Oscar Awards: ‘ধুরন্ধর’, ‘বর্ডার ২’, ‘হনুমান অংশ’ নয়, জানেন এবারের অস্কারে ভারতের এন্ট্রি কোন ছবি?
India Oscar Entry : এই ছবিটিকে ২০২৭ সালের ৯৯তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কারের (Oscars 2027) জন্য ভারতের অফিসিয়াল এন্ট্রি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। দেশের আরও ৩৩টি বাছাই করা ছবিকে পেছনে ফেলে অস্কারের দৌড়ে জায়গা করে নিয়েছে এটি।

মহারাষ্ট্রের অন্যতম প্রাচীন ও স্বতন্ত্র লোক ঐতিহ্যকে সিনেমার পর্দায় ফুটিয়ে তুলে বিশ্বমঞ্চে বাজিমাত করল মরাঠি চলচ্চিত্র ‘গোন্ধল’ (Gondhal)। সন্তোষ দাওয়াখর পরিচালিত এই ছবিটিকে ২০২৭ সালের ৯৯তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কারের (Oscars 2027) জন্য ভারতের অফিসিয়াল এন্ট্রি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। দেশের আরও ৩৩টি বাছাই করা ছবিকে পেছনে ফেলে অস্কারের দৌড়ে জায়গা করে নিয়েছে এটি।
কিন্তু কী এই ‘গোন্ধল’? শতাব্দী প্রাচীন এই আচার ও লোকশিল্পের মূল প্রেক্ষাপটেই বোনা হয়েছে পুরো ছবির গল্প।
‘গোন্ধল’ মূলত মহারাষ্ট্রের একটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, যার মধ্যে রয়েছে ভক্তিগীতি, সংগীত, নৃত্য এবং দেব-দেবীর আরাধনার এক অপূর্ব মেলবন্ধন। ‘গোন্ধলি’ সম্প্রদায়ের শিল্পীরা ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে ও নাচের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। আধ্যাত্মিকতা এবং উদযাপনের এক অদ্ভুত পরিবেশ তৈরি করে এই লোকশিল্প।
সাধারণত রাতের বেলা পারিবারিক শুভ অনুষ্ঠান, বিশেষ করে বিয়ে বাড়িতে গোন্ধল পরিবেশন করার দীর্ঘ দিনের রীতি রয়েছে। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, উৎসব বা আনন্দের পরিবেশ শেষে রাতে দেবীপ্রতিমা ও প্রদীপের সামনে শিল্পীরা নাচ-গানের মাধ্যমে এই গোন্ধল পরিবেশন করতেন।
গোন্ধলে প্রধানত ঢাক, ‘টুনটুনে’ (একপ্রকার ঐতিহ্যবাহী তারের যন্ত্র), কাঁসার বাদ্যযন্ত্র এবং প্রদীপ বা মশাল ব্যবহার করা হয়। শিল্পীরা গানের মাধ্যমে দেবীকে আবাহন করেন এবং আরতির মাধ্যমে এই আচারের সমাপ্তি ঘটে। অঞ্চলভেদে পরিবেশনার রূপ কিছুটা বদলালেও এর অন্তর্নিহিত সঙ্গীত, নৃত্য, গল্প বলা এবং ভক্তির মূল ভাব একই থাকে।
মহারাষ্ট্রের সংস্কৃতিতে এর গুরুত্ব কোথায়?
কেবল বিনোদন হিসেবে নয়, মহারাষ্ট্রের সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে গোন্ধলের ভূমিকা অপরিসীম। সারারাত ধরে চলা প্রার্থনা ও গান-বাজনার মাধ্যমে গ্রামের মানুষ একত্রিত হত।
ছবিটির অন্যতম অভিনেতা কিশোর কদম নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে জানিয়েছেন, গ্রামে ছোটবেলা থেকেই তিনি গোন্ধল দেখে বড় হয়েছেন। এটি ছিল মূলত সমগ্র গ্রামের মানুষের একসাথে জড়ো হয়ে প্রার্থনা ও আনন্দ উদযাপনের এক মাধ্যম।
রাতের অন্ধকার, মশাল বা প্রদীপের আলো, ঢাকের আওয়াজ এবং ভক্তিগীতির মূর্ছনা—সব মিলিয়ে গোন্ধলের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবেই এক ধরনের ‘সিনেম্যাটিক’ আবহ লুকিয়ে থাকে। তবে এটি কেবল সিনেমার চাক্ষুষ নন্দনতত্ত্বের অংশ নয়; এর পেছনে রয়েছে গভীর সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুভূতি।
অস্কারের মনোনীত ছবিতে কীভাবে এল ‘গোন্ধল’?
পরিচালক সন্তোষ দাওয়াখর তাঁর ছবিতে গোন্ধলকে কেবল পেছনের আবহ হিসেবে ব্যবহার করেননি, বরং এটিকে গল্পের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন।
ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অফ ইন্ডিয়া (IFFI)-র অফিসিয়াল সংক্ষিপ্তসার অনুযায়ী, গ্রামীণ মহারাষ্ট্রের এক মধ্যরাতের গোন্ধল উৎসবকে কেন্দ্র করে ছবিটির কাহিনি রূপায়িত হয়েছে। এতে ধনকুবের স্বামীর সংসারে বন্দী ‘সুমন’ নামের এক নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইশিতা দেশমুখ। সেই গোন্ধল চলাকালীনই সুমনের সাক্ষাৎ হয় ‘সাহেবা’ নামে এক আকর্ষণীয় গোন্ধলি শিল্পীর সঙ্গে, আর সেখান থেকেই বাক নেয় গল্পের মূল মোড়।
৯৯তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস (অস্কার)-এর জন্য ভারতের অফিসিয়াল এন্ট্রি হওয়ার দৌড়ে থাকা ৩৩টি ছবির মধ্যে ছিল ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’, ‘বর্ডার ২’ এবং ‘ধুরন্ধর’ চলচ্চিত্র সিরিজ।
এই তালিকায় থাকা অন্যান্য ছবিগুলির মধ্যে ছিল ‘ডুগ ডুগ’, ‘হক’, ‘ভামারদো’, ‘১২০ বাহাদুর’, ‘সিং গীতম’, ‘তেরা মেরা নাতা’, ‘লাড্ডু’, ‘ওহ মাই ডগ’, ‘গোন্ধল’, ‘বালান দ্য বয়’, ‘দেউল ব্যান্ড ২’, ‘তিঘি’, ‘পেড্ডি’, ‘ইরমোদি’, ‘ডোরোথি’, ‘খুন্টা’, ‘গান্ধী টকস’, ‘বাইসন কালামাদান’, ‘শেপ অফ মোমো’, ‘গভর্নর’, ‘২০২০ দিল্লি’, ‘কমান্ডো বিন লাভ স্টোরি’, ‘ইক্কিস’, ‘প্রবাস’, ‘মন আতলে মনাতলে’, ‘অবসেস’, ‘এগওয়া’, ‘আং’ এবং ‘হনুমান অংশ’।
