Amitabh Bachchan: অমিতাভকে ‘শেহেনশাহ’ বানিয়েছিলেন জয়া! বিগ বি-র ভাগ্য খোলার এই গল্প খুব কম লোকেই জানেন
তবে ‘শেহেনশাহ’-এর মুক্তি মোটেও মসৃণ ছিল না। সেই সময় অমিতাভ বচ্চনের নাম ‘বোফর্স কেলেঙ্কারি’-তে জড়িয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছিল। অনেক জায়গায় ছবিটির প্রদর্শন নিষিদ্ধ করার দাবি ওঠে। কিন্তু ছবি মুক্তি পেতেই সেই সমস্ত বিতর্ক ধুয়ে মুছে যায় এবং দর্শকরা তাঁদের প্রিয় নায়ককে দুহাত ভরে আশীর্বাদ করেন।

বলিউডের ‘শাহেনশাহ’ বললেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে সেই বিখ্যাত লেদার জ্যাকেট আর রুপোলি চুলের এক অবিস্মরণীয় অবয়ব। কিন্তু অমিতাভ বচ্চনের কেরিয়ারের এই অন্যতম মাইলফলক ছবিটির সাফল্যের কারিগর ছিলেন স্বয়ং তাঁর ঘরনি জয়া বচ্চন। খুব কম মানুষই জানেন যে, ১৯৮৮ সালে মুক্তি পাওয়া এই ব্লকবাস্টার ছবিটির মূল গল্প লিখেছিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী জয়া বচ্চন।
পরিচালক টিনু আনন্দের ছবি ‘শেহেনশাহ’-এর মূল ভিত্তি ছিল এর চিত্রনাট্য। জয়া বচ্চন সেই সময় অমিতাভের ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’ ইমেজ এবং সাধারণ মানুষের রক্ষাকর্তা বা ‘মসিহা’ রূপটিকে মাথায় রেখেই গল্পের বুনন তৈরি করেছিলেন। ছবির সেই কালজয়ী সংলাপ— ‘রিস্তে মে তো হাম তুমহারে বাপ লাগতে হ্যায়, নাম হ্যায় শেহেনশাহ’— আজও আট থেকে আশি সবার মুখে মুখে ঘোরে। সেই বছর বক্স অফিসে উপচে পড়া ভিড় সামলাতে পুলিশ হিমশিম খেয়েছিল এবং ছবিটি সেই বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী ছবি হিসেবে রেকর্ড গড়ে।
তবে ‘শেহেনশাহ’-এর মুক্তি মোটেও মসৃণ ছিল না। সেই সময় অমিতাভ বচ্চনের নাম ‘বোফর্স কেলেঙ্কারি’-তে জড়িয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছিল। অনেক জায়গায় ছবিটির প্রদর্শন নিষিদ্ধ করার দাবি ওঠে। কিন্তু ছবি মুক্তি পেতেই সেই সমস্ত বিতর্ক ধুয়ে মুছে যায় এবং দর্শকরা তাঁদের প্রিয় নায়ককে দুহাত ভরে আশীর্বাদ করেন।
মজার বিষয় হল, এটিই প্রথম নয়; এর আগেও জয়া বচ্চন অমিতাভের কেরিয়ারকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলেছিলেন। তাঁদের বিয়ের আগে, যখন অমিতাভ একের পর এক ফ্লপ ছবি দিচ্ছিলেন, তখন ‘জঞ্জির’ ছবির জন্য কোনও নামী নায়িকা তাঁর বিপরীতে অভিনয় করতে রাজি হচ্ছিলেন না। সেই কঠিন সময়ে জয়া এগিয়ে আসেন এবং অমিতাভের সঙ্গে কাজ করতে রাজি হন। ‘জঞ্জির’ সুপারহিট হওয়ার পরই অমিতাভের গায়ে সেঁটে যাওয়া ‘ফ্লপ নায়ক’-এর তকমা চিরতরে মুছে যায়। তাই বলাই বাহুল্য, অমিতাভ বচ্চনকে আজকের ‘মেগাস্টার’ বানানোর নেপথ্যে জয়া বচ্চনের অবদান এক অনস্বীকার্য ইতিহাস।
