Protima Bedi: নগ্ন হয়ে জুহু বিচে দৌড়নো থেকে শুরু করে ধসে মৃত্যু! এই অভিনেত্রীর জীবনের গল্প শুনলে গায়ে কাঁটা দেবে
Life of Protima Bedi: সত্তর দশকের সবচেয়ে সাহসী এই মডেল গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে ওড়িশি নৃত্যের সাধিকা হয়ে ওঠেন, সমাজকে চমকে দিয়ে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে মুম্বইয়ের জুহু বিচে দৌড়াতে দেখা যায় তাঁকে। তাঁর জীবনের গল্প জানলে চোখে জল আসবে।

প্রতিমা বেদী (Protima Bedi) নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সত্তর দশকের এক বাঁধনহারা, ডানপিটে নারীর অবয়ব। সমাজ কী বলবে, লোকলজ্জার কী হবে, এসবের তোয়াক্কা তিনি কোনওদিনই করেননি। নিজের শর্তে বাঁচা কাকে বলে, তা প্রতি পদে দেখিয়ে গিয়েছেন এই মোহময়ী তারকা। কিন্তু তাঁর এই বর্ণময় জীবনের ক্যানভাসে যেমন ছিল গ্ল্যামারের তীব্র আলো, তেমনই লুকিয়ে ছিল এক গভীর ট্র্যাজেডিও। তাঁর গোটা জীবনটাই যেন একটা টানটান চিত্রনাট্য, যা পড়তে বসলে আজও গায়ের লোম খাড়া হয়ে যায়।
গল্পের শুরুটা ১৯৭৪ সালের এক রোদঝলমলে দিনে। সমাজকে চমকে দিয়ে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে মুম্বইয়ের জুহু বিচে দৌড়াতে দেখা যায় তাঁকে। একটি নামী ম্যাগাজিনের প্রচারের জন্য করা প্রতিমার সেই একটা পদক্ষেপ রাতারাতি ঝড় তুলেছিল তৎকালীন রক্ষণশীল ভারতে। চারদিকে ছিঃ ছিঃ রব, খবরের কাগজের প্রথম পাতায় শুধুই তাঁর নাম। অভিনেতা কবীর বেদীর সঙ্গে তাঁর প্রেম আর রূপকথার মতো বিয়ে নিয়েও সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ ছিল না। তাঁদের দুই সন্তান, পূজা আর সিদ্ধার্থ। কিন্তু নিয়তির চাকা ঘোরে অন্য নিয়মে। ভেঙে যায় সাধের সংসার। তবে সবচেয়ে বড় আঘাতটা আসে তখন, যখন তাঁর চোখের মণি, ছেলে সিদ্ধার্থ হঠাতই নিজের জীবন কেড়ে নেয়। ছেলের এই অকাল মৃত্যু প্রতিমার চেনা জগৎটাকে এক নিমেষে তছনছ করে দেয়।
- প্রতিমা বেদী
এই মানসিক বিপর্যয় থেকে মুক্তি পেতে একদিন তিনি এক অচেনা পথের যাত্রী হন। সম্পূর্ণ অন্য এক রূপে দেখা যায় প্রতিমাকে। কিংবদন্তি গুরু কেলুচরণ মহাপাত্রের কাছে নিজেকে সঁপে দিয়ে শুরু করলেন ওড়িশি নৃত্যের কঠোর সাধনা। গ্ল্যামার জগতের মোহময়ী আলো ছেড়ে ধ্রুপদী নৃত্যের জগতে এই রূপান্তর সহজ ছিল না। প্রতিমা নিজেই বলতেন, নাচই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। নিজের সর্বস্ব দিয়ে বেঙ্গালুরুর কাছে তিনি গড়ে তুললেন ‘নৃত্যগ্রাম’ নামের এক জাদুকরি নাচের গ্রাম, যা আজও নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের তৈরি করে চলেছে।
কিন্তু এই বর্ণময় জীবনের শেষ অধ্যায়ের গল্প শুনলে আজও গায়ে কাঁটা দেবে। ১৯৯৮ সালের অগস্ট মাস। সমস্ত কোলাহল থেকে দূরে, এক আধ্যাত্মিক টানে কৈলাশ মানসসরোবর যাত্রায় রওনা হয়েছিলেন ৪৯ বছরের প্রতিমা। কিন্তু উত্তরাখণ্ডের মালপায় আচমকাই নেমে আসে ভয়ঙ্কর ধস। আর সেই ধসের অন্ধকারেই চিরতরে হারিয়ে গেলেন ওড়িশি নৃত্যের এই সাধিকা। দুর্গম হিমালয়ের বুক থেকে তাঁর দেহ আর কোনওদিনও উদ্ধার করা যায়নি। জুহু বিচে ঝড় তোলা সেই বিতর্কিত মডেল কীভাবে হিমালয়ের কোলে চিরতরে বিলীন হয়ে গেলেন, সেই রহস্যের উত্তর আজও অধরাই রয়ে গিয়েছে।

