
উদয়পুরের রাজকীয় বিয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই মানবিক রূপে ধরা দিলেন দক্ষিণী সুপারস্টার বিজয় দেবেরকোন্ডা ও রশ্মিকা মন্দানা। প্রীতিভোজের প্রস্তুতির মাঝেই সোমবার এক অভাবনীয় ঘোষণা করলেন নবদম্পতি। কোনও বিলাসবহুল উপহার নয়, বরং তেলেঙ্গানার কয়েক হাজার স্কুলপড়ুয়ার ভবিষ্যতের দায়িত্ব নিলেন তাঁরা।
সোমবার হায়দরাবাদে নিজেদের নতুন বাসভবনে গৃহপ্রবেশের পুজোর পাশাপাশি বিজয়ের গ্রামের বাড়িতেও গিয়েছিলেন এই তারকাদম্পতি। সেখানে সাবেকি প্রথায় সত্যনারায়ণ পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। বিজয়ের মা ও ভাই আনন্দ বর্ধন দেবেরকোন্ডাও এই আনন্দ অনুষ্ঠানে শামিল হন। পুজোর শেষে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বিজয় এক বিশেষ ঘোষণা করেন।
বিজয়ের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘দেবেরকোন্ডা চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’-এর পক্ষ থেকে তেলেঙ্গানার নাগরকুরনুল জেলার ৪৪টি সরকারি স্কুলের নবম ও দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ স্কলারশিপ বা বৃত্তির কথা জানানো হয়। এই উদ্যোগের কথা শুনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন রশ্মিকা এবং করতালিতে ভরিয়ে দেন তিনি। গ্রামে ফিরে আপ্লুত বিজয় জানান, “এখানে আমার পৈতৃক ভিটে ও বেশ কিছুটা জমি রয়েছে। এখন থেকে মাঝেমধ্যেই আমি আর রশ্মিকা এখানে সময় কাটাতে আসব।” অভিনেতার এই মন্তব্যে অনুরাগীদের ধারণা, গ্রামীণ শিক্ষার প্রসারে বিজয় হয়তো আগামীতে আরও বড় কোনো পদক্ষেপ নিতে চলেছেন। ইতিপূর্বেই দেশের বিভিন্ন মন্দিরে গিয়ে মিষ্টি বিতরণ করে সাধারণ মানুষের আশীর্বাদ নিয়েছেন এই দম্পতি।
আগামী ৪ মার্চ হায়দরাবাদে বসতে চলেছে বিজয় ও রশ্মিকার রাজকীয় প্রীতিভোজের আসর। উদয়পুরের বিয়ের ছবি যেমন নেটদুনিয়ায় ঝোড়ো গতিতে ভাইরাল হয়েছে, তেমনই রিসেপশন নিয়েও কৌতূহলের অন্ত নেই। বলিউড থেকে শুরু করে দক্ষিণী পাঁচ ইন্ডাস্ট্রির মহাতারকাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও এই তালিকায় রয়েছেন। ৪ তারিখ হায়দরাবাদের রাস্তায় যানজট সামলাতে এবং তারকাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর প্রশাসন। ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিনোদন জগতের জৌলুস ছাপিয়ে বিজয় ও রশ্মিকার এই জনহিতকর কাজ প্রমাণ করে দিল যে, তাঁরা কেবল পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও সত্যিকারের আদর্শ দম্পতি।