
ভারতীয় সিনেমার ব্যাকরণ বদলে দেওয়ার দাবি নিয়ে হাজির হয়েছে ‘ধুরন্ধর ২’। সাধারণ দর্শক তো বটেই, ছবিটির প্রিভিউ দেখে স্তম্ভিত তাবড় চলচ্চিত্র নির্মাতারাও। সম্প্রতি ছবিটি দেখার পর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘এক্স’-এ নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পরিচালক রাম গোপাল ভার্মা। তাঁর মতে, আদিত্য ধরের এই সৃষ্টি ভারতীয় সিনেমার সব পুরনো রেকর্ড ও চিন্তাধারাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে।
রামু তাঁর টুইটে লিখেছেন, “গত রাতে ‘ধুরন্ধর ২’ দেখার পর যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেলাম, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। ছবির সম্ভাব্য আয়, দর্শকদের উন্মাদনা কিংবা সিনেমার ব্যাকরণ ভেঙে চুরমার করে দেওয়ার ক্ষমতা— সব দিক বিচার করলে এই ছবি ‘শোলে’র চেয়ে ১০০ গুণ বেশি বড় অভিজ্ঞতা। এমনকি ‘মুঘল-এ-আজম’-এর মতো কালজয়ী সিনেমাকেও এই ছবির সামনে টেলিভিশন সিরিয়ালের মতো ছোট মনে হয়।”
রাম গোপাল ভার্মা এখানেই থেমে থাকেননি। তিনি আরও যোগ করেন, “আজ থেকে ‘পরিচালক’ শব্দটির সংজ্ঞা আদিত্য ধরের নাম দিয়ে শুরু হওয়া উচিত। এটি একটি নতুন সিনেমাটিক যুগের জন্ম দিল। এমনকি স্টিভেন স্পিলবার্গ এবং ক্রিস্টোফার নোলানের মতো বিশ্বখ্যাত পরিচালকদের জন্যও এখন বুদ্ধিমানের কাজ হবে নিজেদের সব কাজ ফেলে রেখে ‘ধুরন্ধর ২’-এর প্রথম শো দেখা। তাঁদের শেখা উচিত কীভাবে সিনেমা বানাতে হয়।”
১৯ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। তবে তার আগের দিন অর্থাৎ ১৮ মার্চ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্পেশাল পেইড প্রিভিউ রাখা হয়েছিল। টিকিটের দাম বেশি হওয়া সত্ত্বেও প্রতিটি শো ছিল হাউসফুল। রণবীর সিংয়ের এই ছবি বক্স অফিসের কোন উচ্চতায় পৌঁছায়, তা নিয়ে এখন ফিল্ম ট্রেড অ্যানালিস্টদের মধ্যে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আদিত্য ধরের এই ‘মাস্টারপিস’ কি সত্যিই পারবে হলিউড বা বলিউডের চিরকালীন সেরার তালিকায় নিজের জায়গা পাকা করতে? রাম গোপাল বর্মার এই রিভিউ অন্তত সেই জল্পনাকেই উসকে দিল।