
বিনোদন জগতের অন্দরমহলের সত্যিটা সপাটে বলতে কোনোদিনই পিছপা হন না পরিচালক-প্রযোজক করণ জোহর। এবার তাঁর নিশানায় বলিউডের টালমাটাল ‘আনুগত্য’। সম্প্রতি ‘স্ক্রিন’-এর সার্থক আহুজার সঙ্গে এক আলাপচারিতায় ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি চালানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ এবং অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ঘনঘন দলবদল নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি।
ধর্মা কর্নারস্টোন এজেন্সি (DCAA)-র সহ-কর্ণধার করণ জানান, বর্তমান সময়ের অধিকাংশ অভিনেতার মধ্যেই পেশাদার আনুগত্যের অভাব রয়েছে। কারও নাম না করেই তাঁর মন্তব্য, “প্রতি দু-বছর অন্তর মানুষ এক এজেন্সি ছেড়ে অন্য এজেন্সিতে চলে যাচ্ছে। তাঁরা এতটাই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন যে মনে করেন আমরা কেবল সময়ের গণ্ডিতে বাঁধা। এই ব্যবসায় কেউ কারও অনুগত নয়; অভিনেতারা কেবল এক ডাল থেকে অন্য ডালে লাফিয়ে বেড়ান।”
করণের সংযোজন, “আপনি আপনার জীবনের মূল্যবান দু-বছর একজন প্রতিভার পিছনে ব্যয় করলেন, আর হঠাতই সে অন্য কোথাও চলে গেল। আবার সেখানে পছন্দ না হলে ফিরে আসতে চায়। এটা একটা বিষচক্র।”
ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্ট বা প্রতিভা ব্যবস্থাপনার ব্যবসা প্রসঙ্গে করণের মত, ৯০ শতাংশ কাজই হলো মানুষের ইগো আর নিরাপত্তাহীনতা সামলানো, যা মোটেই সহজ নয়। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “শুধুমাত্র শিল্পীদের উপার্জনের ওপর কমিশন নিয়ে কোনো এজেন্সি টিকে থাকতে পারবে না। কারণ এই শিল্পীরা আদতে কিছুই নন, তাঁরা কারও আপন নন। তাই এজেন্সিকে এখন অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার কথা ভাবতে হবে।”
দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় বলিউডে কাটিয়ে দেওয়ার পর সাফল্য বা ব্যর্থতা নিয়ে এখন অনেকটাই ‘জেন’ বা শান্ত অবস্থায় রয়েছেন করণ। তাঁর কথায়, “৩১ বছর এই ইন্ডাস্ট্রিতে থাকার পর আমি সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে নির্লিপ্ত হতে শিখেছি। কারণ আমার আনন্দ বা দুঃখ যদি কেবল কাজের সাফল্যের ওপর নির্ভর করে, তবে আমাকে আইসিইউ-তে ভর্তি হতে হবে।”
করণের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন কয়েক মাস আগেই তাঁর এজেন্সি ছেড়ে ‘কালেক্টিভ আর্টিস্টস নেটওয়ার্ক’-এ যোগ দিয়েছেন শ্রীদেবী-কন্যা জানভি কাপুর। জানভির এই প্রস্থান ধর্মার ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্ট বিভাগে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত দিয়েছিল বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। বর্তমানে করণের এজেন্সির অধীনে রয়েছেন সারা আলি খান, রোহিত সরফ, শানায়া কাপুর এবং রাশা থাদানীর মতো তরুণ তুর্কিরা।