‘ঘরভাঙানি’ বলা হত শ্রীদেবীকে , মায়ের কঠিন লড়াই নিয়ে মুখ খুললেন জাহ্নবী
শ্রীদেবীর চলে যাওয়া জাহ্নবীর জীবনে শুধু মাতৃহারা হওয়ার শোক নয়, নিয়ে এসেছে আরও এক বড় ধাক্কা। জাহ্নবী জানান, মায়ের মৃত্যুর দিন তিনি কেবল মা-কে হারাননি, হারিয়েছেন বাবার সেই রূপটাকেও যা শ্রীদেবীর উপস্থিতিতে থাকত। বনি কাপুর আজ আর আগের মতো নেই। মায়ের ওপর অসম্ভব নির্ভরশীল ছিলেন জাহ্নবী— কী পরবেন থেকে কী ভাববেন, সবটাই ঠিক করে দিতেন শ্রীদেবী।

গ্ল্যামার, জনপ্রিয়তা আর রুপোলি পর্দার জৌলুসে মোড়া এক জীবন। কিন্তু সেই রূপকথার আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক গভীর ক্ষত। মৃত্যুর এতগুলো বছর পার হয়ে গেলেও মা শ্রীদেবীকে নিয়ে আজও জাহ্নবী কাপুরের মনে জমাট বেঁধে আছে একরাশ অভিমান আর যন্ত্রণা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মনের আগল খুলে দিলেন জাহ্নবী। সোজাসাপ্টা বললেন, বেঁচে থাকাকালীন তাঁর মা-কে কতটা নিষ্ঠুরতার শিকার হতে হয়েছিল। এমনকি শ্রীদেবীর কপালে জুটেছিল ‘ঘরভাঙানি’ তকমাও।
জাহ্নবী জানান, সেই সময় সমাজ শ্রীদেবীর প্রতি বিন্দুমাত্র সদয় ছিল না। বনি কাপুরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে কাটাছেঁড়া চলত প্রতিনিয়ত। জাহ্নবীর কথায়, “আমি দেখেছি সেই সময়টা। মা যখন বেঁচে ছিলেন, মানুষ ওঁর প্রতি একেবারেই দয়ালু ছিল না। ওঁকে ঘরভাঙানি বলা হত, আরও কত নিষ্ঠুর কথা শুনতে হত মাকে।” আশ্চর্যের বিষয় হল, শ্রীদেবী কখনও এই যন্ত্রণার আঁচ তাঁর সন্তানদের গায়ে লাগতে দেননি। ছোটবেলা থেকে জাহ্নবী ও খুশিকে তিনি আগলে রাখতেন আর শোনাতেন কেবল সংগ্রামের সফলতার গল্প।
সাক্ষাৎকারে এক আবেগঘন মুহূর্তে জাহ্নবী ক্ষমা চেয়ে নেন মায়ের কাছে। তিনি স্বীকার করেন, ছোটবেলায় মায়ের লড়াইগুলো বোঝার ক্ষমতা তাঁর ছিল না। চার বছর বয়স থেকে কাজ শুরু করা শ্রীদেবী আর্থিক ও পেশাদার জীবনের যে টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন, তা আজ বড় হয়ে বুঝতে পারছেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায় “আমি এখন ওকে বুঝতে পারছি। আগে কেন বুঝিনি, সেই আক্ষেপটাই থেকে যাবে,”।
শ্রীদেবীর চলে যাওয়া জাহ্নবীর জীবনে শুধু মাতৃহারা হওয়ার শোক নয়, নিয়ে এসেছে আরও এক বড় ধাক্কা। জাহ্নবী জানান, মায়ের মৃত্যুর দিন তিনি কেবল মা-কে হারাননি, হারিয়েছেন বাবার সেই রূপটাকেও যা শ্রীদেবীর উপস্থিতিতে থাকত। বনি কাপুর আজ আর আগের মতো নেই। মায়ের ওপর অসম্ভব নির্ভরশীল ছিলেন জাহ্নবী— কী পরবেন থেকে কী ভাববেন, সবটাই ঠিক করে দিতেন শ্রীদেবী। হঠাৎ সেই অবলম্বন সরে যাওয়ায় খেই হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি।
জাহ্নবী অকপটে স্বীকার করেছেন যে, তিনি এখনও ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। শ্রীদেবীর মৃত্যুর পর যে প্রবল জনরোষ এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছিল, তা তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দিয়েছিল। এমনকি ভুল মানুষের ওপর ভরসা করে জীবনের ঝুঁকিও নিয়েছিলেন একটা সময়। জাহ্নবীর মতে, আজ যদি শ্রীদেবী ফিরে আসতেন, তবে হয়তো নিজের মেয়েকে চিনতেই পারতেন না। কারণ, পরিস্থিতির চাপে পড়ে বদলে গিয়েছেন আজকের জাহ্নবী।
