করণের ব্যবহারে কেঁদে ভাসালেন রানি! কী ঘটেছে?
রানি আরও বলেন, “আমি ওর এত কাছের মানুষ, আমাদের মধ্যে লুকোচুরির কিছু নেই। কিন্তু যখন শুনলাম ও আমাকে না জানিয়েই অন্য কাউকে নিয়ে নিয়েছে, তখন খুব একা লেগেছিল। আমি সোজা আমির খানের কাছে গিয়ে কেঁদে ফেলেছিলাম।”

বলিউডের অন্দরমহলের সমীকরণ বেশ জটিল। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব হোক বা পেশাদার সম্পর্ক- কখনও কখনও একটা ছোট সিদ্ধান্তও বড় অভিমানের জন্ম দেয়। ঠিক এমনটাই ঘটেছিল রানি মুখোপাধ্যায় এবং তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু, পরিচালক-প্রযোজক করণ জোহরের মধ্যে। আক্ষেপটা ছিল বলিউডের অন্যতম ব্লকবাস্টার ছবি ‘কাল হো না হো’ নিয়ে। যে ছবির জন্য একসময় প্রকাশ্যেই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন রানি। জানেন কী ঘটেছিল অভিনেত্রীর সঙ্গে?
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে এই পুরনো গল্প প্রকাশ্যে এসেছে। ২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কাল হো না হো’ ছবিতে প্রীতি জিন্টার ‘নয়না’ চরিত্রটি নিয়ে আজও চর্চা হয়। কিন্তু রানি মুখোপাধ্যায় খোলসা করেছেন যে, এই চরিত্রে তাঁকে না নেওয়ার চেয়েও বেশি কষ্ট পেয়েছিলেন করণের আচরণে।
রানির কথায়, “করণের সঙ্গে আমার সম্পর্ক এতটাই ভালো যে, ও কোনও ছবি বানালে সেটা নিয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা করবে- এটাই স্বাভাবিক ছিল। ও আমাকে ছবিতে না নিয়ে, অন্য কাউকে নিয়েছে, তাতে আমার কোনও আপত্তি ছিল না। কিন্তু খারাপ লেগেছিল এটা ভেবে যে, ও নিজে আমাকে কিছু না জানিয়ে অন্য একজনের মাধ্যমে খবরটা পাঠিয়েছিল।”
রানি আরও বলেন, “আমি ওর এত কাছের মানুষ, আমাদের মধ্যে লুকোচুরির কিছু নেই। কিন্তু যখন শুনলাম ও আমাকে না জানিয়েই অন্য কাউকে নিয়ে নিয়েছে, তখন খুব একা লেগেছিল। আমি সোজা আমির খানের কাছে গিয়ে কেঁদে ফেলেছিলাম।”
রানি মুখোপাধ্যায় এবং করণ জোহরের বন্ধুত্ব ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ছবির সময় থেকেই তুঙ্গে। কিন্তু ‘কাল হো না হো’র সময় এই দূরত্ব তৈরি হওয়ায় টিনসেল টাউনে বেশ শোরগোল পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত নয়না হয়ে পর্দায় আসেন প্রীতি জিন্টা। শাহরুখ খান এবং সইফ আলি খানের সঙ্গে তাঁর রসায়ন দর্শকদের মন জয় করে নেয় এবং ছবিটি বক্স অফিসে ঝড় তোলে।
রানি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, করণের ওপর তাঁর রাগ ছিল না, ছিল নিখাদ অভিমান। কেন তাঁর প্রিয় বন্ধু তাঁকে বিশ্বাস করে এই খবরটা আগে দিলেন না, সেটাই ছিল তাঁর কান্নার মূল কারণ। অবশ্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই বরফ গলেছে। করণ এবং রানি আজও ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম সেরা বন্ধু হিসেবে পরিচিত। তবে ‘নয়না’ চরিত্রটি যে রানির মনে আজও মন খারাপ রয়ে গিয়েছে, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট।
