Mithun Chakraborty: ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদায় মিঠুন, শুভেন্দুর সরকারে গুরুদায়িত্ব পেলেন ‘মহাগুরু’
Mithun Chakraborty in West Bengal Government: রাজ্যের কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতরের আইএএস সেলের তরফ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেই বিজ্ঞপ্তিতেই মিঠুন চক্রবর্তীর নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়।

সিনেমার জগতের পাশাপাশি এবার সরাসরি রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। রূপোলি পর্দার ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ থেকে শুরু করে রাজনীতির আঙিনা—বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এবার এক্কেবারে নতুন ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন তিনি। রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উপদেষ্টা পদে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ করা হল এই বাংলার মহাগুরুকে। আর সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই নিয়োগ নেহাতই কোনও সাধারণ উপদেষ্টা পদ নয়, বরং একেবারে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদায় তাঁকে এই বড় দায়িত্ব সঁপে দেওয়া হয়েছে। টিভি নাইন বাংলাকে মিঠুন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ”আমি খুব খুশি, মুখ্যমন্ত্রী আমাকে এই উপযুক্ত ভেবেছেন। আমি একই রকম থাকব, কাজ করব। মুখ্যমন্ত্রীর পাশে থেকে যতটা পারব সাহায্য করব।”
রাজ্যের কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতরের আইএএস সেলের তরফ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেই বিজ্ঞপ্তিতেই মিঠুন চক্রবর্তীর নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, রাজ্যপালের সসম্মান অনুমোদনক্রমেই অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে এই পদে বসানো হয়েছে।
রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের সই করা এই বিজ্ঞপ্তির কপি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতর ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর এবং স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এই নির্দেশিকা পৌঁছে গিয়েছে।
অভিনয়ের দীর্ঘ ও সফল পথচলার পাশাপাশি বিগত কয়েক বছর ধরে সক্রিয় রাজনীতির ময়দানেও অত্যন্ত জোরালোভাবে নিজের উপস্থিতি বজায় রেখেছেন মিঠুন চক্রবর্তী। পদ্মশিবিরের এই তারকা নেতার সঙ্গে রাজ্য সরকারের এই প্রশাসনিক মেলবন্ধন রাজনৈতিক মহলেও এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এতদিন তাঁকে বাংলা তথা ভারতীয় সিনেমার আইকন এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেই দেখেছে মানুষ। তবে এবার থেকে সরকারি নীতি নির্ধারণ এবং সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।
তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উপদেষ্টা হিসেবে ঠিক কী কী ক্ষেত্রে তাঁর পরামর্শ নেওয়া হবে এবং তাঁর কাজের পরিধি ঠিক কতটা বিস্তৃত থাকবে, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের। বলাই বাহুল্য, বড়পর্দার মহাগুরু এবার প্রশাসনিক ময়দানে কতটা ছাপ ফেলেন, সেটাই এখন দেখার!
