ঘরছাড়া মহেশ ভাটকে আটকাতে নগ্ন হয়ে রাস্তায় ছুটেছিলেন পরভিন বাবি! কেন এই ঘটনা নিয়ে বলিউড আজও ‘চুপ’?
মহেশ ভাট তখন বিবাহিত, স্ত্রী কিরণ আর ছোট্ট মেয়ে পূজা ভাটকে নিয়ে তাঁর সংসার। কিন্তু পরভিনের প্রেমের টানে সব ছেড়ে বেরিয়ে আসেন মহেশ। মুম্বইয়ের পালি হিলের এক ফ্ল্যাটে শুরু হয় তাঁদের লিভ-ইন। প্রথম দিকে সেই বসন্ত রঙিন হলেও খুব দ্রুত সেখানে ঘনিয়ে আসে কালবৈশাখী। মহেশ ভাট পরবর্তীতে স্বীকার করেছিলেন, ভালোবাসার মানুষটিকে চোখের সামনে বদলে যেতে দেখাটা ছিল বিভীষিকার মতো।

সত্তরের দশকের বলিউড। পর্দা কাঁপানো রূপসী পরভিন ববি তখন সাফল্যের মধ্যগগনে। পরিচালকদের প্রথম পছন্দ থেকে শুরু করে ম্যাগাজিনের কভার পেজ— সর্বত্রই তাঁর জয়জয়কার। কিন্তু সেই লাবণ্যময়ী হাসির আড়ালে যে মানসিক রক্তক্ষরণ চলছিল, তার খবর রাখেনি কেউ। পরিচালক মহেশ ভাটের সঙ্গে তাঁর প্রেম আজও বলিউডের ইতিহাসে এক কালজয়ী বিষাদ হয়ে রয়ে গিয়েছে।
মহেশ ভাট তখন বিবাহিত, স্ত্রী কিরণ আর ছোট্ট মেয়ে পূজা ভাটকে নিয়ে তাঁর সংসার। কিন্তু পরভিনের প্রেমের টানে সব ছেড়ে বেরিয়ে আসেন মহেশ। মুম্বইয়ের পালি হিলের এক ফ্ল্যাটে শুরু হয় তাঁদের লিভ-ইন। প্রথম দিকে সেই বসন্ত রঙিন হলেও খুব দ্রুত সেখানে ঘনিয়ে আসে কালবৈশাখী। মহেশ ভাট পরবর্তীতে স্বীকার করেছিলেন, ভালোবাসার মানুষটিকে চোখের সামনে বদলে যেতে দেখাটা ছিল বিভীষিকার মতো।
শোনা যায়, অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে কাজ করার সময় থেকেই পরভিনের মনে দানা বাঁধে এক অদ্ভুত আতঙ্ক। অমিতাভ তাঁকে মেরে ফেলতে চান— এই কাল্পনিক ভয়ে কার্যত সিঁটিয়ে থাকতেন তিনি। মহেশ ভাটের সঙ্গে তাঁর ঝগড়ার কেন্দ্রেও চলে আসতেন বিগ বি। মহেশ যখন অতিষ্ঠ হয়ে ঘর ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন ঘটেছিল এক শিউরে ওঠা ঘটনা। মহেশকে আটকাতে সেদিন মাঝরাস্তায় পোশাকহীন অবস্থায় দৌড়েছিলেন পরভিন। উন্মাদনার সেই চরম শিখরে পৌঁছে যাওয়া নায়িকাকে সেদিন ফেরাতে পারেননি মহেশ।
মহেশ ভাট জানিয়েছিলেন, পরভিন আসলে আক্রান্ত হয়েছিলেন ‘প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিয়া’য়। এক জটিল মানসিক ব্যাধি, যা তাঁকে রক্তমাংসের মানুষ থেকে এক চলন্ত বিভীষিকায় পরিণত করেছিল। তিনি সন্দেহ করতেন তাঁর খাবারে বিষ আছে, তাঁকে কেউ নজরবন্দি করে রেখেছে। এই অবসাদ আর একাকিত্ব তাঁকে চার দেওয়ালের মাঝে বন্দি করে ফেলেছিল।
২০০৫ সালের জানুয়ারি মাস। জুহুর সেই অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে যখন পরভিন ববির দেহ উদ্ধার হয়, তখন পচন ধরতে শুরু করেছে শরীরে। টানা তিনদিন দরজার বাইরে দুধের প্যাকেট আর খবরের কাগজ জমে থাকায় সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। যে নায়িকার ইশারায় এক সময় বলিউড চলত, তাঁর শেষ যাত্রায় পাশে থাকার মতো কেউ ছিল না। মহেশ ভাট সেদিন পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। পরভিনের এই করুণ পরিণতি আজও বলিউডকে মনে করিয়ে দেয়— আলোর নিচে অন্ধকারের গভীরতা কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে।
