
হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে জোর চর্চা নানা মহলে। সূত্র বলছে, সোশাল মিডিয়া থেকে বেরিয়ে এই চর্চা রাজ্য বিজেপির অন্দরমহলেও এই বেনারস ওয়েডিং নিয়ে নানা কানাঘুষো চলছে। তবে হিরণ যেমন চুপটি করে রয়েছেন, তেমনই চুপ রাজ্য বিজেপির স্তম্ভরা। কিন্তু বিজেপি চুপ থাকলেও, চুপ থাকেননি তৃণমূল কংগ্রেসের রঙিন বিধায়ক মদন মিত্র। সুযোগ বুঝে বিজেপিকে ছুঁড়লেন প্রশ্নবাণ। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে মদনের সোজা কথা, মুসলিমদের বহু বিবাহ বিজেপি কি অ্য়ালাও করে দিল?
মদনের এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে টিভি নাইন বাংলা যোগাযোগ করে ফেলল, অভিনেতা ও বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষকে। তাঁর উত্তর দিতে গিয়ে, প্রথমেই রুদ্রনীল তৃণমূলের রঙিন নেতার, রঙিন রোদচশমাকে দিলেন খোঁচা। আর তারপরেই রুদ্রনীল বলেন, ”আমি জানি না, এই তৃণমূল নেতা মদন মিত্র যে প্রশ্নটা করেছেন, যিনি রাতের বেলা সানগ্লাস পরে বসে থাকেন, তাঁর কথায় কোনও বৈধতা আছে কিনা। সেটা জানি না। তেমন এটাও জানি না, পরিস্কার এই যে চুরি, জচ্চুরি, লুঠ তৃণমূল করছে, তার বৈধতা মদন মিত্র দিয়েছেন কিনা। তার কথা বাদ থাক।”
রুদ্রর কাছে প্রেম, বিয়ে, সম্পর্ক, ডিভোর্স এই সবকটাই একজন মানুষের কাছে খুবই ব্যক্তিগত বিষয়। যা নিয়ে দল বা কোনও ব্যক্তিরই কথা বলা উচিত নয়। রুদ্রর বলেন, যাঁরা এটা করছেন, তাঁরা সময় নষ্ট করছেন। Tv9Bangla-কে রুদ্রনীল বলেন, ”প্রথমে একজন অভিনেতা হিসেবে বলব, ওর সঙ্গে বেশি কাজ করিনি। দুএকটা কাজ করেছি। এমনকী, রাজনীতির ক্ষেত্রেও হিরণ যেখানে কাজ করে, যেখানকার এমএলএ, সেটা তো অনেকটা দূরে। কয়েকটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে দেখা হয়, এবং তাঁর সঙ্গে সঙ্গে এটা বলতে চাই, আমরা আড্ডাবাজ বলে পরিচিত। হিরণ কিন্তু তেমনটা নয়। হিরণ নিজের মতো করে জীবনযাপন করেন। আর সেই জীবনযাপনের ক্ষেত্রে, সে কোন পদক্ষেপ নেবে, তাঁর দায়িত্ব, তাঁর কোনও বন্ধুর নয়, কোনও দলের নয়।”
রুদ্র আরও জানান, ”আমার মনে হয় যে, আমরা যে কেউ যে ধরণের পেশাতেই থাকি না কেন, এই ধরনের ঘটনাগুলো আমাদের সমাজে নতুন কোনও কিছু নয়। এক্ষেত্রে যে দুটি নাম উঠে এসেছে, একজন তাঁর স্ত্রী ও একজন নতুন মানুষ। এই দুই ভদ্রমহিলা তাঁদের মতামত সংবাদ মাধ্যম ও সোশাল মিডিয়ায় যা জানিয়েছেন, ততটাই আমরা জানতে পারছি। কিন্তু যাকে নিয়ে , এত ঘটনা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে কী কী ঘটেছে বা কতটা কী সেই বিষয়ে তিনি এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। তাই প্রকাশ্যে এসে কোনও নিদান দিয়ে দিতে পারি না বা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারি না। এটুকু আমরা আশা করব। আমি বিশ্বাস করি, আইন মেনে, কাউকে দুঃখ, কষ্ট না দিয়ে এগিয়ে চলাটাই জীবন। এক্ষেত্রে আপনারা হিরণের মন্তব্যের জন্য যেমন প্রতীক্ষায় রয়েছেন, বাকি সবাই রয়েছে। তবে বলতে চাই, এধরনের ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নয়, সিনেমার কোনও সম্পর্ক নয়। এটা একেবারেই ব্যক্তিগত সম্পর্ক।”