ছবি তোলার নাম করে কোমরে হাত দাদুর বয়সী লোকের! হেনস্থার শিকার মৌনী রায়
চরম অস্বস্তি নিয়ে মঞ্চে ওঠার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা দুই প্রবীণ ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে অশ্লীল মন্তব্য এবং কুরুচিকর হাতের ইশারা করতে থাকেন। প্রথমে মৌনি বিনয়ের সঙ্গে তাঁদের হাত নেড়ে বারণ করলেও, তাঁরা থামেননি। বরং উল্টে তাঁর দিকে গোলাপ ফুল ছুঁড়তে শুরু করেন।

গ্ল্যামার জগতের চাকচিক্যের আড়ালে নারী শিল্পীদের নিরাপত্তা যে কতটা ঠুনকো, তা আবারও প্রকাশ্যে এল। সম্প্রতি হরিয়ানার কার্নালে একটি অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে গিয়ে চরম হেনস্থার শিকার হলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌনি রায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে প্রবীণ ব্যক্তিদের হাতেই তাঁকে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন অভিনেত্রী।
নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে এক দীর্ঘ পোস্টে মৌনি জানিয়েছেন, অনুষ্ঠান চলাকালীন দর্শকদের অভব্য আচরণে তিনি স্তম্ভিত। তিনি লেখেন, “কার্নালে একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেখানকার আয়োজকদের আচরণ দেখে আমি রীতিমতো ঘৃণা বোধ করছি। বিশেষ করে এমন দুই ব্যক্তি, যাঁদের বয়স দাদু হওয়ার মতো, তাঁদের আচরণ ছিল জঘন্য।”
অভিনেত্রীর অভিযোগ, তিনি যখন মঞ্চের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন অনেক পুরুষ সদস্য ছবি তোলার অছিলায় তাঁর কোমরে হাত দেন। মৌনি যখন বাধা দিয়ে তাঁদের হাত সরাতে বলেন, তখন উল্টে তাঁরাই অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

মৌনি জানিয়েছেন, চরম অস্বস্তি নিয়ে মঞ্চে ওঠার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা দুই প্রবীণ ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে অশ্লীল মন্তব্য এবং কুরুচিকর হাতের ইশারা করতে থাকেন। প্রথমে মৌনি বিনয়ের সঙ্গে তাঁদের হাত নেড়ে বারণ করলেও, তাঁরা থামেননি। বরং উল্টে তাঁর দিকে গোলাপ ফুল ছুঁড়তে শুরু করেন।
অভিনেত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগ, মঞ্চটি উচ্চতায় বেশি থাকায় সেই অভিযুক্তরা নিচ থেকে মোবাইলে তাঁর আপত্তিকর অ্যাঙ্গেলের ভিডিও তুলছিলেন। কেউ তাঁদের বাধা দিলে উল্টে তাঁকেও গালিগালাজ করা হয়। মৌনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই অসহ্য আচরণের সময় না কোনও পরিবারের সদস্য না কোনও আয়োজক তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। আমি মাঝপথেই পারফরম্যান্স ছেড়ে বেরিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পেশাদারিত্বের খাতিরে ফিরে এসে কাজ শেষ করি।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি লজ্জিত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আমি চাই কর্তৃপক্ষ এই অসহনীয় আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। আমরা শিল্পী হিসেবে সৎ পথে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করি। এই সব পুরুষরা যদি নিজেদের মেয়ে বা বোনের সঙ্গে এমন আচরণ দেখতেন, তবে কী করতেন? ছিঃ! এই পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা ও অধিকারবোধ দেখে ঘৃণা হচ্ছে।”
