প্রবাহ। পড়াশুনোয় ছিলেন একনম্বর। ছোট থেকেই ইচ্ছা ছিল আকাশে ওড়ার। পাইলট হওয়ার। নিজেকে প্রথম থেকে সেভাবেই তৈরি করেছিলেন প্রবাহ। তবে পড়াশুনোর পাশাপাশি ফুটবল ও ক্রিকেটও খেলতেন দারুণ। স্কুলের খেলার টিমে ছিলেন পাক্কা মোটিভেটর। স্কুলের গণ্ডিতে প্রচুর রেকর্ডও হাঁকিয়েছেন প্রবাহ। এই মুহূর্তে এয়ার ইন্ডিয়া বিমান সংস্থার সঙ্গে যুক্ত পাইলট প্রবাহ নন্দী কেরিয়ারের শুরুতে মুম্বইয়ে কাটিয়েছেন। তারপর কলকাতা। টাইট শিডিউলের মধ্য়েও স্ত্রীকে যতটা সম্ভব সময় দিতেন। দেবলীনার ভ্লগে মাঝে মধ্যে ফুটে উঠত দুজনের মাখো মাখো প্রেমে, দাম্পত্যের নানা ছবি। রাজারহাটের এক আবাসনেই থাকতেন দুজনে। মাঝে মধ্যেই আসতেন দেবলীনা ও প্রবাহের অভিভাবকরা। সে ছবিও ফুটে উঠত দেবলীনার ফেসবুকে।
শোনা যায়, দেবলীনার সঙ্গে প্রবাহের পরিচয় সোশাল মিডিয়া সূত্রেই। তারপর বন্ধুত্ব, ভাললাগা, প্রেম এবং বিয়ে। ২০২৪ -এ জমজমাট বিয়েতে বাঁধা পড়েন দেবলীনা ও প্রবাহ। প্রথম থেকেই স্ত্রীয়ের পেশাকে সমর্থন করেছেন। পাশে দাঁড়িয়েছেন। স্ত্রীয়ের পেশার সঙ্গে জড়িত নানা গল্পও মাঝে মধ্য়ে শেয়ার করতেন দেবলীনার ভ্লগে। অবশ্য সাম্প্রতিক বিতর্ক নিয়ে দেবলীনা নানা কথা বললেও, এখন পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি প্রবাহর।