হাত ছাড়ায় জাহ্নবীর উপর রেগে আগুন করণ, ঘটনাটি কী?
বলিউডে পা রাখার পর থেকেই জাহ্নবীর সমস্ত কাজ দেখাশোনা করত করণের সংস্থা। কিন্তু সম্প্রতি জাহ্নবী সেই সঙ্গ ত্যাগ করে যোগ দিয়েছেন অন্য এক নামী এজেন্সিতে। এই দলবদল নিয়েই মুখ খুলেছেন করণ। তিনি সোজা সাপটা জানিয়েছেন, এই গ্ল্যামার দুনিয়ায় আসলে কেউ কারও নয়। অভিনেতারা বড্ড বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, আর সেই কারণেই তাঁরা বারবার নিজেদের টিম বা এজেন্সি বদলে ফেলেন।

বি-টাউনে কান পাতলেই এখন একটাই গুঞ্জন- করণের হাত ছাড়লেন শ্রীদেবী-কন্যা জাহ্নবী কাপুর। যে করণ জোহরকে নিজের মেন্টর বা গডফাদার মানতেন, সেই করণের ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি ‘ধর্মা কর্নারস্টোন’ (DCAA) থেকে ইস্তফা দিয়েছেন জাহ্নবী। আর এই ইস্তফা নিয়েই এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন করণ জোহর। তাঁর কথায় ঝরে পড়ল একরাশ অভিমান আর তিক্ততা।
আসল ঘটনাটা কী ঘটেছে?
বলিউডে পা রাখার পর থেকেই জাহ্নবীর সমস্ত কাজ দেখাশোনা করত করণের সংস্থা। কিন্তু সম্প্রতি জাহ্নবী সেই সঙ্গ ত্যাগ করে যোগ দিয়েছেন অন্য এক নামী এজেন্সিতে। এই দলবদল নিয়েই মুখ খুলেছেন করণ। তিনি সোজা সাপটা জানিয়েছেন, এই গ্ল্যামার দুনিয়ায় আসলে কেউ কারও নয়। অভিনেতারা বড্ড বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, আর সেই কারণেই তাঁরা বারবার নিজেদের টিম বা এজেন্সি বদলে ফেলেন।
করণ জোহরের মতে, ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্টের এই কাজটা আসলে খুবই ‘অকৃতজ্ঞ’ একটা পেশা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমরা দু-তিন বছর ধরে জানপ্রাণ দিয়ে একজনকে তৈরি করি, তাকে স্টার বানানোর চেষ্টা করি। আর ঠিক যখন সে তৈরি হয়ে যায়, তখনই সে অন্য কোথাও চলে যায়।” করণের দাবি, এই বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতারা সব সময় দ্রুত সাফল্য পেতে চান, আর তাই প্রতি দু-তিন বছর অন্তর নিজেদের ম্যানেজমেন্ট বদলে ফেলেন।
কেন সরলেন জাহ্নবী?
ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে ফিসফাস, জাহ্নবীর গত কয়েকটা ছবি বক্স অফিসে একেবারেই জায়গা করতে পারেনি। ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস মাহি’ থেকে শুরু করে ‘উলঝ’ সবই বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছে। হয়তো সেই কারণেই নিজের ইমেজ বদলাতে আর একটু বেশি স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাইছেন তিনি। করণের ‘ছায়া’ থেকে বেরিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এই চেষ্টাকে অনেকেই ভালো চোখে দেখছেন, আবার অনেকে বলছেন জাহ্নবী আসলে বিপদের সময় মেন্টরকে ছেড়ে পালালেন।
সম্পর্ক কি তিক্ত হয়েকরণ সরাসরি জাহ্নবীর নাম না নিলেও তাঁর কথাগুলো যে কাকে নিয়ে বলা, তা বুঝতে কারও বাকি নেই। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, “১০ শতাংশ কাজ আর ৯০ শতাংশ ইগো সামলানো—এই নিয়েই এই ব্যবসা।” তবে করণ এও জানিয়েছেন, যাঁরা তাঁকে ছেড়ে গিয়েছেন, তাঁদের জন্য তাঁর মনে কোনও ঘৃণা নেই। তিনি তাঁদের ভালোই চান, কিন্তু বিশ্বস্ততার অভাবটা তাঁকে বেশ কষ্ট দিয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, করণের আশ্রয় ছেড়ে জাহ্নবী নিজের কেরিয়ারকে কোন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারেন। বলিউডে টিকে থাকার এই লড়াইয়ে মেন্টরের হাত ছাড়া কি তাঁর জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত হবে? উত্তর সময় বলবে।
