
২০১০ সালে মুক্তি পেয়েছিল তাঁর পরিচালিত ছবি ‘আতা পাতা লাপাতা’। বক্স অফিসে সেই ছবির ভরাডুবির পর থেকেই ঋণের দায়ে ডুবে ছিলেন রাজপাল যাদব। বকেয়া পাওনা ও সুদে-আসলে সেই ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকায়। দিল্লির হাই কোর্টে সময় চেয়েও মেলেনি স্বস্তি, যার জেরে ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবাস শুরু হয়েছে তাঁর। তবে রাজপাল একা নন, তাঁকে জেলের অন্ধকার কুঠুরি থেকে বের করে আনতে এবার কার্যত একজোট হয়েছে মায়ানগরী।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাজপালের ম্যানেজার গোল্ডি জানিয়েছেন, ইন্ডাস্ট্রির বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এই কঠিন সময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “প্রচুর মানুষ রাজপালের জন্য এগিয়ে এসেছেন। সোনু সুদ, সলমন খান এবং অজয় দেবগন সরাসরি পাশে দাঁড়িয়েছেন। এমনকি ডেভিড ধাওয়ানও ফোন করেছিলেন। রতন জৈন, বরুণ ধাওয়ান— সকলেই এই দুঃসময়ে রাজপালকে সাহায্য করতে চাইছেন। ইন্ডাস্ট্রি যেভাবে তাঁর পাশে পাথরের মতো দাঁড়িয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।” তবে গোল্ডি এও মনে করিয়ে দেন যে, কোটি টাকার লেনদেন রাতারাতি সম্ভব নয়, তাতে কিছুটা সময় লাগে।
কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, রাজপালের হয়ে ঋণের বোঝা হালকা করতে আর্থিক সাহায্যের অঙ্গীকারও করেছেন অনেকে। সংগীত পরিচালক রাও ইন্দরজিৎ যাদব ১ কোটি ১১ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তেজ প্রতাপ যাদব ১১ লক্ষ এবং কেআরকে (KRK) ১০ লক্ষ টাকা দেবেন বলে জানিয়েছেন। এই সম্মিলিত সাহায্যে রাজপালের বিপুল অঙ্কের ঋণ মেটানো এখন অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামিকাল অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি জেলের বাইরে আসতে পারেন রাজপাল যাদব। গোল্ডি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই জামিনের আবেদন করা হয়েছে। আগামিকালই সেই আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা। তিনি আশাবাদী যে, আদালত রাজপালের জামিন মঞ্জুর করবে এবং তিনি পুনরায় নিজের চেনা ছন্দে ফিরতে পারবেন।
বিপদে পড়লে বলিউড যে আজও একজোট হয়ে লড়াই করতে জানে, রাজপাল যাদবের এই ঘটনাটি তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ। এখন দেখার, ১২ ফেব্রুয়ারির শুনানিতে আদালত কী রায় দেয় এবং রাজপাল তাঁর বকেয়া মিটিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করতে পারেন কি না।