Rajpal Yadav: চেক বাউন্স মামলায় ফের বিপাকে রাজপাল যাদব, অভিনেতাকে কড়া নির্দেশ দিল আদালত
Rajpal Yadav jail news: ২০১৮ সালে চেক বাউন্স মামলায় রাজপাল যাদব এবং তাঁর স্ত্রী রাধাকে দোষী সাব্যস্ত করে ৬ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ২০১৯ সালে নিম্ন আদালতের সেই রায় বহাল রাখে সেশন কোর্ট। এরপরই সাজার বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিনেতা। ২০২৪ সালের জুন মাসে বকেয়া টাকা মেটানোর জন্য রাজপালকে ‘আন্তরিক ও সদর্থক পদক্ষেপ’ নেওয়ার সুযোগ দিয়ে সাময়িকভাবে তাঁর সাজা স্থগিত করে হাইকোর্ট।

বলিউডের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা রাজপাল যাদবের আইনি অস্বস্তি আরও বাড়ল। চেক বাউন্স মামলায় অভিনেতার সাজা বহাল রাখল দিল্লি হাইকোর্ট। শুক্রবার এই মামলার রায় ঘোষণার সময় আদালতের পক্ষ থেকে রাজপাল যাদবের আচরণকে ‘সন্দিগ্ধ’ (dubious) বলে আখ্যা দেওয়া হয় এবং তাঁকে পুনরায় সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারপতি।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১০ সালে নিজের পরিচালিত প্রথম ছবি ‘আতা পাতা লাপাতা’-র জন্য ‘মেসার্স মুরলী প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড’ নামক একটি সংস্থা থেকে ৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন রাজপাল। কিন্তু বক্স অফিসে ছবিটি মুখ থুবড়ে পড়ে। এরপর থেকেই ঋণ পরিশোধে গড়িমসি শুরু হলে বিষয়টি দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের রূপ নেয়। সুদে-আসলে সেই বকেয়া টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৯ কোটি টাকা।
২০১৮ সালে চেক বাউন্স মামলায় রাজপাল যাদব এবং তাঁর স্ত্রী রাধাকে দোষী সাব্যস্ত করে ৬ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ২০১৯ সালে নিম্ন আদালতের সেই রায় বহাল রাখে সেশন কোর্ট। এরপরই সাজার বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিনেতা। ২০২৪ সালের জুন মাসে বকেয়া টাকা মেটানোর জন্য রাজপালকে ‘আন্তরিক ও সদর্থক পদক্ষেপ’ নেওয়ার সুযোগ দিয়ে সাময়িকভাবে তাঁর সাজা স্থগিত করে হাইকোর্ট। ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারিতে, বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় রাজপালকে অবিলম্বে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয় আদালত।
আত্মসমর্পণের ঠিক আগে এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন রাজপাল যাদব। তিনি বলেন, “স্যার, কী করব? আমার কাছে কোনও টাকা নেই। টাকা ফেরত দেওয়ার আর কোনো উপায় আমি দেখতে পাচ্ছি না।” এরপরই আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাঁকে তিহার জেলে পাঠানো হয়।
রাজপাল যাদবের এই কঠিন সময়ে তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন বলিউডের বহু তারকা। সোনু সুদ, অজয় দেবগন, সলমন খান থেকে শুরু করে গুরমিত চৌধুরী— অনেকেই অভিনেতাকে আর্থিক সাহায্য করেছেন এবং ইন্ডাস্ট্রির বাকিদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বহু গায়ক ও পরিচালক তাঁকে আগামী ছবির জন্য অগ্রিম টাকা দিয়ে নিজেদের প্রজেক্টে সই করিয়েছেন। উল্লেখ্য, তিহার জেলে যাওয়ার পর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় জামিন পেয়েছিলেন অভিনেতা। তবে শুক্রবার হাইকোর্টের এই কড়া অবস্থানের পর তাঁর আইনি লড়াই যে আরও জটিল হল, তা বলাই বাহুল্য।
