Nana Manisha Relationship: মনীষার সঙ্গে বিচ্ছেদ! ক্যামেরার সামনে হাউহাউ করে কেঁদে কী ফাঁস করেছিলেন নানা?
Nana Patekar Death: নানা পাটেকরের প্রয়াণের পর নেটদুনিয়ায় ভাইরাল তাঁর ১৯৯৭ সালের একটি পুরনো সাক্ষাৎকার। মনীষা কৈরালার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ক্যামেরার সামনে কার্যত কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন নানা। কী এমন ঘটেছিল তাঁদের মধ্যে? পুরনো সেই সাক্ষাৎকারে ঠিক কী ফাঁস করেছিলেন অভিনেতা?

বলিউডের ‘রাফ অ্যান্ড টাফ’ মানুষ তিনি। পর্দায় তাঁর হুঙ্কারে কেঁপে উঠত দর্শক। সেই নানা পাটেকর যখন হাউহাউ করে কাঁদেন, তখন অবাক হতে হয় বৈকি! গত ৮ অক্টোবর চিরঘুমের দেশে পাড়ি দিয়েছেন অভিনেতা। আর তাঁর প্রয়াণের পরই নেটপাড়ার আনাচকানাচে ঘুরপাক খাচ্ছে নব্বইয়ের দশকের এক পুরনো সাক্ষাৎকার। যেখানে নিজের ভাঙা প্রেম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন নানা। কারণটা ছিলেন মনীষা কৈরালা!
নব্বইয়ের দশকের বলিউড গসিপের পাতা উল্টালে নানা-মনীষার প্রেম বেশ চর্চিত। ‘খামোশি’ হোক বা ‘অগ্নি সাক্ষী’, পর্দায় তাঁদের রসায়ন ছিল চোখে পড়ার মতো। ‘অগ্নি সাক্ষী’ ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কারও ঝুলিতে পুরেছিলেন নানা। কিন্তু ‘যুগ পুরুষ’ ছবির শুটিং চলাকালীনই আচমকা তাল কাটে। শোনা যায়, সেই সময়ই তাঁদের সম্পর্কে চূড়ান্ত চিড় ধরে। দু’জনে হাঁটেন দুই ভিন্ন পথে। কিন্তু বিচ্ছেদের এই ধাক্কাটা একেবারেই সামলে উঠতে পারেননি নানা।
কী বলেছিলেন নানা?
১৯৯৭ সালের সেই সাক্ষাৎকারে ধরা পড়েছিল অভিনেতার এক অচেনা রূপ। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই মুখে কুলুপ আঁটতে ভালোবাসতেন তিনি। কিন্তু সেদিন আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। ধরা গলায় বলেছিলেন, “এটা একটা অত্যন্ত কঠিন পর্যায়। এই যন্ত্রণা কতটা, তা নিজে ভুক্তভোগী না হলে কারও পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। আমি এই কষ্টটা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। এই বিষয়টা নিয়ে প্লিজ কথা বলবেন না। আমি মনীষাকে বড্ড মিস করি।”
সম্পর্ক ভাঙলেও প্রাক্তন প্রেমিকার প্রতি শ্রদ্ধা বা টান, কোনওটাই কমেনি নানার। বরং মনীষার অসীম প্রতিভা নিয়ে বরাবরই উচ্ছ্বসিত ছিলেন তিনি। অভিনেত্রীকে ‘কস্তুরী মৃগ’-এর সঙ্গে তুলনা করে নানা বলেছিলেন, “মনীষা জন্মগত প্রতিভার অধিকারী। ও এই ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে সংবেদনশীল অভিনেত্রী। ওর সব আছে, কারও সঙ্গে রেষারেষিতে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই ওর।” তবে সেই সময় মনীষার অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন নিয়ে রীতিমতো চিন্তিত ছিলেন অভিনেতা। আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন, “ও নিজের সঙ্গে যা করছে, তা দেখে চোখের জল আটকে রাখা মুশকিল। হয়তো আজ ওর বিষয়ে কথা বলার কোনও অধিকারই আমার নেই।”
নানার সেই আশঙ্কাই যেন সত্যি হয়েছিল পরবর্তীতে। বহু বছর পর নিজের আত্মজীবনী ‘হিলড’-এ মনীষা নিজেই স্বীকার করে নিয়েছিলেন তাঁর মদ্যপানের আসক্তির কথা। কাজের চাপ আর ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন ভুলতেই নাকি নেশায় ডুবে থাকতেন তিনি। ডায়েটে থাকলেও তাঁর চাই মদ! এদিকে নানার প্রয়াণের খবরে শোকস্তব্ধ মনীষাও। সোশাল মিডিয়ায় শোকপ্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, “একজন মহান অভিনেতা এবং শিল্পের একনিষ্ঠ সাধকের বিদায়ে আমি গভীরভাবে শোকাহত।”
বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও স্ত্রী নীলকান্তির সঙ্গে আলাদা থাকতেন নানা। তাঁদের আইনি বিচ্ছেদ হয়নি। অন্যদিকে, ২০১০ সালে ব্যবসায়ী সম্রাট দাহালকে বিয়ে করলেও মনীষার সংসারও টেকেনি বেশিদিন। আজ নানা নেই, কিন্তু রয়ে গিয়েছে ফেলে আসা সেই দিনগুলোর স্মৃতি। আর সেই পুরনো আক্ষেপগুলোই আজ ফের নতুন করে মন ছুঁয়ে গিয়েছে নেটিজেনদের।
