AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

সুকেশের ২০০ কোটির কেলেঙ্কারি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে আবেদন সরালেন জ্যাকলিন, জানেন কেন?

এর আগে মামলাটি বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি অতুল এস. চান্দুরকরের বেঞ্চে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু বিচারপতি মিশ্র আদালতকে জানান, এই মামলার সাথে যুক্ত একটি বিষয়ে তাঁর ছেলে সরকারের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। নৈতিক কারণে তাই তিনি নিজে এই শুনানি থেকে সরে দাঁড়ান এবং মামলাটি অন্য বেঞ্চে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন।

সুকেশের ২০০ কোটির কেলেঙ্কারি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে আবেদন সরালেন জ্যাকলিন, জানেন কেন?
| Updated on: Jun 25, 2026 | 3:15 PM
Share

২০০ কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের মামলায় আইনি কৌশল বদল করলেন বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ়। আপাতত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার রাস্তা থেকে নিজেই পিছিয়ে এলেন তিনি। বৃহস্পতিবার দেশের শীর্ষ আদালত অভিনেত্রীকে তাঁর বিশেষ অনুমতির আবেদন (SLP) প্রত্যাহার করার অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর চার্জশিট ও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বাতিলের যে আর্জি জ্যাকলিন জানিয়েছিলেন, তা আর সুপ্রিম কোর্টে খতিয়ে দেখা হবে না।

এদিন বিচারপতি বি. ভি. নাগরত্ন এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে জ্যাকলিনের আইনি পরামর্শদাতারা আবেদনটি তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানান। আদালত সেই আবেদনে সাড়া দিয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে মামলাটি বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি অতুল এস. চান্দুরকরের বেঞ্চে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু বিচারপতি মিশ্র আদালতকে জানান, এই মামলার সাথে যুক্ত একটি বিষয়ে তাঁর ছেলে সরকারের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। নৈতিক কারণে তাই তিনি নিজে এই শুনানি থেকে সরে দাঁড়ান এবং মামলাটি অন্য বেঞ্চে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন।

দিল্লি হাই কোর্ট যখন ইডি-র চার্জশিট ও নিম্ন আদালতের অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া খারিজ করতে অস্বীকার করে, তখন সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই সুপ্রিম কোর্টের দরজায় কড়া নেড়েছিলেন জ্যাকলিন। তবে আইনি লড়াইয়ের মাঝপথেই সেই আবেদন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিলেন অভিনেত্রী। এর সপ্তাহখানেক আগেই এই মামলায় ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদনও গুটিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। সে সময় ইডি তীব্র বিরোধিতা করে দাবি করেছিল, তদন্তে জ্যাকলিনের ভূমিকা সন্তোষজনক ছিল না এবং তিনি আসল সত্য আড়াল করছেন।

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি-র মূল অভিযোগ, কুখ্যাত প্রতারক সুকেশ চন্দ্রশেখরের জালিয়াতির খতিয়ান জানার পরেও জ্যাকলিন তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখেছিলেন। সুকেশ সেই কালো টাকা ব্যবহার করে অভিনেত্রীকে দামি উপহার ও বিলাসবহুল সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিলেন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭ কোটি টাকা।

যদিও শুরু থেকেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন জ্যাকলিন। তাঁর পাল্টা যুক্তি, সুকেশের অপরাধের জগৎ বা উপহারের পেছনে থাকা বেআইনি অর্থের উৎস সম্পর্কে তাঁর বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না। সম্প্রতি দিল্লির পটিয়ালা হাউস আদালতে সশরীরে হাজিরা দিয়েও তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং স্পষ্ট জানান, তিনি যেকোনো আইনি ট্রায়াল বা বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পুরোপুরি প্রস্তুত।

জ্যাকলিন ছাড়াও এই হাই-প্রোফাইল মামলায় সুকেশ চন্দ্রশেখর, তার স্ত্রী লীনা মারিয়া পল সহ আরও ১৪ জনের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্ত প্রত্যেকেই অবশ্য নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেছেন। আগামী ১৬ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে। ফলে সুপ্রিম কোর্ট অধ্যায় শেষ হওয়ায় জ্যাকলিনের আইনি লড়াইয়ের জল এবার কোন দিকে গড়ায়, তা দেখতে নজর থাকবে নিম্ন আদালতের দিকেই।

Follow Us