দোলের দিনটা কেমন করে কাটাতেন উত্তম কুমার? সুচিত্রাকে কি কখনও রং মাখিয়ে ছিলেন মহানায়ক?

দোলের সকালে ধবধবে সাদা পাঞ্জাবিতে উত্তম কুমার যখন বারান্দায় এসে দাঁড়াতেন, তখনই যেন বসন্তের পূর্ণতা পেত অনুরাগী মহল। আবিরের রাঙা ছোঁয়ায় তিনি হয়ে উঠতেন আরও মোহময়। তবে কেবল রঙ খেলাই নয়, অতিথিদের জন্য নিজে হাতে শরবত বানানো থেকে শুরু করে কবজি ডুবিয়ে খাওয়া-দাওয়া সবটাই ছিল মহানায়কের নিজস্ব মেজাজে।

দোলের দিনটা কেমন করে কাটাতেন উত্তম কুমার? সুচিত্রাকে কি কখনও রং মাখিয়ে ছিলেন মহানায়ক?

|

Mar 02, 2026 | 2:40 PM

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের তালিকায় বসন্তোৎসব বা দোলযাত্রার এক আলাদা মহিমা রয়েছে। আর যখন বাঙালির উৎসবের কথা ওঠে, তখন অবধারিতভাবে নাম আসে সেই চিরন্তন ধ্রুবতারার— উত্তম কুমার। রুপোলি পর্দার ‘রোমান্টিক হিরো’র ব্যক্তিগত জীবনে এবং সেলুলয়েডের ফ্রেমে দোলযাত্রা কীভাবে মিলেমিশে গিয়েছিল, দোলের আবহে ফিরে দেখা যাক সেই স্মৃতি।

সেই সময়কার বিনোদনমূলক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, উত্তম কুমারের কাছে দোল মানেই ছিল ময়রা স্ট্রিটের বাসভবনে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর রঙের উৎসবে মেতে ওঠা। চলচ্চিত্র জগতের সহকর্মী থেকে শুরু করে পাড়ার সাধারণ মানুষ মহানায়কের আঙিনায় অবারিত দ্বার ছিল সকলের জন্য। শোনা যায়, দোলের সকালে ধবধবে সাদা পাঞ্জাবিতে উত্তম কুমার যখন বারান্দায় এসে দাঁড়াতেন, তখনই যেন বসন্তের পূর্ণতা পেত অনুরাগী মহল। আবিরের রাঙা ছোঁয়ায় তিনি হয়ে উঠতেন আরও মোহময়। তবে কেবল রঙ খেলাই নয়, অতিথিদের জন্য নিজে হাতে শরবত বানানো থেকে শুরু করে কবজি ডুবিয়ে খাওয়া-দাওয়া সবটাই ছিল মহানায়কের নিজস্ব মেজাজে।

তবে শোনা যায়, মহানায়িকা সুচিত্রা সেন নাকি রং খেলায় খুব একটা মেতে উঠতেন না। পরিবারের সঙ্গেই দিনটা কাটাতেন। একদিকে যখন উত্তম, সহকর্মীদের সঙ্গে রং খেলতেন, অন্যদিকে মহানায়িকা আবির মাখতেন পরিবারের লোকজনেক সঙ্গেই।

উত্তম কুমার অভিনীত একাধিক ছবিতে দোলযাত্রা বা বসন্তের দৃশ্য এসেছে বারবার। কখনও প্রেমের রঙে রাঙাতে, কখনও বা বিরহের সুর বাঁধতে। ‘সপ্তপদী’র স্মৃতি: মনে পড়ে সেই দৃশ্য, যেখানে বসন্তের বাতাসে কৃষ্ণচূড়া আর রাধাচূড়ার রঙের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল কৃষ্ণা আর রীনার প্রেম।

‘বসন্ত বিলাপ’ থেকে ‘হারানো সুর’: মহানায়কের হাসি আর তাঁর ব্যক্তিত্ব বসন্তের গানগুলিকে এক অন্য মাত্রা দিয়েছিল। ‘ওগো নিরুপমা’র সুরে আজও বাঙালির বসন্ত দোলা দেয়। উত্তম কুমার নেই অনেক দশক হল, কিন্তু দোলের দিন আজও তাঁর পুরোনো ছবি বা গান ছাড়া বাঙালির উৎসবের আমেজ সম্পূর্ণ হয় না। অভিনেতা সুপ্রিয়া দেবীর স্মৃতিচারণায় বারবার উঠে এসেছে কীভাবে দোলের দুপুরে উত্তম কুমার গান আর মজলিশে মাতিয়ে রাখতেন সবাইকে। নিজের স্টারডমকে সরিয়ে রেখে রং খেলার আনন্দটুকুতে তিনি ছিলেন একদম সাধারণ এক বাঙালি ছেলে।