AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

‘দাউদ ইব্রাহিমের জন্যই আজ আমার পেট চলছে!’ বিস্ফোরক রাম গোপাল ভার্মা

বলিউড আর অপরাধ জগতের এই আঁতাত নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন মুম্বইয়ের প্রাক্তন পুলিশ কর্তা ডি. শিবানন্দম। তাঁর মতে, ‘সত্যা’, ‘কোম্পানি’, ‘শুটআউট অ্যাট লোখন্ডওয়ালা’র মতো ছবিগুলোর নেপথ্যে ছিল গ্যাংস্টারদেরই লগ্নি। তিনি আরও দাবি করেন, কেবল নব্বইয়ের দশক নয়, ‘দিওয়ার’ বা ‘মুকদ্দর কা সিকন্দর’-এর মতো পুরনো ক্ল্যাসিক ছবিগুলোর ক্ষেত্রেও একই রকম পরোক্ষ মদত ছিল। মূলত নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেই মাফিয়ারা সিনেমা তৈরিতে টাকা ঢালত।

‘দাউদ ইব্রাহিমের জন্যই আজ আমার পেট চলছে!’ বিস্ফোরক রাম গোপাল ভার্মা
| Updated on: Apr 11, 2026 | 4:56 PM
Share

বলিউড আর আন্ডারওয়ার্ল্ডের সেই ‘মধুর-বিষাদ’ সম্পর্কের কথা কারও অজানা নয়। কিন্তু সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাম গোপাল ভার্মা যা বললেন, তাতে কার্যত হতবাক গোটা ইন্ডাস্ট্রি। তাঁর আত্মজীবনী ‘গানস অ্যান্ড থাইস’ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পরিচালক জানান, তিনি বইটি দাউদ ইব্রাহিমকে উৎসর্গ করতে চেয়েছিলেন, যদিও প্রকাশকের আপত্তিতে শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।

পরিচালকের সাফ কথা, “দাউদ ইব্রাহিম না থাকলে আমি ‘সত্যা’ বা ‘কোম্পানি’র মতো আইকনিক ছবি বানাতে পারতাম না। দাউদের কারণেই আজ আমার অন্নসংস্থান হচ্ছে, তাই তাঁকে কেন আমি বই উৎসর্গ করব না?” ভার্মার কাছে মুম্বইয়ের অপরাধ জগৎ কেবল আতঙ্কের নাম ছিল না, বরং তা ছিল সৃজনশীল অনুপ্রেরণার এক অফুরন্ত উৎস।

যেখানে কর্ণ জোহর থেকে শুরু করে ডেভিড ধাওয়ানের মতো ব্যক্তিত্বরা ডনদের ফোন পেয়ে তটস্থ থাকতেন, সেখানে রাম গোপাল ভার্মার অভিজ্ঞতা ছিল একদম উল্টো। তাঁর দাবি, “আমিই বোধহয় একমাত্র মানুষ যে আন্ডারওয়ার্ল্ড থেকে কখনও হুমকির ফোন পায়নি। কারণ তারা ‘সত্যা’ আর ‘কোম্পানি’ ছবি দুটি দারুণ পছন্দ করেছিল। ওরা আমাকে বিরক্ত করতে চাইত না, উল্টে আমি ওদের প্রাণের বন্ধু হয়ে উঠেছিলাম।”

বলিউড আর অপরাধ জগতের এই আঁতাত নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন মুম্বইয়ের প্রাক্তন পুলিশ কর্তা ডি. শিবানন্দম। তাঁর মতে, ‘সত্যা’, ‘কোম্পানি’, ‘শুটআউট অ্যাট লোখন্ডওয়ালা’র মতো ছবিগুলোর নেপথ্যে ছিল গ্যাংস্টারদেরই লগ্নি। তিনি আরও দাবি করেন, কেবল নব্বইয়ের দশক নয়, ‘দিওয়ার’ বা ‘মুকদ্দর কা সিকন্দর’-এর মতো পুরনো ক্ল্যাসিক ছবিগুলোর ক্ষেত্রেও একই রকম পরোক্ষ মদত ছিল। মূলত নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেই মাফিয়ারা সিনেমা তৈরিতে টাকা ঢালত।

নব্বইয়ের দশকের সেই ট্র্যাজেডি আজও ভুলতে পারেনি বি-টাউন। প্রকাশ্য দিবালোকে টি-সিরিজের প্রতিষ্ঠাতা গুলশন কুমারকে গুলি করে হত্যা করা ছিল সেই সময়ের সবথেকে বড় আতঙ্ক। প্রাক্তন পুলিশ কর্তা শিবানন্দমের স্বীকারোক্তি, সেই সময় পুলিশ ও প্রশাসন উভয়ই ছিল অসহায়। অভিনেতা-পরিচালকদের কাছে মাফিয়াদের কথা শোনা ছাড়া আর কোনও দ্বিতীয় পথ ছিল না।

রাম গোপাল ভার্মার এই সাম্প্রতিক বয়ান যেন বলিউডের সেই পুরনো ক্ষতকে আবার নতুন করে খুঁচিয়ে দিল। প্রশ্ন উঠছে, সৃজনশীলতার তাগিদে কি একজন অপরাধী বা সন্ত্রাসবাদীর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা যায়? বিতর্ক আপাতত তুঙ্গে।

Follow Us