
আজকের ঝাঁ চকচকে বলিউড আর তিন দশক আগের রূপালি পর্দার জগতের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। নব্বই দশকের অন্যতম সফল অভিনেত্রী মমতা কুলকার্নি বৃহস্পতিবার সেই ফেলে আসা দিনগুলোর কথা স্মরণ করে কিছুটা নস্টালজিক হয়ে পড়লেন। তাঁর স্মৃতিচারণে উঠে এল আমির খানের ঘরোয়া স্বভাব থেকে শুরু করে ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান সাম্প্রদায়িক বিতর্ক নিয়ে তাঁর স্পষ্ট মতামত।
সম্প্রতি সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমানের বলিউডকে ‘সাম্প্রদায়িক’ বলার প্রসঙ্গে মুখ খোলেন মমতা। তিনি বলেন, “আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করি যে আমি নব্বইয়ের দশকে কাজ করেছি। বিশ্বাস করুন, আমরা কোনওদিন এই দৃষ্টিভঙ্গিতে ভাবিনি। আমি আমির খান, শাহরুখ খানের সঙ্গে কাজ করেছি… আমরা একে অপরের ধর্ম কী, তা নিয়ে মাথা ঘামাতাম না। সত্যি বলতে, এখনকার এই পরিস্থিতি দেখে আর কী-ই বা বলার আছে?”
মমতা জানান, সেই সময় আজকের মতো শুটিং সেটে ভ্যানিটি ভ্যানের বিলাসিতা ছিল না। ‘বাজি’ ছবির শুটিংয়ের দিনগুলোর কথা মনে করে তিনি বলেন, “আমির খান প্রায়ই আমার বাড়িতে আসতেন। লোকান্ডওয়ালায় শুটিং থাকলে আমির সরাসরি আমার বাড়িতে চলে আসতেন এবং আমার বেডরুমে গিয়েই পোশাক বদলাতেন। তখন ভ্যানিটি ভ্যান ছিল না, তাই কারোও বাড়িতে ঢুকে তৈরি হয়ে নেওয়াটাই ছিল দস্তুর।”
তিনি আরও যোগ করেন, “শুটিং শেষ করে আমি আর আমির সোজা আমার বাড়ি চলে আসতাম। ও নিজেই রান্নাঘরে গিয়ে চা বানিয়ে নিত। সেই দিনগুলোতে মানুষের মধ্যে যে উষ্ণতা আর সহজ সম্পর্ক ছিল, তা এখন বিরল।” শুধুমাত্র সেটেই নয়, দেশের বাইরে বিশ্ব সফরের সময়েও তারকাদের মধ্যে এক গভীর মেলবন্ধন ছিল বলে জানান মমতা। শাহরুখ ও আমিরের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের কথা টেনে তিনি বলেন, “আমরা একে অপরের বাড়িতে বসে থাকতাম, কেউ চা বানাচ্ছে তো কেউ রান্না করছে—এভাবেই চলত। আমরা কখনো বিভেদ খুঁজিনি। শিল্পী মানেই একজন শিল্পী। দয়া করে এর মধ্যে বিভাজন টেনে আনবেন না।” এ আর রহমানের বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে মমতা কুলকার্নি মন্তব্য করেন যে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছুর পরিবর্তন ঘটে। তাঁর কথায়, “সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রুচি বদলায়। হয়তো আপনার (এ আর রহমান) ঘরানার সঙ্গীত এখন আর ততটা প্রাসঙ্গিক নয়। আজ কত ভালো ভালো গায়ক কাজ না পেয়ে ঘরে বসে আছেন।” মমতার মতে, বিনোদন জগতে বিভেদের চেয়ে সৃজনশীলতার মর্যাদা থাকাই কাম্য, যা নব্বইয়ের দশকের বলিউডে ভরপুর ছিল।