রুপোলি পর্দা ছেড়ে কেন ইউটিউবের দিকে ঝুঁকছেন তারকারা?
পর্দার আড়ালে থাকা তারকাদের বাস্তব জীবন দেখার জন্য সাধারণ মানুষের কৌতুহল সবসময়ই বেশি। ভ্লগের মাধ্যমে নিজেদের রান্নাঘর থেকে শুরু করে অন্দরমহলের গল্প তুলে ধরে ভক্তদের সঙ্গে এক গভীর আত্মিক যোগসূত্র তৈরি করছেন তারকারা। টেলিভিশন বা সিনেমা একসময় শেষ হয়ে গেলেও ইউটিউবের ভিডিয়ো থেকে যায় আজীবন। একবার আপলোড করা বিষয়বস্তু থেকে আজীবন উপার্জনের সুযোগ থাকে, যা রূপোলি পর্দায় সবসময় সম্ভব নয়।

গ্ল্যামার জগতের শিল্পীদের কাছে কী এখন বড় পর্দা, বা টেলিভিশনে কাজ করাই যথেষ্ট নয়? বর্তমান সময় ফারা খান থেকে শুরু করে ভারতী সিং, দীপিকা কক্কর, রাজপাল যাদব থেকে শুরু করে বলিউডের বহু প্রথম সারির তারকারা বেছে নিচ্ছেন ইউটিউবকে। অনেকেই এখন পুরোদস্তুর ইউটিউবার। কিন্তু কেন হঠাৎ ইউটিউবকে পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন তারকারা? কেনই বা রূপোলি পর্দার বদলে নিজেদের চ্যানেলের পেছনে এত সময় দিচ্ছেন তারকারা? এর নেপথ্যে রয়েছে সৃজনশীল স্বাধীনতা এবং অবশ্যই অবিশ্বাস্য আয়ের হাতছানির গল্প।
কেন এই ইউটিউব-প্রীতি?
বিনোদন জগতের তারকাদের কাছে ইউটিউব এখন কেবল শখের জায়গা নয়, বরং নিজস্ব একটি ডিজিটাল সাম্রাজ্য। এর কারণগুলো বেশ স্পষ্ট:
ইউটিউবে কোনও প্রযোজক, পরিচালক বা সেন্সরের কাঁচি চালানোর ভয় নেই। শিল্পীরা নিজের ইচ্ছেমতো যা খুশি দর্শকদের দেখাতে পারেন। এখানে তাঁরাই নিজেদের সম্পাদক এবং পরিচালক।
পর্দার আড়ালে থাকা তারকাদের বাস্তব জীবন দেখার জন্য সাধারণ মানুষের কৌতুহল সবসময়ই বেশি। ভ্লগের মাধ্যমে নিজেদের রান্নাঘর থেকে শুরু করে অন্দরমহলের গল্প তুলে ধরে ভক্তদের সঙ্গে এক গভীর আত্মিক যোগসূত্র তৈরি করছেন তারকারা।
টেলিভিশন বা সিনেমা একসময় শেষ হয়ে গেলেও ইউটিউবের ভিডিয়ো থেকে যায় আজীবন। একবার আপলোড করা বিষয়বস্তু থেকে আজীবন উপার্জনের সুযোগ থাকে, যা রূপোলি পর্দায় সবসময় সম্ভব নয়।
ইউটিউব এখন তারকাদের উপার্জনের অন্যতম প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে ফারহা খান জানিয়েছেন, তাঁর ইউটিউব চ্যানেলের আয় এতটাই বেশি যে, তাঁর কেরিয়ারের অনেক সফল সিনেমার আয়কেও তা ছাপিয়ে গিয়েছে। এমনকি শোনা গিয়েছে, তাঁর ডিজিটাল আয় তাঁর ব্লকবাস্টার ছবি ‘ওম শান্তি ওম’-এর ৩০০ কোটি টাকার মাইলফলককেও টক্কর দিচ্ছে।
অন্যদিকে, অর্চনা পূরণ সিংয়ের স্বামী পরমিত শেঠি সাফ জানিয়েছেন, ইউটিউব কনটেন্ট সারা জীবন ধরে ‘প্রিমিয়াম’ আয় দেয়। তিনি দাবি করেছেন, এটিকে পূর্ণসময়ের পেশা হিসেবে নিলে সিনেমা বা টিভির চেয়ে তিন গুণ বেশি টাকা পাওয়া সম্ভব। অর্চনা নিজে ইউটিউব থেকে বছরে অন্তত ৫০ লক্ষ টাকা আয় করেন। কৌতুক শিল্পী ভারতী সিংয়ের আয়ের ৪০ শতাংশই আসে তাঁর ইউটিউব চ্যানেল থেকে।
কোন তারকার কত ফলোয়ার?
ফারহা খান: ২.৭ মিলিয়নের বেশি সাবস্ক্রাইবার। তাঁর রান্নার শো এবং তারকাদের আড্ডা এখন ভীষণ জনপ্রিয়।
ভারতী সিং ও হর্ষ লিম্বাচিয়া: ‘লাইফ অফ লিম্বাচিয়া’স’ চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা প্রায় ৯ মিলিয়নের কাছাকাছি।
দীপিকা কক্কর: অভিনয় থেকে সাময়িক বিরতি নিলেও ‘দীপিকা কি দুনিয়া’ ভ্লগের মাধ্যমে ৪ মিলিয়ন মানুষের কাছে পৌঁছান তিনি।
অর্চনা পূরণ সিং: ‘আপ কা পরিবার’ চ্যানেলের মাধ্যমে তিনি নিয়মিত নিজের যাপনের টুকরো ছবি ভাগ করে নেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ইউটিউব এখন তারকাদের কাছে কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং একটি লাভজনক বিকল্প কেরিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
