Akshay Kumar: নিজের ওপর চরম ক্ষোভ, নিজের গালে নিজেই চড় মারতে চান! মানসিক অবসাদে ভোগেন অক্ষয়?
Akshay Kumar on His Action Movie Image: অক্ষয় কুমার (Akshay Kumar) বলিউডে ৩৫ বছর পার করলেও নিজের কেরিয়ারের প্রথম দশকের অভিনয় দেখে নিজেই নিজেকে চড় মারতে চেয়েছিলেন। কেন অ্যাকশন হিরোর ইমেজ ভেঙে কমেডিতে আসতে বাধ্য হলেন খিলাড়ি কুমার, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানালেন সেই অজানা গল্প।

অক্ষয় কুমার (Akshay Kumar) মানেই পর্দায় মারকাটারি অ্যাকশন আর বক্স অফিসে কোটি কোটি টাকার খেলা। কিন্তু দীর্ঘ ৩৫ বছরের অভিনয় জীবনে সাফল্যের শিখরে থাকা এই খিলাড়ি কুমারই নাকি নিজের পুরনো ছবি দেখে নিজেই নিজেকে সজোরে চড় মারতে চেয়েছিলেন! শুনতে অবাক লাগলেও, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অতীত নিয়ে এমনই এক বিস্ফোরক ও আবেগঘন সত্যি প্রকাশ করেছেন বলিউড সুপারস্টার। শুরুর দিকে কেবলই ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখলেও, একটা সময় পর সেই মারদাঙ্গা ইমেজের খাঁচায় দমবন্ধ হয়ে আসছিল তাঁর। ঠিক কী কারণে নিজের উপর এমন চরম ক্ষোভ জন্মেছিল অভিনেতার?
বলিউডে নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ‘সৌগন্ধ’ ছবির হাত ধরে ডেবিউ করেছিলেন অক্ষয়। প্রথম ১০ বছর একের পর এক অ্যাকশন ছবি করে দর্শককে মাতালেও, ভেতরে ভেতরে এক চরম একঘেয়েমি গ্রাস করেছিল তাঁকে। অভিনেতা অকপটে স্বীকার করেছেন, “কেরিয়ারের প্রথম দশকের কাজগুলো যখন পরে ফিরে দেখতাম, তখন নিজের গালে নিজেই একটা চড় মারতে ইচ্ছে করত। আমি শুধু অ্যাকশন চরিত্রেই অভিনয় করে গিয়েছিলাম। তখন ইন্ডাস্ট্রির কেউ ভাবতেই পারত না যে, অ্যাকশন ছাড়া অন্য কোনও চরিত্র করার ক্ষমতা আমার আছে।” এই চেনা ছক আর ‘অ্যাকশন হিরো’ তকমা ভেঙে বেরোনোর জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
তার পরেই শুরু হয় নিজেকে পুরোপুরি বদলে ফেলার লড়াই। নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়ার এই জেদ থেকেই বলিউড পায় ‘হেরাফেরি’, ‘ধড়কন’, ‘মুঝসে শাদি করোগি’, ‘টয়লেট… এক প্রেম কথা’ কিংবা ‘প্যাডম্যান’-এর মতো একের পর এক সুপারহিট সিনেমা। কমেডি থেকে শুরু করে সামাজিক বার্তালাপ, সব ধরনের চরিত্রেই নিজের জাত চেনান খিলাড়ি কুমার। অভিনেতার মতে, তাঁর জীবনটা একটা বহুতল বাড়ির মতো, যা তিনি বারবার ভাঙেন এবং নতুন করে গড়ে তোলেন।
বছরে কেন চার-চারটে ছবি করেন, এই নিয়ে প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। সেই প্রসঙ্গে স্পষ্ট জবাব দিয়ে তিনি জানান, ইন্ডাস্ট্রির ব্যবসা সচল রাখা এবং বহু মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি করা অভিনেতা হিসেবে তাঁর কর্তব্য। তবে এত গ্ল্যামারের মাঝেও অক্ষয়ের কাছে স্টারডমের সংজ্ঞাটা একেবারেই আলাদা। তিনি জানান, প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে তাঁর বাবা যখন নিজের অফিসের ড্রাইভার বা পরিচিতদের নিয়ে ১২-১৪ বার ছেলের ছবি দেখতেন এবং গর্ব করে বলতেন, ‘আমার ছেলে অক্ষয় কুমার’, সেটাই ছিল তাঁর জীবনের আসল স্টারডম। আগামী ২৬ জুন মুক্তি পেতে চলেছে তাঁর নতুন ছবি ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’। বক্স অফিসের হার-জিত যাই হোক না কেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কাজ করে যেতে চান বলিউডের এই চিরসবুজ তারকা।
