Shah Rukh Khan: গৌরীকে বিয়ে করার জন্য হিন্দু সেজেছিলেন শাহরুখ! জানেন নিজের কি নাম রেখেছিলেন?
Shah Rukh Khan Hidden Name: নিজেদের বিয়েতেও দুই ধর্মের রীতিনীতিকে সমানভাবে সম্মান জানিয়েছিলেন এই তারকা দম্পতি। তাঁরা একই সঙ্গে হিন্দু ও মুসলিম— উভয় মতেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। বইটিতে খোদ শাহরুখ জানিয়েছেন, আইনি ও সামাজিক বিয়ের সময় তিনি একটি হিন্দু নাম গ্রহণ করেছিলেন, অন্যদিকে মুসলিম মতে নিকাহ্ হওয়ার সময় গৌরী নিজের নাম পরিবর্তন করে রেখেছিলেন ‘আয়েশা’।

বলিউডের দুনিয়ায় শাহরুখ খান (Shah Rukh Khan) ও গৌরী খানের (Gauri Khan) প্রেমকাহিনি অন্যতম এক আদর্শ ও সফল রূপকথা হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে তাঁদের এই চার হাত এক হওয়ার পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্মীয় প্রেক্ষাপট থেকে আসার কারণে, শুরুতে গৌরীর পরিবারের তরফ থেকে তীব্র আপত্তির মুখে পড়তে হয়েছিল এই যুগলকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, হবু শ্বশুরবাড়ির মন জয় করতে এবং বিয়ের সবুজ সংকেত পেতে নিজের নাম পর্যন্ত বদলে ফেলেছিলেন কিং খান!
মুশতাক শেখের লেখা ‘শাহরুখ ক্যান’ (Shah Rukh Can) বইটিতে উল্লেখ রয়েছে, প্রেমিকা গৌরীর পরিবারকে রাজি করাতে শাহরুখ নিজের নাম বদলে রেখেছিলেন ‘জিতেন্দ্র কুমার তুল্লি’। সেই সময়ের দুই দিকপাল অভিনেতা জিতেন্দ্র এবং রাজেন্দ্র কুমারকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এই নাম বেছে নিয়েছিলেন তিনি (উল্লেখ্য, রাজেন্দ্র কুমারের আসল নাম ছিল রাজেন্দ্র কুমার তুল্লি)।
এখানেই শেষ নয়, নিজেদের বিয়েতেও দুই ধর্মের রীতিনীতিকে সমানভাবে সম্মান জানিয়েছিলেন এই তারকা দম্পতি। তাঁরা একই সঙ্গে হিন্দু ও মুসলিম— উভয় মতেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। বইটিতে খোদ শাহরুখ জানিয়েছেন, আইনি ও সামাজিক বিয়ের সময় তিনি একটি হিন্দু নাম গ্রহণ করেছিলেন, অন্যদিকে মুসলিম মতে নিকাহ্ হওয়ার সময় গৌরী নিজের নাম পরিবর্তন করে রেখেছিলেন ‘আয়েশা’। শাহরুখের কথায়, “আমরা এই সিক্রেটটা খুব বেশি মানুষকে কোনওদিন জানাইনি।”
বিয়ের সময় গৌরীর বয়স ছিল মাত্র ২১ এবং শাহরুখের ২৬ বছর। একদিকে ভিন্ন ধর্ম, তার ওপর শাহরুখ তখন সবেমাত্র চলচ্চিত্র জগতে পা রাখছেন— স্বাভাবিকভাবেই গৌরীর বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তার অন্ত ছিল না। তাঁদের আশ্বস্ত করতে এবং শাহরুখ যে একজন হিন্দু ঘরের ছেলে তা বিশ্বাস করাতে অভিনেতার নাম বদলে রাখা হয়েছিল ‘অভিনব’।
বহু বছর পর, ফ্যাশন ডিজাইনার আবু জানি এবং সন্দীপ খোসলার ‘ফার্স্ট লেডিস’ টক শো-তে এসে সেই দিনগুলির স্মৃতিচারণা করে গৌরী একে “বোকা এবং অত্যন্ত ছেলেমানুষি সিদ্ধান্ত” বলে আখ্যা দেন। গৌরী বলেন, “আমরা তখন ভীষণ ছোট ছিলাম। তার ওপর এমন একজনকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলাম যে ফিল্মে যোগ দিতে চলেছে, আর সে ছিল অন্য ধর্মের। ওঁর পরিবার যাতে ভাবেন ও একটি হিন্দু ছেলে, তাই আমরা শাহরুখের নাম বদলে অভিনব রেখেছিলাম। কিন্তু সত্যি বলতে, ওটা ছিল ভীষণ বোকোমি আর স্রেফ ছেলেমানুষি।”
পরিবারের প্রাথমিক সমস্ত বাধা-বিপত্তি ও প্রতিরোধ জয় করে ১৯৯১ সালের ২৫শে অক্টোবর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন শাহরুখ ও গৌরী। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে একে অপরের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে সংসার করছেন তাঁরা। আরিয়ান, সুহানা এবং আব্রাম— এই তিন সন্তানকে নিয়ে তাঁদের ভরা সংসার।
এই সাক্ষাৎকারে গৌরী খোলামেলাভাবে জানান, কীভাবে তাঁদের সন্তানেরা দুই ধর্মের উৎসবকেই সমান আনন্দে আপন করে নিয়েছে। গৌরীর কথায়, “যখন দিওয়ালি আসে, তখন আমি পুজোর নেতৃত্ব দিই এবং পরিবারের বাকিরা আমাকে অনুসরণ করে। আবার ইদের সময় শাহরুখ সবকিছুর দায়িত্ব নেয় এবং আমরা ওকে অনুসরণ করি। আমার মনে হয় এই মেলবন্ধনটা ভীষণ সুন্দর এবং বাচ্চারাও এটা খুব সহজভাবে গ্রহণ করেছে। সত্যি বলতে, আমার সন্তানেরা শাহরুখের কথার প্রতি একটু বেশিই ঝুঁকে থাকে। ওদের কাছে দিওয়ালি হোক বা ইদ— সব উৎসবই দুর্দান্ত আনন্দের।”
